Joy Jugantor | online newspaper

পলাশবাড়ীতে জমি না দিয়েই

অধিগ্রহণের সাড়ে ৫ কোটি টাকা উত্তোলনের অভিযোগ

গাইবান্ধা (পলাশবাড়ী) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২০:১৮, ১০ অক্টোবর ২০২৬

অধিগ্রহণের সাড়ে ৫ কোটি টাকা উত্তোলনের অভিযোগ

পলাশবাড়ীতে জমি না দিয়েই অধিগ্রহণের সাড়ে ৫ কোটি টাকা উত্তোলনের অভিযোগ

গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক সম্প্রসারণ প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণের বিপরীতে জমি না দিয়েই প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে মুনসুর আলীর বিরুদ্ধে। পৌর শহরের নুনিয়াগাড়ী মৌজার একটি দাগে অধিগ্রহণ করা ০.০৯৪৮ একর জমির বিপরীতে ৫ কোটি ৫৬ লাখ ৪৩২ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত জমির অংশীদার রেখা বেগমসহ অন্যরা।

অভিযোগকারীদের দাবি, সাসেক প্রকল্প-২ সংশ্লিষ্টদের আপত্তি, অন্যান্য অংশীদারের আপত্তি এবং অধিগ্রহণসংক্রান্ত মামলার নথি ও আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ শাখার সংশ্লিষ্টদের যোগসাজশে ওই টাকা ছাড় করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।অভিযোগকারীদের দেওয়া তথ্য ও জমিসংক্রান্ত কাগজপত্রের বিবরণ অনুযায়ী, পলাশবাড়ী পৌর শহরের নুনিয়াগাড়ী মৌজার এসএ খতিয়ান নম্বর ১৬, আরএস খতিয়ান নম্বর ২৫, জেএল নম্বর ৬৯ এবং সাবেক ৭৯/৮০ নম্বর দাগের জমি নিয়ে এ বিরোধের সূত্রপাত।নথি অনুযায়ী, ১৯৫৩ সালের ২১ জানুয়ারি ৪২৫ নম্বর দলিলের মাধ্যমে মোফাজ্জল হোসেন মোট ১২৭ শতাংশ জমির মালিকানা লাভ করেন। পরবর্তী সময়ে ১৯৬৯ সালের ১৯ নভেম্বর ০১/৬৯ নম্বর মামলার মাধ্যমে সড়ক বিভাগের জন্য ৩২ শতাংশ জমি অধিগ্রহণ করা হয়। এতে অবশিষ্ট থাকে ৯৫ শতাংশ জমি।

অভিযোগে বলা হয়, ২০০২ সালের মার্চ মাসে বিভিন্ন দলিলের মাধ্যমে মোফাজ্জল হোসেন তাঁর ছোট ছেলে আল মামুনকে ৩৯ শতাংশ, স্ত্রী হালিমা বেগমকে ৩ শতাংশ এবং দুই মেয়ে রোকেয়া বেগম ও শাহিনা পারভীনকে ৫ শতাংশ করে মোট ১০ শতাংশ জমি দেন। এভাবে মোট ৫২ শতাংশ জমি হস্তান্তরের পর তাঁর নামে অবশিষ্ট থাকার কথা ৪৩ শতাংশ।অভিযোগকারীদের দাবি, অবশিষ্ট ৪৩ শতাংশ জমির পরিবর্তে ২০০২ সালের ২৪ মার্চ ২১৯৮ নম্বর দলিলের মাধ্যমে দুই ছেলে মোকসেদ আলী ও মুনসুর আলী ৭০ শতাংশ জমি দলিল করে নেন। তাঁদের হিসাব অনুযায়ী, প্রকৃত জমির পরিমাণ বিবেচনায় মুনসুর আলীর প্রাপ্য অংশ ২১ দশমিক ৫ শতাংশ।

পরবর্তী সময়ে মুনসুর আলী ২০১২ সালের ২০ মার্চ ১৬১৯ নম্বর দলিলে ৪ শতাংশ, ২০১৫ সালের ২৯ জানুয়ারি ৬৮১ নম্বর দলিলে ৪ শতাংশ এবং একই বছরের ১৬ এপ্রিল ২৪৫৩ নম্বর দলিলে আরও ৮ শতাংশ জমি বিক্রি করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে তাঁর অবশিষ্ট জমির পরিমাণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অন্য অংশীদাররা।তাঁদের অভিযোগ, জমির হিসাব অনুযায়ী অবশিষ্ট অংশের চেয়ে বেশি জমিতে বসতবাড়ি নির্মাণের পাশাপাশি ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের অধিগ্রহণের বিপরীতে প্রায় ৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ জমির ক্ষতিপূরণ উত্তোলন করা হয়েছে। অথচ ওই জমির প্রকৃত মালিকানা, দখল ও অধিগ্রহণের হিসাব সরেজমিনে যাচাই করা হয়নি বলে দাবি তাঁদের।

এ ছাড়া এলএমসি মামলা নম্বর ২৭০/২০২৩-২০২৪ এবং এলএ মামলা নম্বর ১১/২০১৯-২০২০-এর নথি ও আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা করে ক্ষতিপূরণের টাকা ছাড় করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত অংশীদারদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।ভুক্তভোগী পরিবারটির দাবি, ভূমি অধিগ্রহণ শাখার সংশ্লিষ্টদের যোগসাজশে সরেজমিনে জমির অবস্থান, প্রকৃত মালিকানা ও দখল যাচাই না করেই কাগজপত্রের ভিত্তিতে ক্ষতিপূরণের অর্থ ছাড় করা হয়েছে। তাঁরা এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, অর্থ উত্তোলনের প্রক্রিয়া যাচাই এবং অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক ড. মনিরুজ্জামান বলেন, “বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জালিয়াতির মাধ্যমে জমি অধিগ্রহণের টাকা উত্তোলন করা হয়ে থাকলে জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরসহ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”তবে অভিযোগের বিষয়ে মুনসুর আলী ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ শাখার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।