Joy Jugantor | online newspaper

এবার ইতালিতেও বিক্ষোভ, আহত ১৪১ পুলিশ, গ্রেপ্তার ১৯৭

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১৯:৫৯, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

এবার ইতালিতেও বিক্ষোভ, আহত ১৪১ পুলিশ, গ্রেপ্তার ১৯৭

এবার ইতালিতেও বিক্ষোভ, আহত ১৪১ পুলিশ, গ্রেপ্তার ১৯৭

জীবনযাত্রার ব্যয়, জ্বালানির দাম বৃদ্ধি ও করের বোঝা বাড়ার প্রতিবাদে প্রতিবেশী দেশ ফ্রান্সের মতো বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে ইতালির বিভিন্ন শহরে। শনিবার শুরু হওয়া এই বিক্ষোভে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ১৪১ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। রোববারের (১৮ অক্টোবর) বিক্ষোভ ঘিরে ১৯৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।ইতালির সংবাদমাধ্যম স্কাই টিজি২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সহিংসতা, পুলিশকে বাধা দেওয়া এবং সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুরের অভিযোগে ২৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের মধ্যে ১২ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক। পরদিন রোববার গ্রেপ্তার হন আরও ১৯৭ জন। তাদের মধ্যে ৪৩ জনকে আদালতে হাজির করা হয়েছে।‘ইতালিয়া ইন পিয়াজ্জা’ ব্যানারে আয়োজিত এই বিক্ষোভে দেশটির বিভিন্ন শহরের মানুষ অংশ নেন। পুলিশের হিসাব অনুযায়ী, মিলানে প্রায় ৫ হাজার, তুরিনে ৩ হাজার, বোলোনিয়ায় ২ হাজার, বেরগামোতে ৮০০ এবং ব্রেসিয়ায় ৬০০ জন বিক্ষোভ করেন।

মিলানে বিক্ষোভের একপর্যায়ে কয়েকটি দল পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর, বোতল ও আতশবাজি ছোড়ে। ব্যারিকেডও নিক্ষেপ করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে। এ সময় শহরের বিভিন্ন দোকানে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। ইতালির সামরিক পুলিশ কারাবিনিয়েরির একটি গাড়িও ভাঙচুর করা হয়।মিলানে বিক্ষোভে জড়িত থাকার অভিযোগে ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। খুচরা বিক্রেতাদের সংগঠন কনফেকমেরচিওর বরাত দিয়ে স্কাই টিজি২৪ জানিয়েছে, গত দুই দিনের বিক্ষোভে দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে পাঁচ লাখ ইউরোর বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।তুরিনে সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে এক প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া পেট্রলবোমা বহনের অভিযোগে তিন অপ্রাপ্তবয়স্ককে আটক করেছে পুলিশ। বোলোনিয়ায় রেলস্টেশনের কাছে সংঘর্ষের ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে আরও পাঁচ অপ্রাপ্তবয়স্ককে। সেখানে বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর, বোতল ও ব্যারিকেড ছোড়েন। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে।

বিক্ষোভে সহিংসতার ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। সহিংসতার নিন্দা জানাতে বিরোধী দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তবে একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, বিক্ষোভে অংশ নেওয়া হাজারো মানুষ শান্তিপূর্ণভাবেও তাঁদের দাবি জানিয়েছেন।উপপ্রধানমন্ত্রী মাত্তেও সালভিনি জানিয়েছেন, তার দল লিগ পার্লামেন্টে একটি প্রস্তাব আবারও উত্থাপন করবে। প্রস্তাবটিতে ঝুঁকিপূর্ণ বিক্ষোভের আয়োজকদের সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি পূরণের জন্য আর্থিক নিশ্চয়তা দেওয়ার বিধান রাখার কথা বলা হয়েছে।মিলানের মেয়র জিউসেপ্পে সালা বলেছেন, বিক্ষোভকারীদের অসন্তোষের কারণ বোঝা গেলেও পুলিশের ওপর হামলা ও শহরের সম্পদ নষ্ট করার কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই। বোলোনিয়ার মেয়র মাত্তেও লেপোরেও সহিংসতার নিন্দা জানিয়ে তরুণদের বিক্ষোভের নামে সহিংসতায় জড়িত ব্যক্তিদের থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।