Joy Jugantor | online newspaper

সৌদি আরবে অগ্নিকাণ্ডে নিহত

নওগাঁর ৫ শ্রমিকের মরদেহ দেশে আসছে শনিবার

নওগাঁ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৮:২৫, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

নওগাঁর ৫ শ্রমিকের মরদেহ দেশে আসছে শনিবার

সৌদি আরবে অগ্নিকাণ্ডে নিহত নওগাঁর ৫ শ্রমিকের মরদেহ দেশে আসছে শনিবার

সৌদি আরবের রিয়াদে সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত নওগাঁর পাঁচ শ্রমিকের মরদেহ দেশে আসছে। শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল ৮টা ৫ মিনিটে বাংলাদেশ বিমানের বিজি-৩৩৬ নম্বর ফ্লাইটে মরদেহগুলো হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবে।বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ দূতাবাস, রিয়াদ থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে সৌদি আরবের কাউন্সিলর মোহাম্মদ রেজায়ে রাব্বী স্বাক্ষরিত বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।এদিকে নিহতদের গ্রামের বাড়িতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে এলাকার পরিবেশ। অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১৬ বাংলাদেশি শ্রমিকের মধ্যে নওগাঁর বিভিন্ন এলাকার ১২ জন রয়েছেন।

বাকি নিহতদের মধ্যে নাটোর জেলার তিনজন এবং রাজশাহী জেলার একজন।সৌদি দূতাবাস থেকে পাঠানো তালিকায় পরিচয় শনাক্ত হওয়া নওগাঁর পাঁচজন হলেন—নওগাঁ শহরের পার-নওগাঁ এলাকার মজনু রহমানের ছেলে শাহিন, আত্রাই উপজেলার ডুবাই গ্রামের নাজমুল হুদার ছেলে হাসিবুল হাসান শুভ, মধ্যবোয়ালিয়া গ্রামের আক্কাস প্রামাণিকের ছেলে মিনহাজ প্রামাণিক, মাধবপুর গ্রামের মজনু সরদারের ছেলে মাসিদুল সরদার সজীব এবং সাধননগর গ্রামের আজহার আলীর ছেলে সাগর আলী।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ৯ আগস্ট সৌদি আরবের রিয়াদে একটি সোফা তৈরির কারখানায় সংঘটিত ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৬ জন বাংলাদেশি শ্রমিক নিহত হন। ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে নিহতদের পরিচয় শনাক্তের পর গত ২৭ আগস্ট নয়জনের মরদেহ দেশে আনা হয়। তাঁদের মধ্যে নওগাঁর ছিলেন সাতজন। বাকি সাতজনের মরদেহ আগুনে পুড়ে যাওয়ায় পরিচয় শনাক্ত করতে বিলম্ব হয়। পরবর্তী সময়ে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে তাঁদের পরিচয় শনাক্ত করা হয়। তাঁদের মধ্যে নওগাঁর পাঁচজন রয়েছেন।

মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে শনিবার বাংলাদেশ বিমানের বিজি-৩৩৬ নম্বর ফ্লাইটে তাঁদের মরদেহ দেশে পাঠানো হচ্ছে।পরিবারের সচ্ছলতা ফেরাতে ধারদেনা করে ছয় থেকে আট বছর আগে নওগাঁর বিভিন্ন গ্রামের ১৬ যুবক সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন। তাঁরা রিয়াদের একটি সোফা তৈরির কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। গত ৯ আগস্ট দুপুরে হঠাৎ কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তাঁদের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহতদের পরিবারে নেমে আসে শোকের মাতম। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্বজনরা। দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা প্রিয়জনের মরদেহ দেশে ফেরার অপেক্ষায় ছিলেন।

স্থানীয়রা জানান, উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের এসব যুবক কর্মসংস্থানের আশায় সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। তাঁরা ছিলেন দরিদ্র ও অসহায় পরিবারের সন্তান। অনেক পরিবারই ঋণগ্রস্ত। পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে এসব পরিবার এখন দিশেহারা। ঋণ পরিশোধ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন স্বজনরা। এ অবস্থায় ঋণ পরিশোধসহ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর ঘুরে দাঁড়াতে সরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, নিহতদের পরিবারের সঙ্গে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। পরিচয় শনাক্তের পর ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের সঙ্গে সমন্বয় করে মরদেহগুলো দ্রুত দেশে আনার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাঁচজনের মধ্যে চারজনের বাড়ি আত্রাই উপজেলায় এবং একজনের বাড়ি নওগাঁ সদর উপজেলায়। মরদেহগুলো নিয়ে অ্যাম্বুলেন্স উপজেলা পর্যায়ে পৌঁছাতে বিকেল প্রায় ৪টা বাজতে পারে। এরপর স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে। পরে নিজ নিজ এলাকায় জানাজা শেষে তাঁদের দাফন করা হবে।