কামারখন্দে চলাচলের রাস্তা বন্ধের অভিযোগ, দুই সন্তান নিয়ে বিপাকে প্রবাসীর স্ত্রী
সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলায় বসতবাড়িতে যাতায়াতের প্রচলিত পথ প্রতিবেশী জমির মালিকদের বাধার কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে দুই সন্তানকে নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন মালয়েশিয়া প্রবাসীর স্ত্রী মোছা. নাজমা আক্তার। চলাচলের পথ ব্যবহারের সুযোগ নিশ্চিত করতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন তিনি। তবে ২৫ দিন অতিবাহিত হলেও সেটির কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। গত ৮ অক্টোবর কামারখন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে দেওয়া লিখিত আবেদনে নাজমা আক্তার উল্লেখ করেন, তিনি উপজেলার ভদ্রঘাট ইউনিয়নের চরদোগাছী গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর স্বামী মো. হামিদুল ইসলাম মালয়েশিয়া প্রবাসী। স্বামী বিদেশে থাকায় এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে তিনি নিজ বাড়িতে বসবাস করছেন।আবেদনে তিনি জানান, চরদোগাছী গ্রামের সচিব মোড়ের ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় নিজস্ব জায়গায় বসতবাড়ি নির্মাণ করে দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছেন। বাড়িতে যাতায়াতের জন্য নির্দিষ্ট কোনো সরকারি বা বিকল্প রাস্তা না থাকায় স্থানীয়ভাবে প্রচলিত একটি পথ ব্যবহার করে আসছিলেন।
কিন্তু সম্প্রতি প্রতিবেশী জমির মালিকরা অন্যায়ভাবে ওই চলাচলের পথ অবরুদ্ধ করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ তাঁর।এতে তাঁর পরিবারের স্বাভাবিক চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে সন্তানদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত, দৈনন্দিন কেনাকাটা, চিকিৎসা এবং জরুরি প্রয়োজনে বাড়ি থেকে বের হওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। একজন নারী হিসেবে নাবালক দুই সন্তানকে নিয়ে এভাবে অবরুদ্ধ অবস্থায় জীবনযাপন করা অত্যন্ত কষ্টকর ও নিরাপত্তাহীন বলে আবেদনে উল্লেখ করেন তিনি।আবেদনে আরও বলা হয়, বসতবাড়িতে স্বাভাবিক ও নিরাপদ যাতায়াতের অধিকার মানুষের মৌলিক অধিকারের অংশ। তাই বিষয়টি মানবিক ও আইনগত দৃষ্টিকোণথেকে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।এ অবস্থায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে সরেজমিনে এলাকা পরিদর্শন ও তদন্তপূর্বক পরিবারের নিরাপদ চলাচলের জন্য যাতায়াতের পথ ব্যবহারের সুযোগ নিশ্চিত করা এবং প্রতিবেশীদের সৃষ্ট অবৈধ বাধা অপসারণে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছেন নাজমা আক্তার।এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) ড. বিপাশা হোসাইনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
