Joy Jugantor | online newspaper

রাণীনগর হাসপাতালে রশিদ ছাড়াই টাকা আদায়ের অভিযোগ

রানীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২০:০১, ৪ নভেম্বর ২০২৬

রাণীনগর হাসপাতালে রশিদ ছাড়াই টাকা আদায়ের অভিযোগ

রাণীনগর হাসপাতালে রশিদ ছাড়াই টাকা আদায়ের অভিযোগ

নওগাঁর রাণীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক্স-রে ও আলট্রাসনোগ্রাফি পরীক্ষার নামে রশিদ ছাড়াই রোগীদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কে.এইচ.এম. ইফতেখারুল আলম খান এবং হাসপাতালের আউটসোর্সিং কর্মী সবুজের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সেবাগ্রহীতারা। তবে সংশ্লিষ্টরা অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেদের পক্ষে বক্তব্য দিয়েছেন।অভিযোগ রয়েছে, হাসপাতালে এক্স-রে ও আলট্রাসনোগ্রাফি পরীক্ষার জন্য রোগীদের কাছ থেকে ২০০ থেকে ২২০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হলেও অনেক ক্ষেত্রে কোনো রশিদ দেওয়া হচ্ছে না। ফলে আদায় করা অর্থের যথাযথ হিসাব সংরক্ষণ এবং সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন এখানে বিভিন্ন বয়সী রোগী চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন। এর মধ্যে এক্স-রে ও আলট্রাসনোগ্রাফি পরীক্ষা অন্যতম। সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ, এক্স-রে করার জন্য কারও কাছ থেকে ২০০ টাকা, আবার কারও কাছ থেকে ২১০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। একইভাবে আলট্রাসনোগ্রাফির জন্য নেওয়া হচ্ছে ২২০ টাকা। কিন্তু টাকা দেওয়ার পরও অনেক রোগী রশিদ পাচ্ছেন না।

দিঘীরপাড় এলাকার মিজান নামের এক যুবক তাঁর ৭০ বছর বয়সী দাদিকে বুকের এক্স-রে করাতে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। এ জন্য তাঁর কাছ থেকে ২০০ টাকা নেওয়া হলেও কোনো রশিদ দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। মিজান বলেন, তাঁকে পরে রশিদ দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু টাকা নেওয়ার পর রশিদ না পেলে ওই অর্থের হিসাব কীভাবে থাকবে, তা নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন।একইভাবে পায়ের এক্স-রে করাতে আসা ৬০ বছর বয়সী নিজাম নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকেও ২০০ টাকা নেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। হরিশপুর এলাকার ৬৫ বছর বয়সী রিজিয়া পড়ে গিয়ে হাতে ব্যথা পাওয়ার পর এক্স-রে করাতে এসে ২১০ টাকা দেন। একই পরিমাণ টাকা নেওয়া হয় ৫৫ বছর বয়সী পারুলের হাতের এক্স-রের জন্যও। তাঁদের ক্ষেত্রেও রশিদ দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

অন্যদিকে, আলট্রাসনোগ্রাফি করাতে এসে খবির উদ্দিন নামের এক ব্যক্তি ২২০ টাকা দেন। একইভাবে ফোরদৌস ও সুমি নামের আরও দুই সেবাগ্রহীতার কাছ থেকেও ২২০ টাকা করে নেওয়া হলেও তাঁদের রশিদ দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। সেবাগ্রহীতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, আলট্রাসনোগ্রাফি কক্ষে দায়িত্বে থাকা এক নারী কর্মী টাকা গ্রহণ করেন।হাসপাতালের এক্স-রে টেকনিশিয়ান হিসেবে পরিচয় দেওয়া সবুজ বলেন, তিনি প্রায় ছয় বছর ধরে হাসপাতালে মাস্টাররোলে কাজ করছেন। তাঁর ভাষ্য, নিয়ম অনুযায়ী রশিদ কেটেই এক্স-রে করার কথা। তবে জরুরি রোগীদের ক্ষেত্রে রশিদ ছাড়াই পরীক্ষা করে পরে রশিদ কাটা হয়। প্রতিদিন পাঁচ থেকে সাতটি এক্স-রে করা হয় বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর মতে, এক্স-রের ফি ২০০ টাকা এবং খামের জন্য ১০ টাকা নেওয়া হয়। এখানে কোনো অনিয়ম হয় না বলেও দাবি করেন তিনি।

এ বিষয়ে রাণীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কে.এইচ.এম. ইফতেখারুল আলম খান বলেন, সপ্তাহে তিন দিন তিনি নিজেই আলট্রাসনোগ্রাফি করেন। এ কাজে একজন নারী কর্মী তাঁকে সহযোগিতা করেন। লোকবল সংকটের কারণে সব সময় রশিদ দেওয়া সম্ভব হয় না বলে দাবি করেন তিনি। তবে টাকা নেওয়ার হিসাব খাতায় লিখে রাখা হয় এবং মাস শেষে আদায় করা অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয় বলে জানান। অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, এ ব্যবস্থাকে ভুল মনে করা হলে তিনি আলট্রাসনোগ্রাফি করা বন্ধ করে দেবেন।এ বিষয়ে নওগাঁর ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মুনির আলী আকন্দ বলেন, রশিদের বাইরে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেনের নিয়ম নেই। রশিদ কেটেই সেবা নিতে হবে। রোগীদের কাছ থেকে রশিদ ছাড়াই এক্স-রে ও আলট্রাসনোগ্রাফির টাকা নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।সচেতন মহলের মতে, অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে এক্স-রে ও আলট্রাসনোগ্রাফির রশিদ বই, দৈনিক পরীক্ষার রেজিস্টার, আদায় করা অর্থের হিসাব এবং সরকারি কোষাগারে জমার তথ্য পরীক্ষা করা প্রয়োজন। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত চিত্র প্রকাশ এবং রোগীদের অর্থ লেনদেনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি।