বদলগাছীতে হাট উন্নয়নের ৬ লাখ ২৩ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ
দুটি গাছের গোড়া বাঁধাই ও ক্লাবের টয়লেট মেরামতেই ব্যয়ের দাবি, তদন্তের দাবি স্থানীয়দের নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার আধাইপুর ইউনিয়নের কান্তিকাহার হাটের উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ করা প্রায় ৬ লাখ ২৩ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসরাত জাহান সনি ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ কে এম রেজাউল করিম পল্টনের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দুই অর্থবছরে বরাদ্দ দেওয়া ওই অর্থের বিপরীতে নামমাত্র কয়েকটি কাজ করা হয়েছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইউপি চেয়ারম্যান। ইউএনও এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কান্তিকাহার হাটটি সরকারি তালিকাভুক্ত না হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত। তবে উপজেলা প্রশাসনের অর্থায়নে হাটটির উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়। আধাইপুর ইউনিয়ন পরিষদের উন্নয়নসংক্রান্ত নথি অনুযায়ী, ১৪৩১ বঙ্গাব্দে ৩ লাখ ৩ হাজার ৩৬৮ টাকা এবং ১৪৩২ বঙ্গাব্দ অর্থবছরে ৩ লাখ ২০ হাজার ৬২৫ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। দুই অর্থবছরে মোট বরাদ্দের পরিমাণ ৬ লাখ ২৩ হাজার ৯৯৩ টাকা।অভিযোগকারীদের দাবি, প্রথম অর্থবছরে কী কী কাজ করা হয়েছে, সে বিষয়ে নথিতে সুনির্দিষ্ট বিবরণ নেই। দ্বিতীয় অর্থবছরের কাজের বিবরণে শুধু গাছের গোড়া টাইলস দিয়ে বাঁধাই করার কথা উল্লেখ রয়েছে। অথচ দুই অর্থবছরের বরাদ্দের বিপরীতে মাত্র কয়েকটি গাছের গোড়া টাইলস দিয়ে বাঁধাই এবং স্থানীয় একটি ক্লাবের পুরোনো টয়লেট মেরামতের কাজ করা হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁদের।
কান্তিকাহার প্রগতি সংঘের সভাপতি বেলাল হোসেনসহ স্থানীয়দের দাবি, হাটের উন্নয়নের বরাদ্দের অর্থ দিয়ে নামমাত্র দুটি গাছের গোড়া নতুন করে বাঁধাই করা হয়েছে। এ ছাড়া আগে থেকেই ইট দিয়ে বাঁধানো আরও চারটি গাছের গোড়ায় শুধু টাইলস বসানো হয়েছে। সব মিলিয়ে ছয়টি গাছের গোড়ায় টাইলস লাগানো এবং ক্লাবের পুরোনো টয়লেট মেরামত করা হয়েছে। তাঁদের হিসাবে, এসব কাজে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা ব্যয় হতে পারে। বাকি অর্থ কোথায় ব্যয় করা হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।স্থানীয়রা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে বরাদ্দের অর্থের প্রকৃত ব্যয় নির্ধারণ এবং অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে আধাইপুর ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্য বিপ্লব হোসেন কাজের বিবরণ দিয়ে বলেন, কান্তিকাহার স্কুলের ছয়টি গাছের গোড়ায় টাইলস বসানো হয়েছে। এর মধ্যে চারটি গাছের গোড়া আগে থেকেই ইট দিয়ে বাঁধানো ছিল, সেখানে নতুন করে শুধু টাইলস লাগানো হয়েছে। অন্য দুটি গাছের গোড়া ইট দিয়ে বাঁধাই করে টাইলস বসানো হয়েছে। পাশাপাশি ক্লাবের পুরোনো একটি টয়লেটের কাজ করা হয়েছে।তিনি বলেন, তাঁকে যেভাবে কাজ করতে বলা হয়েছে, তিনি সেভাবেই কাজ করেছেন।
অর্থ আত্মসাতের বিষয়ে তিনি সরাসরি কোনো বক্তব্য না দিয়ে চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।অন্যদিকে, আধাইপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ কে এম রেজাউল করিম পল্টন বলেন, হাটের উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ করা অর্থের কাজ চলমান রয়েছে। কাজের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ইউপি সদস্য বিপ্লব হোসেন কাজ করছেন। কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে বা অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় তিনি জড়িত নন বলেও দাবি করেন চেয়ারম্যান।অভিযোগের বিষয়ে বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহান সনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
