Joy Jugantor | online newspaper

দাম বেড়েছে শাকেরও, আঁটিও ছোট

সনেট হোসেন:

প্রকাশিত: ১৮:৪৩, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

দাম বেড়েছে শাকেরও, আঁটিও ছোট

দাম বেড়েছে শাকেরও, আঁটিও ছোট

বগুড়ার উপশহর থাকেন জোছনা বেগম। সেখানেই ভ্রাম্যমাণ ভ্যান থেকে এক আঁটি লাউশাক কিনে চল্লিশোর্ধ্ব এই গৃহিণী বেশ অসন্তোষই প্রকাশ করলেন। বললেন, ‘২৫ থেকে ৩০ টাকার শাকের আঁটি এখন ৫০ টাকায় কিনলাম। তা-ও অনেক কথা খরচ করতে হলো। আগে এক আঁটিতে ৫টা লতা থাকত, এখন হয়েছে ৪টা।’ বেশ কিছুদিন ধরেই সবজির বাজার বেশ চড়া। শতকের ঘরও ছাড়িয়েছে বেশ কয়েকটি সবজির কেজি। তাই নিম্ন ও নির্দিষ্ট আয়ের মানুষ ঝুঁকেছিল নানা ধরনের শাকপাতার দিকে। কিন্তু শাকেরও সরবরাহ-সংকট। ফলে আঁটি ছোট হয়েছে, দামও বেড়েছে সব ধরনের শাকের। বগুড়ার বাজার ঘুরে এবং সবজি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এক আঁটি লাউ ও কুমড়াশাকের দাম পড়ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা, ডাঁটাশাক ৩০ থেকে ৪০ টাকা ও এক আঁটি পুঁইশাকের দাম রাখা হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা।

এই চার ধরনের শাকের দাম গত এক মাসের ব্যবধানে ১০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। কিছুটা কম দামে যেসব শাক পাওয়া যেত, সেগুলোর দামও বেড়েছে আঁটিপ্রতি ১০ থেকে ১৫ টাকা। পাটশাকের দাম এখন ২০ থেকে ২৫ টাকা আঁটি। বাজারে লালশাক ২৫ থেকে ৩০ টাকা, পালং ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, কলমিশাক ১৫ থেকে ২০ টাকা, শর্ষেশাক ২০ থেকে ২৫ টাকা, মুলাশাক ১৫ থেকে ২০ টাকা, আর হেলেঞ্চা শাক ১০ থেকে ২০ টাকা আঁটি বিক্রি হচ্ছে। কচুশাক বিক্রি হচ্ছে ২৫ থেকে ৩০ টাকা আঁটি। বেশ কয়েক পদের শাকের দাম গত এক মাসে দ্বিগুণ হয়েছে। বাজারে সাধারণত কেজি হিসাবে শাক বিক্রি হতে দেখা না গেলেও বিক্রেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতি কেজিতে পুঁইশাকের দুই আঁটি ও লালশাকের চার আঁটির মতো হয়ে থাকে। আঁটির দামে হিসাব করলে এই দুই ধরনের শাকের দাম দুই বছরে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।

বাজারে এর বাইরে বথুয়াশাক, তেলাকচু শাক ও থানকুনি পাতার মতো আরও কয়েক জাতের শাক বিক্রি হয়। এগুলো মূলত মৌসুমি শাক এবং সব সময় বাজারে পাওয়া যায় না। সরবরাহের ওপর এসব শাকের দাম নির্ভর করে। শাকের দোকানে বিলাতি ধনেপাতা, শাপলার নালি, দেশি ধনেপাতা ও পুদিনা পাতার মতো শাকজাতীয় পণ্যও বিক্রি হয়। এর মধ্যে ধনেপাতার ছোট একটি আঁটি কিনতে খরচ পড়ে ১০ থেকে ২০ টাকা। আকারভেদে পুদিনাপাতার একটি আঁটির দাম ২০ থেকে ৫০ টাকাও হয়ে থাকে। শাকের দাম কোনো কোনো ক্ষেত্রে দ্বিগুণ হওয়ার কারণ হিসেবে বিক্রেতারা দায়ী করেন সরবরাহের ঘাটতিকে। মাছ, মাংস ও ডিমের মতো প্রাণিজ আমিষের বাজার আগে থেকেই চড়া। চাল, ডাল ও ভোজ্যতেলের মতো অধিকাংশ নিত্যপণ্যের দামও বেড়ে রয়েছে। পরিস্থিতি সামলাতে সাধারণ মানুষ কাটছাঁট করে সংসার চালাচ্ছেন।

তাই শাকসবজির মতো পুষ্টির উৎসও সংকুচিত হয়ে এলে তা জনস্বাস্থ্যে বিরূপ প্রভাব ফেলবে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। বেশির ভাগ শাক একসময় গ্রাম পর্যায়ে প্রায় বিনা চেষ্টায় উৎপাদিত হতো। কিন্তু এখন শাকের বাণিজ্যিক চাষাবাদ হচ্ছে, ফলে অধিকাংশ শাক সারা বছর ধরেই কমবেশি পাওয়া যায়। বিশেষজ্ঞ ও বাজার-সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দেশে শতাধিক জাতের শাক পাওয়া যায়। একসময় পালং, শর্ষে, মুলা, লালশাকের মতো শাক শুধু শীতকালে পাওয়া গেলেও বাণিজ্যিক চাষাবাদের কল্যাণে এসব শাক এখন সারা বছরই পাওয়া যায়। আগে গ্রামের পুকুর, ডোবা ও বিলে কলমি এবং হেলেঞ্চার মতো যেসব শাক পাওয়া যেত, তারও এখন বাণিজ্যিক চাষাবাদ হচ্ছে এবং এসব শাক শহরের মানুষের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়েছে। তবে দেশে প্রতিবছর ঠিক কী পরিমাণ শাকের উৎপাদন হয়, সে ব্যাপারে সরকারি-বেসরকারি কোনো পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি।