Joy Jugantor | online newspaper

বগুড়ায় সুলতানি ও মোগল স্থাপত্য নিদর্শনের স্বাক্ষী পরিণত হলো বটগাছে!

মাসুম হোসেন

প্রকাশিত: ১৮:০০, ১ আগস্ট ২০২১

আপডেট: ১৮:৪৮, ১ আগস্ট ২০২১

বগুড়ায় সুলতানি ও মোগল স্থাপত্য নিদর্শনের স্বাক্ষী পরিণত হলো বটগাছে!

প্রায় ৫০ বছর আগে জঙ্গল ছাড়া আর কিছুই দেখা যাচ্ছিল না। বাহির থেকে শুধু একটি বটগাছই চোখে পড়ত। তবে প্রবীণ ব্যক্তিরা সবাইকে বলতেন এই জঙ্গলে ভিতরে একটি মসজিদ রয়েছে। একপর্যায়ে ওই সময় প্রবীণদের বর্ণনা অনুযায়ী গ্রামবাসীরা উদ্যোগ নিয়ে জঙ্গল কেটে পরিস্কার করা শুরু করেন। জঙ্গল কেটে ফেলার পরই দেখা মেলে একটি মসজিদের। তবে বটগাছের শিকর দিয়ে ছেয়ে গেছে পুরো মসজিদ। এটির মিনার দুটি ঠিক থাকলেও, নষ্ট হয়ে গেছে একটি।

বগুড়ার কাহালু উপজেলার সদর ইউনিয়নের বোরতা গ্রামের গুন্নিপাড়ায় এই মসজিদটির অবস্থান। তিন গম্বুজ বিশিষ্ট এই মসজিদটির প্রায় সাড়ে ৪০০ বছরের পুরনো হবে বলে গ্রামবাসী ও স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।

রোববার সকালে সরেজমিনে দেখা গেছে, সুলতানি ও মোগল আমলের স্থাপত্যশৈলীর সমন্বয়ে নির্মিত মসজিদটির দেয়াল এক ধরণের ছোট ছোট ইট দিয়ে গাথা রয়েছে। এই মসজিদটির দৈর্ঘ্য প্রায় ২৪ ফুট ও প্রস্থ ১২ ফুট। পাঁচ ইঞ্চি দৈর্ঘ্যর ও দুই ইঞ্চি প্রস্থের ইট দিয়ে তৈরি করা হয়েছিল মসজিদটি। 

বর্তমানে এখানে নামাজ আদায় করার মত অবস্থা নেই। তবে স্থানীয়রা পুরাতন এই মসজিদটিকে ঘিরে ঈদগাহ মাঠ বানিয়েছেন। এখানে ঈদের নামায আদায় করেন গ্রামবাসীরা।

এই মসজিদটি দেখতে প্রতিদিন বগুড়ার বিভিন্ন উপজেলা ও অন্য জেলা থেকে মানুষ আসছেন। 

গোলাম রব্বানী নামে এক যুবকের সঙ্গে কথা হয়। তিনি বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাসিন্দা। ঐতিহাসিক এই মসজিদটি এক নজর দেখার জন্য ছুটে এসেছেন তিনি।

রব্বানী বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তিনি এই মসজিদের বিষয়ে জানতে পারেন। পুরনো এই মসজিদটি নিজের চোখে দেখার জন্য তিনি এখানে এসেছেন, সঙ্গে তার বন্ধুরাও রয়েছেন।

বগুড়া পৌরসভার ফুলতলা এলাকার বাসিন্দা বাবু প্রামাণিক। তিনি গোলাম রব্বানীর বন্ধু। এক সঙ্গে মসজিদটি নিজের চোখে দেখার জন্য এখানে এসেছেন। 

কথা হয় স্থানীয় বাসিন্দা রেজাউল করিম, ইমরান হোসেনসহ অন্তত ১০ জনের সঙ্গে। তারা বলেন, এই পুরনো মসজিদটি একনজর দেখার জন্য বগুড়ার বিভিন্ন এলাকার মানুষসহ অন্যান্য জেলার বাসিন্দারাও ছুটে আসেন। প্রবীণদের বর্ণনা অনুযায়ী এই মসজিদটির প্রায় সাড়ে ৪০০ বছরের পুরনো হবে। তারা এই ঐতিহ্যকে রক্ষা করতে এটি সংস্কার ও সংরক্ষণের জোর দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে কথা বলতে রাজশাহী-রংপুর বিভাগের প্রত্নতত্ন অধিদপ্তরের আঞ্চলিক পরিচালক নাহিদ সুলতানার সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

জানতে চাইলে কাহালু উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাছুদুর রহমান বলেন, ‘ মসজিদ প্রায় সাড়ে ৪০০ বছরের পুরনো হবে। উপজেলা প্রকৌশলীকে মসজিদ সম্পর্কে খোঁজ-খবর নিতে বলেছি। তিনি (প্রকৌশলী) সরেজমিন পরিদর্শন করার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।