Joy Jugantor | online newspaper

মহাস্থান হাটে মুলা ১০, ফুলকপি ২০ টাকা কেজি, লোকসানে কৃষকেরা

মোকামতলা (বগুড়া) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২০:৪০, ১ নভেম্বর ২০২৬

মহাস্থান হাটে মুলা ১০, ফুলকপি ২০ টাকা কেজি, লোকসানে কৃষকেরা

মহাস্থান হাটে মুলা ১০, ফুলকপি ২০ টাকা কেজি, লোকসানে কৃষকেরা

 জমিতে ফসল ফলাতে খরচের কমতি নেই। সার, কীটনাশক, সেচ ও শ্রমিকের মজুরি- সব মিলিয়ে সবজি উৎপাদনে বেড়েছে ব্যয়। অথচ সেই ফসল হাটে নিয়ে বিক্রি করতে হচ্ছে পানির দামে। প্রতি কেজি মুলা বিক্রি হচ্ছে মাত্র ১০ টাকা, ফুলকপি ১৫-২০ টাকা। উৎপাদন খরচ তুলতে না পেরে এখন দিশেহারা সবজিচাষিরা।গতকাল রোববার সকালে উত্তরবঙ্গের বৃহত্তম পাইকারি কাঁচা সবজির বাজার বগুড়ার মহাস্থান হাটে গিয়ে এমন চিত্র দেখা যায়। সেখানে প্রতি কেজি মুলা ১০ টাকা এবং ফুলকপি ২০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। কৃষকদের অভিযোগ, সার ও কীটনাশকের চড়া দামসহ উৎপাদন খরচ বিবেচনায় এ দামে সবজি বিক্রি করে লাভ তো দূরের কথা, মূলধনও উঠছে না।মোকামতলা এলাকা থেকে মহাস্থান হাটে ফুলকপি বিক্রি করতে আসা কৃষক নাসির উদ্দিন তারেক জানান, কম দামে সবজি বিক্রির পাশাপাশি ওজনের ক্ষেত্রেও তাদের ঠকতে হচ্ছে। আগে ৪০ কেজিতে এক মণ হিসাব করা হলেও বর্তমানে হাটে এক মণ সবজি দিতে হচ্ছে ৪২ থেকে ৪৪ কেজি। অর্থাৎ প্রতি মণে অতিরিক্ত ২ থেকে ৪ কেজি সবজি দিতে হচ্ছে তাদের। এতে কম দামে ফসল বিক্রির পর ওজনের হিসাবেও লোকসান গুনতে হচ্ছে।অতিরিক্ত ওজন নেওয়ার বিষয়ে রফিক নামের এক ব্যবসায়ী বলেন, কাঁচা সবজি পরিবহন ও সংরক্ষণের সময় শুকিয়ে ওজন কমে যায়।

সেই ঘাটতি পুষিয়ে নিতেই অতিরিক্ত সবজি নেওয়া হয়।কৃষকেরা জানান, জমি তৈরি থেকে শুরু করে ফসল ঘরে তোলা পর্যন্ত প্রতিটি ধাপেই তাদের খরচ করতে হয়। সার, কীটনাশক, সেচ ও শ্রমিকের মজুরি বাবদ ব্যয় দিন দিন বেড়েই চলছে। এরপর সেই ফসল বাজারে নিয়ে আশানুরূপ দাম না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরতে হচ্ছে।মহাস্থান হাটের রোববারের পাইকারি বাজারদর অনুযায়ী প্রতি কেজি গাজর ১১০ টাকা, টমেটো ৮০ টাকা, বেগুন ৩০ টাকা, মিষ্টি লাউ ৩০ টাকা, কাঁচা মরিচ ৩০ টাকা, শসা ২৫ টাকা, আলু ২০ টাকা ও পেঁপে ১০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। এছাড়া প্রতি হালি লেবু ২০ টাকা এবং প্রতি পিচ বাঁধাকপি ২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।বাজারে অন্যান্য সবজির তুলনায় মুলা ও ফুলকপির দাম কম থাকায় বেশি হতাশ এসব সবজির চাষিরা। তাদের আশঙ্কা, উৎপাদন খরচের সঙ্গে বিক্রিমূল্যের এমন অসামঞ্জস্য চলতে থাকলে আগামী মৌসুমে অনেক কৃষক সবজি চাষে আগ্রহ হারাতে পারেন।