Joy Jugantor | online newspaper

হিসাব ছাড়া প্রতারণা করেছেন বগুড়া খাদ্য বিভাগের হিসাব রক্ষক শহিদুল ইসলাম

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৯:১২, ৩ নভেম্বর ২০২৬

আপডেট: ১৯:১৩, ৩ নভেম্বর ২০২৬

হিসাব ছাড়া প্রতারণা করেছেন বগুড়া খাদ্য বিভাগের হিসাব রক্ষক শহিদুল ইসলাম

হিসাব ছাড়া প্রতারণা করেছেন বগুড়া খাদ্য বিভাগের হিসাব রক্ষক শহিদুল ইসলাম

হিসাব ছাড়া প্রতারণা করেছেন বগুড়া খাদ্য বিভাগের হিসাব রক্ষক শহিদুল ইসলাম। খাদ্য বিভাগের সাথে ধান চালের ব্যবসা, খাবারের ব্যবসাসহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রদানের নাম করে কোটি টাকার বেশি তিনি হাতিয়ে নিয়েছেন। খাদ্য বিভাগের এই হিসাব রক্ষকের প্রতারণার শিকার হয়ে পথে বসেছে বেশ কিছু যুবক। আদালতে তার নামে চেক জালিয়াতি মামলা চলমান ও ওয়ারেন্ট থাকার পরেও সে বহাল তবিয়তে অফিস করে যাচ্ছেন। সু কৌশললে টাকাগুলো হাতিয়ে নিয়ে যুবকদের পথে বসালেও সে আছে এখন বহাল তবিয়তে।  জানা যায়, গাইবান্ধা জেলা সদরের খামার পীরগাছা এলাকার নজরুল ইসলাম এর পুত্র শহিদুল ইসলাম ২০১৪ সালে গাইবান্ধা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে অফিস সহায়ক পদে চাকুরিতে যোগদান করেন শহিদুল ইসলাম। এরপর অডিটর হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে প্রথমে লালমনিরহাট, পরে গাইবান্ধায় যোগ দেন। ২০২২ সালে শহিদুল আরেক দফা পদোন্নতি পেয়ে হিসাব রক্ষক হন। এর পর তিনি বগুড়া জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে যোগ দেন। বগুড়ায় এসে তিনি আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেন। বিভিন্ন ব্যবসায়ি, যুবক  নারীদে তিনি বিভিন্ন প্রলোভন দিয়ে টাকা হাতিয়ে নিতে শুরু করেন। ধান-চাল ব্যবসায় বিনিয়োগে আকর্ষণীয় লাভের প্রলোভনে সাধারণ ব্যবসায়ী কাছ থেকে বড় অঙ্কের টাকা সংগ্রহ করতেন। বিনিময়ে লিখিত চুক্তি এবং ব্যাংক চেক দিতেন।

সেসব চেকে ইচ্ছা করে ত্রুটি রাখার পাশাপাশি অ্যাকাউন্টে টাকা না থাকায় সেগুলো ডিজঅনার হতো। বগুড়া খাদ্য বিভাগের হিসাবরক্ষক শহিদুল ইসলামকে ঘিরে বেরিয়ে আসছে নানা প্রতারণার তথ্য। সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভনে ধান-চালের ব্যবসার নামে বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে তিনি কয়েক কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। ব্যাংক চেক এবং স্ট্যাম্প ব্যবহার করে দীর্ঘদিন চালিয়েছেন এই প্রতারণা। পুলিশের হাতে গ্রেপ্তারের পর প্রতারণার বিষয়টি সামনে আসে। এরই মধ্যে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে তাঁকে। এরপর আবারও চলতি বছরের নভেম্বর মাসে তিনি বগুড়া অফিসে যোগদনা করেন। এর আগে তিনি ২০২৪ সালের ২৮ নভেম্বর শহিদুলকে বগুড়া জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে গাইবান্ধায় তিনটি চেক ডিজঅনার মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। যদিও একদিন কারাগারে থাকার পরই নিজের প্রভাব বিস্তার করে জামিনে মুক্ত হন তিনি। ২০২৫ সালে শহিদুল খাদ্য ব্যবসার কথা বলে বগুড়ার শ্যামলী হোটেল এর ম্যানেজার মোঃ জামিল খান এর কাছ থেকে নগদ ১২ লাখ ৯০হাজার টাকা হাতিয়ে নেন। টাকা নেওয়ার সময় প্রমাণ হিসেবে বগুড়ার খাদ্য কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম বাংলাদেশ ইসলামী ব্যাংক গাইবান্ধা শাখার নিজ নামীয় পৃথক দুটি চেকে ৮লাখ ৯৬হাজার টাকা উল্লেখ করে বগুড়া শ্যামলী হোটেল এর ম্যানেজার মোঃ জামিল খানকে প্রদান করেন। তার একাউন্টে টাকা না থাকা সত্বেও চেক প্রদান করে প্রতারনা করেন।

