৯ বিষয়ে `এ প্লাস`, একটিতে এ—নিজের সাফল্য দেখে যেতে পারলেন না গর্ভবতী সুমাইয়া
বগুড়ার শেরপুরে মেধাবী শিক্ষার্থী সুমাইয়া খাতুন কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জন করেছেন। ১০টি বিষয়ের মধ্যে ৯টিতেই পেয়েছেন এ প্লাস (A+) এবং মাত্র একটিতে এ (A) গ্রেড। ঐচ্ছিক বিষয়সহ তাঁর জিপিএ দাঁড়িয়েছে ৫.০০। কিন্তু জীবনের এই কাঙ্ক্ষিত সাফল্য নিজ চোখে দেখে যেতে পারেননি তিনি। ফলাফল প্রকাশের আগেই না ফেরার দেশে পাড়ি জমান সুমাইয়া।বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের প্রকাশিত ফলাফলে সুমাইয়া খাতুন উত্তীর্ণ হয়েছেন। এমন কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফলে পরিবারে আনন্দের বন্যা বয়ে যাওয়ার কথা থাকলেও সেখানে এখন শুধুই শোক আর প্রিয়জন হারানোর বেদনা।সুমাইয়া খাতুন বগুড়ার শেরপুর উপজেলার শালফা টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজের ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষের নিয়মিত শিক্ষার্থী ছিলেন।
তাঁর রোল নম্বর ৪১২৭৯৪। তিনি শেরপুর উপজেলার শুভগাছা গ্রামের আব্দুল মতিনের স্ত্রী।পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গর্ভবতী অবস্থায় পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন সুমাইয়া। তখন তাঁর গর্ভে ছিল তিনটি সন্তান। অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রথমে তাঁকে বগুড়ার শান্ত পলি ক্লিনিকে নেওয়া হয়। পরে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে স্ট্রোক করার পর ১৩ সেপ্টেম্বর মৃত্যুবরণ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল মাত্র ১৯ বছর।একদিকে মেধার স্বাক্ষর রাখা কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল, অন্যদিকে মাত্র ১৯ বছর বয়সে জীবনের অবসান—সব মিলিয়ে সুমাইয়ার গল্প এখন পরিবার ও স্বজনদের কাছে এক হৃদয়বিদারক অধ্যায়। তাঁর অর্জন ভবিষ্যতে স্মরণীয় হয়ে থাকলেও সেই অর্জনের আনন্দ উপভোগ করার মানুষটি চিরতরে হারিয়ে গেছেন।মরহুমা সুমাইয়া খাতুনের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা।
