Joy Jugantor | online newspaper

বৃষ্টি এলেই আতঙ্ক, ফুটো ছাউনির নিচে ভিজেই কাটে ৭০ বছরের মনোয়ারার রাত

পাঁচবিবি (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২০:০৭, ৯ জুলাই ২০২৬

আপডেট: ২০:০৮, ৯ জুলাই ২০২৬

বৃষ্টি এলেই আতঙ্ক, ফুটো ছাউনির নিচে ভিজেই কাটে ৭০ বছরের মনোয়ারার রাত

বৃষ্টি এলেই আতঙ্ক, ফুটো ছাউনির নিচে ভিজেই কাটে ৭০ বছরের মনোয়ারার রাত

"আসমানীরে দেখতে যদি তোমরা সবে চাও, রহিমদ্দির ছোট্ট বাড়ি রসুলপুরে যাও।" কবি জসীম উদ্দীনের "আসমানী" কবিতায় যেমন দারিদ্র্য আর অসহায় মানুষের জীবনের নির্মম বাস্তবতা ফুটে উঠেছে, তেমনি আজও সেই বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি দেখা যায় জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার মালিদহ গ্রামের ৭০ বছর বয়সী বিধবা মনোয়ারা বেগমের জীবনে।বৃষ্টি নামলেই ঘুম ভেঙে যায় ৭০ বছর বয়সী মনোয়ারা বেগমের। জীর্ণ-শীর্ণ ঘরের ফুটো টিন দিয়ে টপটপ করে পানি পড়ে। বিছানা, কাঁথা সব ভিজে যায়। ঝড়ো বাতাস শুরু হলে বুক ধড়ফড় করতে থাকে—এই বুঝি ভেঙে পড়ল মাথার ওপরের একমাত্র আশ্রয়টুকু।এভাবেই বছরের পর বছর মানবেতর জীবন কাটছে জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার আয়মা রাসুলপুর ইউনিয়নের মালিদহ গ্রামের অসহায় বিধবা মনোয়ারা বেগমের।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একসময় স্বামী-সন্তান নিয়ে ছোট হলেও সুখের সংসার ছিল মনোয়ারার।

প্রায় ৩০ বছর আগে স্বামী মোস্তফার মৃত্যু হলে দুই সন্তানকে নিয়ে কঠিন সংগ্রামে পড়েন তিনি। মানুষের বাড়িতে কাজ করে কোনো রকমে সংসার চালাতেন।ছেলে মিলন বড় হয়ে ভ্যান চালিয়ে সংসারের হাল ধরলেও সেই সুখ বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। কয়েক বছর আগে ভ্যান নিয়ে বের হওয়ার পর দুর্বৃত্তদের হাতে নিহত হন তিনি। একমাত্র মেয়েকে বিয়ে দিতে গিয়ে শেষ সম্বল সামান্য জমিটুকুও বিক্রি করতে হয়।বর্তমানে মাসে মাত্র ৫০০ টাকা বিধবা ভাতা এবং অন্যের বাড়িতে থালা-বাসন ধোয়ার কাজ করে কোনোভাবে জীবন চলছে তার। বয়সের ভারে এখন আর আগের মতো কাজও করতে পারেন না।কান্নাজড়িত কণ্ঠে মনোয়ারা বেগম বলেন, "বাবা, আমার বেশি কিছু লাগবে না। শুধু বৃষ্টির দিনে যেন মাথার ওপর পানি না পড়ে। কয়েকটা টিন পেলেই ঘরটা ঠিক করতে পারব। তাহলে অন্তত শান্তিতে ঘুমাতে পারব। এখন যে টাকা পাই, তা দিয়ে খাব নাকি ওষুধ কিনব?"তার এই অসহায় অবস্থার কথা জানালে পাঁচবিবি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাশপিয়া তাসনীন বলেন, "তিনি আবেদন করলে সরকারি সহায়তার মাধ্যমে টিনের ব্যবস্থা করে দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।"স্থানীয়দের দাবি, মানবিক বিবেচনায় মনোয়ারা বেগমের বসতঘরটি দ্রুত মেরামতের ব্যবস্থা করা হলে জীবনের শেষ সময়টুকু অন্তত নিরাপদ ও স্বস্তিতে কাটাতে পারবেন এই বৃদ্ধা।