শিক্ষিত বেকারদের মুখে হাসি ফোটাতে বগুড়া চাকরি ও ক্যারিয়ার মেলায় অংশ নিলো আকবরিয়া
শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত উন্মোচনের লক্ষ্যে বগুড়ায় অনুষ্ঠিত হলো দিনব্যাপী চাকরি ও ক্যারিয়ার মেলা। অনলাইন জব পোর্টাল বিডিজবস-এর আয়োজনে বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বগুড়ার করতোয়া কনভেনশন হলে এ মেলার আয়োজন করা হয়। এক হাজারেরও বেশি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করার লক্ষ্যে আয়োজিত এ মেলায় দেশের প্রায় ৮০টি স্বনামধন্য ও বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করে। মেলায় অংশগ্রহণকারী কোম্পানিগুলোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নিজ নিজ স্টলে উপস্থিত থেকে সরাসরি প্রার্থীদের প্রাথমিক সাক্ষাৎকার নেন। অনেক প্রতিষ্ঠান যোগ্য প্রার্থীদের শর্টলিস্ট করে পরবর্তী ধাপের জন্য আমন্ত্রণ জানান। এতে চাকরি প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও উৎসাহ লক্ষ্য করা যায়।
মেলায় অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল বগুড়ার স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান আকবরিয়া লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির মানবসম্পদ ও নিয়োগ বিভাগের কর্মকর্তারা বিভিন্ন পদে যোগ্য প্রার্থীদের যাচাই-বাছাই করেন এবং প্রার্থীদের প্রাথমিক সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেন।মেলায় অংশগ্রহণকারী কোম্পানিগুলোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নিজ নিজ স্টলে উপস্থিত থেকে সরাসরি প্রার্থীদের প্রাথমিক সাক্ষাৎকার নেন। অনেক প্রতিষ্ঠান যোগ্য প্রার্থীদের শর্টলিস্ট করে পরবর্তী ধাপের জন্য আমন্ত্রণ জানান। এতে চাকরি প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও উৎসাহ দেখা যায়।
চাকরি মেলায় অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে বগুড়ার স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান আকবরিয়া লিমিটেডের চেয়ারম্যান হাসান আলী আলাল বলেন, একটি দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ তার তরুণ প্রজন্ম। এই তরুণদের মেধা ও যোগ্যতাকে যদি সঠিকভাবে কাজে লাগানো যায়, তাহলে বেকারত্ব শুধু কমবেই না, বরং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের গতিও বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে। চাকরি মেলার মাধ্যমে আমরা যোগ্য, দক্ষ ও পরিশ্রমী তরুণদের খুঁজে বের করে তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিচ্ছি, যাতে তারা আত্মনির্ভরশীল হয়ে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে পারে। তিনি আরও বলেন, আমরা চাই বগুড়া ও দেশের প্রতিটি জেলা থেকেই দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি হোক। সেই লক্ষ্যেই আমরা নিয়মিতভাবে এ ধরনের কর্মসংস্থানমূলক উদ্যোগে অংশ নিচ্ছি এবং ভবিষ্যতেও আমাদের এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
একই প্রসঙ্গে আকবরিয়া লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হোসেন আলী দুলাল বলেন, আজকের তরুণ সমাজের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো চাকরি পাওয়া। এই বাস্তবতা উপলব্ধি করে আমরা সবসময় চেষ্টা করছি, যোগ্য প্রার্থীদের সঠিক জায়গায় পৌঁছে দিতে। চাকরি মেলা এমন একটি প্ল্যাটফর্ম, যেখানে একদিকে যেমন প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের প্রয়োজনীয় জনবল খুঁজে পায়, অন্যদিকে চাকরি প্রত্যাশীরাও নিজেদের যোগ্যতা প্রকাশের সুযোগ পায়। আমরা চাই, কোনো মেধাবী তরুণ যেন বেকারত্বের কারণে পিছিয়ে না থাকে। তাদের দক্ষতা অনুযায়ী সুযোগ তৈরি করাই আমাদের মূল দায়িত্ব ও অঙ্গীকার।
চাকরি মেলায় অংশ নেওয়া শত শত চাকরি প্রত্যাশী সকাল থেকেই করতোয়া কনভেনশন হলে ভিড় করেন। তারা বিভিন্ন স্টলে গিয়ে কিউআর কোড স্ক্যান করে বিভিন্ন চাকুরিতে আবেদন করেন এবং অনেকে সরাসরি সাক্ষাৎকারেও অংশ নেন। চাকরি প্রত্যাশী ইউসুফ আলী বলেন, বগুড়ায় এমন আয়োজন আমাদের জন্য বড় সুযোগ। আগে চাকরির জন্য ঢাকায় বা দূরে যেতে হতো, এখন এখানে একসাথে অনেক কোম্পানির সঙ্গে কথা বলা যাচ্ছে। আরেক চাকরি প্রত্যাশী মুক্তি আক্তার বলেন, এই মেলার মাধ্যমে আমরা আত্মবিশ্বাস পেয়েছি। এক জায়গায় অনেক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করার সুযোগ পাওয়া সত্যিই বড় সৌভাগ্যের।
মেলায় অংশ নেওয়া অনেকেই জানান, বগুড়ায় এমন চাকরি মেলা আয়োজন হওয়ায় তাদের সময়, খরচ এবং ভোগান্তি অনেক কমেছে। একই সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হওয়ায় তারা অত্যন্ত সন্তুষ্ট। আয়োজকরা জানান, এই ধরনের উদ্যোগ শুধু চাকরি প্রদানের সুযোগই তৈরি করে না, বরং তরুণদের দক্ষতা, আত্মবিশ্বাস এবং ক্যারিয়ার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দিনব্যাপী এ চাকরি মেলা ঘিরে করতোয়া কনভেনশন হল এলাকায় সৃষ্টি হয় এক উৎসবমুখর পরিবেশ, যা শিক্ষিত বেকার তরুণ-তরুণীদের মনে নতুন আশার আলো জাগিয়েছে।
