জীবনযুদ্ধে অপরাজিত সৈনিক আব্দুল আজিজ
জীবনের কঠিন বাস্তবতার কাছে হার না মেনে সংগ্রাম করে চলেছেন বগুড়ার ধুনট উপজেলার কালেরপাড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা আব্দুল আজিজ। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তাকে থামিয়ে দিতে পারেনি। বরং আত্মসম্মান ও পরিশ্রমকে সঙ্গী করে তিনি হয়ে উঠেছেন জীবনযুদ্ধের এক অনন্য উদাহরণ।পেশায় তিনি একজন মুদি দোকানদার। দীর্ঘদিন আগে চর্ম রোগে আক্রান্ত হয়ে তার একটি পা কেটে ফেলতে হয়। এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই জীবনের প্রতি আশা হারিয়ে ফেলেন। কিন্তু আজিজার রহমান হার মানেননি। ভিক্ষাবৃত্তিকে পেশা হিসেবে গ্রহণ না করে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজের জীবিকা নির্বাহের পথ বেছে নিয়েছেন।আব্দুল আজিজ বলেন, কালেরপাড়া বাজারে আমার একটি মুদি দোকান ছিল। দোকানে অনেক ভালো বেচাকেনা হতো। পরিবার নিয়ে খুব ভালোভাবেই দিন কাটাচ্ছিলাম। হঠাৎ একদিন আমার পায়ে ছোট একটি ঘা হয়। এরপর অনেক ডাক্তার দেখিয়েছি, অনেক ওষুধ খেয়েছি, কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। চিকিৎসার পেছনে প্রায় ৬-৭ লাখ টাকা খরচ করার পর শেষ পর্যন্ত আমার একটি পা কেটে ফেলে দিতে হয়।
আমার পুঁজি না থাকায় এখন দোকানে প্রয়োজনীয় মালামাল তুলতে পারি না। তাই আগের মতো বেচাকেনাও হয় না। দোকানে যা বিক্রি হয়, তা দিয়ে পরিবার চালাতে অনেক কষ্ট হয়। একটি পা দিয়ে ভালোভাবে হাঁটাচলাও করতে পারি না। প্রতিদিনের জীবনযাপন আমার জন্য অনেক কষ্টের হয়ে দাঁড়িয়েছে।আমি দেশবাসী ও প্রশাসনের কাছে আকুল আবেদন জানাই বৃদ্ধ বয়সে জীবনের যে কটা দিন বেঁচে থাকব, অন্তত যেন শান্তিতে একটু হাঁটাচলা করতে পারি। আমাকে যদি হাঁটাচলার ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়, তাহলে আমি চিরকৃতজ্ঞ থাকব।পল্লী চিকিৎসক রেজাউল বলেন,আব্দুল আজিজ এক সময় অনেক ভালো মুদি ব্যাবসায় করত। হঠাৎ তার পায়ে ঘা হয় পরে অপারেশন করতে হয়। ২ বার পা কাটাতে তার যে মূলধন ছিল তা শেষ হয়ে যায়। এখন অনেক কষ্টে দিনাতিপাত করছে। নামমাত্র দোকানে সে বসে তা শুধু মানুষের সাথে বসলে ভালো লাগে সেই জন্য। বাড়িতে থাকলে দুশ্চিন্তায় পড়বে। তার এই দুর্ভোগ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার জন্য ও সচ্ছলতা আনায়নের জন্য প্রশাসন ও সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসা প্রয়োজন বলে মনে করছি।
স্থানীয় ক্রেতারা বলেন, আজিজার রহমান প্রমাণ করেছেন শারীরিক অক্ষমতা নয়, মানুষের মনোবলই তাকে এগিয়ে নিয়ে যায়। তার সংগ্রামী জীবন তরুণ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস।আজিজার রহমানের মতো সংগ্রামী মানুষের পাশে সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।তাদের মতে, প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পেলে তিনি আবারও স্বাবলম্বী হয়ে সম্মানের সঙ্গে জীবনযাপন করতে পারবেন।ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফ উল্লাহ নিজামী বলেন, আব্দুল আজিজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। তার অসহায়ত্ব ও শারীরিক প্রতিবন্ধকতার বিষয়টি জেনে প্রয়োজনীয় খোঁজখবর নেওয়া হবে।তাকে সরকারি সহায়তার আওতায় এনে সোশ্যাল সেফটি নেটওয়ার্কের বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।
