ইউটিউব দেখে সাঁতার শিখে নিজেই চ্যানেল জয়, ক্রীড়া কর্মকর্তার অনন্য সাফল্য
ইউটিউব দেখে শিশুদের সাঁতার শেখাতে গিয়ে নিজেই দক্ষ সাঁতারু হয়ে উঠেছেন ক্রীড়া কর্মকর্তা এস, আই, এম ফেরদৌস আলম। বর্তমানে তিনি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ক্রীড়া পরিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।১৯৮১ সালে বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। পড়াশোনা শেষ করে চাকরিজীবনে প্রবেশের পর থেকেই শিশুদের সাঁতার শেখানোর দায়িত্ব পালন করে আসছেন নিয়মিতভাবে।
শিক্ষাজীবন
নিজ উপজেলা শাজাহানপুরে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা শেষে বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজ থেকে রসায়নে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ছাত্রজীবনে তিনি ক্রীড়ায়ও ছিলেন সমান সক্রিয়। জেলা পর্যায়ে ক্রিকেটে অংশগ্রহণের পাশাপাশি ২০০৪ সালে জাতীয় অ্যাথলেটিকসে ১০০ ও ২০০ মিটার দৌড়ে অংশ নেন।খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ থেকেই ঢাকা সরকারি শারীরিক শিক্ষা কলেজ থেকে ২০০৬ সালে বিপিএড ডিগ্রি অর্জন করেন এবং এতে সর্বোচ্চ নম্বর লাভ করেন।
কর্মজীবন
২০১০ সালে পাবনায় জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরবর্তীতে নওগাঁ, রংপুর, রাঙামাটি ও ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি ক্রীড়া পরিদপ্তরের সহকারী পরিচালক হিসেবে কর্মরত।
যেভাবে চ্যানেল জয়ের সূচনা
কর্মজীবনে শিশুদের সাঁতার শেখানোর কার্যক্রম বাস্তবায়নের সময় ২০১৬ সালে রংপুরে থাকাকালে সহজ পদ্ধতি খুঁজতে গিয়ে ইউটিউবে ভিডিও দেখেন। সেখান থেকেই অনুপ্রাণিত হয়ে নিজেও নিয়মিত অনুশীলন শুরু করেন।২০১৮ সালে প্রথমবার ‘বাংলা চ্যানেল’ সাঁতার প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে তৃতীয় স্থান অর্জন করেন। এরপর ধারাবাহিকভাবে পাঁচবার এই চ্যানেল অতিক্রম করেন।
প্রথম অভিজ্ঞতা
প্রথমবার অংশগ্রহণের সময় কিছুটা ভয় কাজ করলেও পরবর্তীতে সেই ভয় কাটিয়ে ওঠেন। বিশাল সাগর, ঢেউ আর নীল পানির অভিজ্ঞতা তার জীবনে এক রোমাঞ্চকর অধ্যায় হয়ে আছে।
অর্জন ও সম্মাননা
কক্সবাজারের টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ থেকে সেন্ট মার্টিন পর্যন্ত বিস্তৃত ‘বাংলা চ্যানেল’ পাঁচবার সফলভাবে অতিক্রম করায় তাকে কৃতী সাঁতারু হিসেবে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।গত ৬ এপ্রিল বগুড়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্রীড়া দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান তার হাতে সম্মাননা তুলে দেন।নিজ জেলায় এমন সম্মাননা পেয়ে তিনি নিজেকে গর্বিত মনে করেন এবং এ অর্জনকে জীবনের স্মরণীয় অধ্যায় হিসেবে দেখছেন।
