মান্দায় এক কোটি টাকার সড়ক নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগে কাজ বন্ধ
নওগাঁর মান্দায় নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করে সড়ক নির্মাণের অভিযোগে তদন্তে নেমেছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার নির্মাণাধীন সড়কটি পরিদর্শন করে বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রীর নমুনা সংগ্রহ করেছেন জেলা এলজিইডির সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী আবু সাঈদ। নমুনা পরীক্ষার প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত সড়কটির নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন উপজেলা প্রকৌশলী।উপজেলা প্রকৌশল দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার রাজশাহী-নওগাঁ মহাসড়কের মুক্তিযোদ্ধা মেমোরিয়াল বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে থেকে গাইহানা উত্তরপাড়া ঈদগাহ পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১ কোটি ৪ লাখ টাকা। দরপত্রের মাধ্যমে কাজটি পেয়েছে শওকত এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তবে কাজটি বাস্তবায়ন করছেন ঠিকাদার আরিফুল ইসলাম আকাশ।স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কের সাব-বেস নির্মাণে ইটভাটার পরিত্যক্ত রাবিশ, দুই ও তিন নম্বর ইট এবং নির্ধারিত মাপের চেয়ে বড় ইটের খোয়া ব্যবহার করা হচ্ছে। নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের প্রতিবাদ জানিয়ে এলাকাবাসী কাজ বন্ধের দাবি জানান। একপর্যায়ে উপজেলা প্রকৌশলী সরেজমিনে গিয়ে নিম্নমানের সামগ্রী সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেন।
কিন্তু সেই নির্দেশনা উপেক্ষা করে আবারও একই ধরনের নির্মাণসামগ্রী দিয়ে কাজ চালানোর অভিযোগ ওঠে।এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। বৃহস্পতিবার জেলা এলজিইডির প্রকৌশলী সরেজমিনে সড়কটি পরিদর্শন করে নির্মাণসামগ্রীর নমুনা সংগ্রহ করেন।সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী আবু সাঈদ বলেন, নির্মাণকাজে ব্যবহৃত সামগ্রীর নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এগুলো পরীক্ষার জন্য ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হবে। পরীক্ষার ফলাফল পাওয়ার পর নির্মাণসামগ্রীর গুণগত মান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।কাজ বাস্তবায়নকারী ঠিকাদার আরিফুল ইসলাম আকাশ বলেন, কাজে কোনো ধরনের ত্রুটি রাখা হবে না। নির্ধারিত প্রাক্কলন অনুযায়ী প্রথম শ্রেণির নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করে কাজ করা হবে। ইতোমধ্যে প্রথম শ্রেণির মালামাল ব্যবহার করে কাজ শুরু করা হয়েছে।উপজেলা প্রকৌশলী মো. আব্দুল কাদের বলেন, নমুনা পরীক্ষার প্রতিবেদন না আসা পর্যন্ত সড়কটির নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