পরবর্তীতে তিনি গা ঢাকা দেন। বাধ্য হয়ে ২০২৫ সালে চেক ডিজঅনারের মামলা করেন তিনি।  বগুড়া শ্যামলী হোটেল এর ম্যানেজার মোঃ জামিল খান জানান, আমার সাথে প্রতারনা করেছেন। শুধু আমার সাথেই নয় অনেকের সাথেই তিনি প্রতারনা করেছেন। দীর্ঘ সময় তার সন্ধান পাইনি। শুনেছি তিনি আবারও বগুড়া জেলা খাদ্য অফিসে যোগদান করেছেন। এত অভিযোগের পরেও তিনি কিভাবে সরকারি দপ্তরে চাকরি করছেন সেটাই ভাবার বিষয়। গাইবান্ধার নীলা বেগম নামের এক নারী কাছ থেকেও শহিদুল ইসলাম ১১ লাখ টাকা নেন। প্রতি মাসে লাভসহ মূলধন ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তিনি জনতা ব্যাংকের চেকের মাধ্যমে শহিদুলকে টাকা দেন। টাকা দেওয়ার ৫ মাস পর শহিদুল তাঁর জনতা ব্যাংকের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টের একটি চেক দেন। পরে টাকা উঠাতে গেলে জানতে পারেন, অ্যাকাউন্টে কোনে টাকা নেই। আরেক ভুক্তভোগী কামরুল হাসান বলেন, ভালো সম্পর্কের কারণে ২০২১ সালের ২১ আগস্ট ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে অঙ্গীকারনামার মাধ্যমে ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা দিই। দীর্ঘদিন ঘুরানোর পর ২০২৩ সালের ২১ মে আমাকে তাঁর নিজের ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের তিন লাখ টাকার একটি এবং সাড়ে তিন লাখ টাকার জনতা ব্যাংকের একটি চেক দেন। পরে টাকা তুলতে গেলে চেক ডিজঅনার করে দেয় ব্যাংক। এর পর মামলা করলে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে।

 ব্যবসায়ী বিপু মিয়া জানান, ২০২১ সালে কয়েক দিনের জন্য ৫ লাখ টাকা ধার নেয়। অনেক ঘোরাঘুরির পর ৩ লাখ টাকা দিলেও এখন পর্যন্ত ২ লাখ টাকা দেয়নি। এরকম আলো বেশ কিছু ব্যক্তি কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। টাকা দিয়েও কোন কাজ না পাওয়ায় যুবকের দল এখন বিপদে পড়েছে। না পাচ্ছে টাকা না পাচ্ছে কর্ম। অভিযুক্ত শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা। উল্টো আমিই তাদের কাছে টাকা পাই। যারা আমার কাছে টাকা পেত, জমি বিক্রি করে সেই টাকা পরিশোধ করেছি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বগুড়া ও গাইবান্ধা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের একাধিক কর্মকর্তা জানান, শহিদুল ইসলামের কাছে সম্মান কোন বিষয় নয়। টাকা হাতিয়ে নেওয়া কারাভোগ করা, একাধিক জাতীয় পত্রিকায় তার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করা কোন কিছুরই তিনি তোয়াক্কা করেন না। ব্যবসা দেওয়ার কথা বলে টাকা হাতিয়ে নেওয়ায় তার মূল উদ্দেশ্য। বগুড়া জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক নাজমুল হক ভূইয়া জানান, বগুড়ায় তিনি নতুন যোগদান করেছেন। শহিদুল ইসলামের প্রতারনার বিষয়ে তিনি জানেন না। তিনি বলেন, তার সাথে কার ব্যক্তিগত লেনদেন থাকলে সেটি আমাদের দেখার বিষয় নয়। কিন্তু যদি দাপ্তরিক কোন কাজে তার বিরুদ্ধে টাকা নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায় তাহলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।