Joy Jugantor | online newspaper

করোনার মধ্যেও ফুলবাড়ীতে চলছে ব্যাচ করে কোচিং

ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৪:৪৪, ২১ জুন ২০২১

আপডেট: ১৪:৪৫, ২১ জুন ২০২১

করোনার মধ্যেও ফুলবাড়ীতে চলছে ব্যাচ করে কোচিং

প্রতীকী ছবি।

ভারতের সীমান্তবর্তী দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলায় হঠাৎ করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় প্রাইভেট-কোচিংসহ সবধরনের শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশনা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। নিষেধাজ্ঞাকে অমান্য করে দিব্যি প্রাইভেট-কোচিং চালিয়ে যাচ্ছেন কিছু সরকারি ও এমপিওভুক্ত শিক্ষক। এসব শিক্ষক তাদের বাসায় অথবা ভাড়া করা কক্ষে ব্যাচ করে সরকারের স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা না করেই একসঙ্গে ২০-২৫ জন শিক্ষার্থীকে গাদাগাদি করে বসিয়ে কোচিং করাচ্ছেন।

গতকাল রবিবার পৌরএলাকার সুজাপুর, প্রফেসর পাড়া, মডেল স্কুল মোড়, মাদ্রাসা রোড, নিমতলা মোড়, জনতা ব্যাংক সংলগ্ন বাংলাস্কুল মোড়, প্লাস্টিক কারখানা এলাকার সুপারি বাগানসহ বেশকিছু এলাকা ঘুরে এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, করোনার ভয়াবহ পরিস্থিতিতেও প্রকাশ্যেই প্রাইভেট-কোচিং বাণিজ্য শুরু হয়েছে। সেসব প্রাইভেট-কোচিংগুলোতে শিক্ষার্থীদের ব্যাপক চাপ। প্রশাসনের নজরদারি এড়িয়ে নির্ভয়ে বাসাবাড়িতে প্রাইভেট-কোচিং চলছে।

স্থানীয়রা জানান, সরকার যেখানে স্কুল-কলেজসহ সবধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখেছে শিক্ষার্থীদের সুরক্ষার কথা ভেবে। সেখানে কীভাবে চলছে এসব প্রাইভেট-কোচিং সেন্টারগুলো? সাধারণ শিক্ষকের পাশাপাশি প্রশাসনের কোনো নজর না থাকায় দিব্যি প্রাইভেট-কোচিং বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন সরকারের বেতনভুক্ত শিক্ষকরাও। এ সময় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থও আদায় করা হচ্ছে। প্রতি ব্যাচে ২০ থেকে ৩০ জন বা তারও বেশি শিক্ষার্থীকে পড়ানো হচ্ছে।

পৌরএলাকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা বলেন, ‘আমার বাড়ির কাছেই দু-তিন জন শিক্ষক প্রাইভেট পড়াচ্ছেন। সকাল ৬টা থেকে ১০টা পর্যন্ত প্রতি ব্যাচে ৩০ থেকে ৩৫ জনকে ছোট কক্ষে বসিয়ে তারা প্রাইভেট পড়াচ্ছেন। আমি এ ব্যাপারে ঐ সব শিক্ষককে নিষেধ করলেও তারা আমার কথায় কর্ণপাত করেনি।

শিক্ষার্থীরা জানায়, স্কুল-কলেজ থেকে অ্যাসাইনমেন্ট দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু সেগুলো ঠিকমতো না জানায় প্রাইভেট-কোচিং করতে হচ্ছে। পরিবার থেকে বাধা দেওয়া হলেও অ্যাসাইনমেন্টের জন্য প্রাইভেটে বাধ্যতামূলকভাবে যেতে হচ্ছে।

প্রফেসর পাড়ায় প্রাইভেট পড়ান এমন এক শিক্ষক জানান, অভিভাবকদের চাপে তার মতো কয়েকজন শিক্ষক প্রাইভেট পড়াচ্ছেন। তবে স্বাস্থ্যবিধি মেনেই পড়ানো হচ্ছে।

ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মশিউর রহমান বলেন, করোনায় শিশু ও বৃদ্ধরা বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। প্রাইভেট-কোচিংগুলোর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, ফুলবাড়ীতে করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। প্রাইভেট-কোচিং সেন্টারগুলো বন্ধ করতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ঐ সব শিক্ষকদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে।