গাইবান্ধার সাঘাটায় প্রেমের সম্পর্ক মেনে না নেওয়ায় গ্যাস ট্যাবলেট সেবনে প্রেমিক যুগলের মৃত্যু
গাইবান্ধার সাঘাটায় প্রেমের সম্পর্ককে মেনে না নেওয়ার অভিমানে গ্যাস ট্যাবলেট সেবনে আলামিন হোসেন (১৮) ও তাজনিন আক্তার (২২) নামে এক প্রেমিক যুগলের মৃত্যু হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁদের মৃত্যু হয়।ঘটনাটি ঘটেছে সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়নের পূর্ব রাঘবপুর গ্রামে। নিহত আলামিন হোসেন ওই গ্রামের আজাদুল ইসলামের ছেলে। অন্যদিকে, তাজনিন আক্তার উপজেলার মুক্তিনগর ইউনিয়নের শ্যামপুর গ্রামের সাইফুল ইসলামের মেয়ে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তাজনিন আক্তারের প্রায় চার বছর আগে সাঘাটা উপজেলার পদুমশহর ইউনিয়নের সিংড়ার বাজার গ্রামের ফরহাদের সঙ্গে বিয়ে হয়। তাঁদের সংসারে দুই বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।বিয়ের পর সংসার চলাকালে টিকটকের মাধ্যমে বোনারপাড়া ইউনিয়নের রাঘবপুর গ্রামের অবিবাহিত যুবক আলামিন হোসেনের সঙ্গে তাজনিনের পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।গত শনিবার (১০ অক্টোবর) তাজনিন আগের স্বামী ফরহাদকে ছেড়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে আলামিনের কাছে চলে আসেন। পরে তাঁরা বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেন । আলামিন ও তাজনিনের সম্পর্ক দুই পরিবারের সদস্যরা মেনে না নেওয়ায় বিরোধের সৃষ্টি হয়। এ সময় আলামিনের পরিবারের পক্ষ থেকে তাজনিনকে মারধর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
সম্পর্ক মেনে না নেওয়ার আজ মঙ্গলবার সকালে দুইজনে অভিমান করে একসাথে আলামিন ও তাজনিন গ্যাস ট্যাবলেট সেবন করে অসুস্থ হয়ে পড়েন । পরে স্থানীয় লোকজন তাঁদের উদ্ধার করে সাঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তাঁদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখােনে তাদের চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁদের মৃত্যু হয়। ঘটনাটি এলাকায় শোকের সৃষ্টি করেছে।সাঘাটা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. দুলাল হোদা আজ মঙ্গলবার দুপুরে দুইজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি আরোও জানান. এ ঘটনায় একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশ ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে। তবে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ ও ঘটনার পেছনের পরিস্থিতি তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে।তদন্ত শেষে এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
