বগুড়ায় বোরে ধানের সোনালী শীষে হাসছে কৃষক
বৈশাখী খরতাপে সোনালী ধানের শীষে বগুড়ার মাঠে মাঠে দোল খাচ্ছে কৃষকের সোনালী স্বপ্ন। বুক ভরা আশা আর ঘাম ঝরানো শ্রমের বিনিময়ে উৎপাদিত ধান ঘরে তুলবে, ন্যায্যমূল্য পেয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে সুখ ও স্বাচ্ছন্দ্যে কাটবে আগামী দিনগুলো এমনটাই আশা স্থানীয় কৃষকদের। বগুড়ার বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন শুধু সোনালী প্রান্তরের মায়াবী হাতছানি। উৎসব আর আনন্দের মধ্য দিয়ে চলছে ধান কেটে ঘরে তোলার ধুম। বোরো ধানের মৌ মৌ গন্ধে কৃষকদের আঙ্গিনায় এখন সোনালী ঝিলিক।কৃষি বিভাগ বলছে, অনুকূল আবহাওয়া, উন্নত বীজ এবং কৃষি প্রণোদনার ফলে জেলায় বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। যে কারণে খুশি এ অঞ্চলের কৃষকরা।বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বগুড়ার ১২টি উপজেলায় বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। যা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার আশা জাগাচ্ছে। জেলায় এ বছর বোরো মৌসুমে ১ লাখ ৮৫ হাজার ৬১০ হেক্টর জমিতে চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ মৌসুমে ৭ লাখ ৭৭ হাজার ৯২৫ মেট্রিক টন বোরো ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।
এ পর্যন্ত ২৪ হাজার ৬০ হেক্টর জমির ধান কর্তন হয়েছে। কৃষকরা উফশী, হাইব্রিড ও স্থানীয় জাতের ধান চাষ করেছেন। তবে সেচ ও সারের মূল্যবৃদ্ধিতে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। এছাড়া জেলায় এবার ১৭ হাজার ৭৮১ মেট্রিক টন ধান, ৭২ হাজার ৬০২ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল এবং ৩ হাজার ৮১১ মেট্রিক টন আতপ চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত হয়েছে।জানা যায়, বগুড়ার ১২টি উপজেলার মাঠগুলো এখন সোনালী রঙে অপরূপ শোভা ছড়াচ্ছে। সোনালি ধানে দুলছে ফসলের মাঠ। কৃষকরা ইতোমধ্যে ধান কাটা শুরু করেছেন এবং নতুন ধান বাজারে বিক্রিও করছেন। মাঠজুড়ে কৃষক-শ্রমিকদের ব্যস্ততার শেষ নেই। আশানুরূপ ফলন পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন তারা। বোরো ধানের বাম্পার ফলন হওয়ায় খুশি তারা। তবে টানা কয়েক দিনের বৃষ্টির কারণে কিছু কিছু এলাকায় বোরো ধানের ক্ষতি হয়েছে।
কৃষকরা যদি ধানের ন্যায্য মূল্য পান তাহলে এই ক্ষতি পুষিয়ে লাভের মুখ দেখবেন। জেলায় প্রতিটি উপজেলায় কৃষকরা ধান কাটা, মাড়াই ও শুকানোর কাজে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। নতুন ধানের মৌ মৌ গন্ধে কৃষকের আঙিনা ভরে উঠেছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ফলন ভালো হওয়ায় বেশ খুশি এ অঞ্চলের কৃষকরা। সময়মতো চারা রোপণ এবং দুর্যোগের আগে ধান কাটতে পারায় কৃষকরা এবার কাঙ্খিত ফলন পেয়েছেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ এবং আধুনিক চাষাবাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। যা উৎপাদনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। তবে কৃষকরা বলছেন, অনেকের কাছ থেকে ধারদেনা করে বোরা ধান চাষ করা হয়েছে। এ বছর বেশি দামে সার-ডিজেল কেনা ও সেচসহ ধান চাষে অতিরিক্ত টাকা খরচ হয়েছে।
তারপরেও লাভবান হবেন চাষিরা এমনই প্রত্যাশা তাদের।বগুড়া সদর উপজেলার শেখেরকোলা এলাকার কৃষক আমজাদ হোসেন জানান, তিনি ৯ বিঘা জমিতে বোরোর আবাদ করেছেন। এবার বোরোর বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে সারের দাম বেশি ছিল। সেই সঙ্গে জমিতে সেচ দেওয়ার জন্য ডিজেলসহ অন্য সামগ্রীর দাম বেশি। এমনকি ধান রোপণ থেকে কাটা পর্যন্ত শ্রমিকদের মজুরিও বেশি। তবে বাজারে ধানের ন্যায্য মূল্য পেলো সব ক্ষতি পুষিয়ে যাবে।বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোঃ শামসুদ্দীন ফিরোজ জানান, জেলায় এ বছর বোরো মৌসুমে ১ লাখ ৮৫ হাজার ৬১০ হেক্টর জমিতে চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ মৌসুমে ৭ লাখ ৭৭ হাজার ৯২৫ মেট্রিক টন বোরো ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। এ পর্যন্ত ২৪ হাজার ৬০ হেক্টর জমির ধান কর্তন হয়েছে। বোরা ধান চাষাবাদে কৃষি অফিসের পক্ষ হতে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অধিকাংশ কৃষকদের বিনামূল্যে বীজ ও সার দেওয়া হয়েছে। বাম্পার ফলনে কৃষক খুশি। আবহাওয়া ও বাজারদর অনুকূলে থাকলে কৃষকরা এবার লাভবান হবেন।এদিকে সোনালি ধান যখন মাঠে পাকে, তখন সেটি শুধু কৃষকের ঘরের ফসল নয়। বরং একটি জনপদের স্বপ্ন ও সম্ভাবনার প্রতীক হয়ে ওঠে। এই উৎসব কৃষকের ঘরে হাসি বয়ে আনবে এমনটাই প্রত্যাশা সবার।
