বাংলা নববর্ষে আকবরিয়ার বর্ণিল আয়োজন
'পুরাতন বছরের জীর্ণ ক্লান্ত রাত্রি'-র অন্তিম প্রহর সমাপ্ত হয়। তিমির রাত্রি ভেদ করে পূর্বদিগন্তে উদিত হয় নতুন দিনের জ্যোতির্ময় সূর্য। পহেলা বৈশাখ মানেই বাঙালির হৃদয়ে আনন্দের ঢেউ, ঐতিহ্যের রঙে রঙিন এক অনন্য উৎসব। এই দিনে প্রকৃতি যেমন নতুন করে সেজে ওঠে, তেমনি মানুষের মনেও জাগে নবজাগরণের স্পন্দন। বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখকে বরণ করতে আকবরিয়ার সকল শাখা সেজেছে নতুন রূপে।উৎসবের আনন্দকে দ্বিগুণ করতে আকবরিয়া গ্র্যান্ড হোটেল সেজেছে নতুন সাজে, সাথে থাকছে খাঁটি বাঙালি স্বাদের এলাহি সব আয়োজন। সকালের তৃপ্তিতে ছিল ঐতিহ্যবাহী পান্তা-ইলিশ, ঝাল ঝাল আলু ভর্তা, শুটকি ভর্তা ও জিভে জল আনা মরিচ ভর্তা আর দুপুরের জমজমাট আড্ডায় রাখা হয়েছে বিশেষ সব মেনু। দুপুরের রাজকীয় ভোজে ছিল সুগন্ধি ইলিশ পোলাও, মচমচে ইলিশ ভাজা ও খাঁটি সরষে ইলিশ। এছাড়াও ভর্তা প্রেমীদের জন্য ছিল আলু ভর্তা, মাছ ভর্তা, শুটকি ভর্তা, কালিজিরা ভর্তা এবং বিশেষ বাদাম ভর্তা সহ অনেক রকমের ভর্তা। খাবার শেষে উৎসবের পূর্ণতা দিতে ছিল হরেক রকমের মিষ্টির সমাহার। এই বিশেষ দিনটিকে আরও আনন্দময় করে তুলতে পহেলা বৈশাখের আনন্দ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে ভাগাভাগি করে নিতে তাদের নিয়ে করা হয় পান্তা ভাতের এক আন্তরিক মিলনমেলা।
চৈত্রসংক্রান্তি ও বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে বগুড়া সাংস্কৃতিক ফোরাম ও জেলা শিল্পকলা একাডেমির যৌথ আয়োজনে শহরের পৌর পার্কে শুরু হয়েছে পাঁচ দিনব্যাপী বৈশাখী মেলা। মেলার অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে দর্শনার্থীদের মনোযোগ কেড়েছে আকবরিয়ার মনোমুগ্ধকর স্টল। সেরা স্বাদের আয়োজনে বৈশাখের উৎসব হবে আরো আনন্দময় করে তুলতে আকবরিয়ার বিভিন্ন খাদ্যপণ্যে দেওয়া হচ্ছে ১৫% বিশেষ ছাড়। প্রথম দিন থেকেই স্টলের সামনে ভিড় জমাচ্ছেন মেলায় ঘুরতে আসা সকল বয়সী দর্শনার্থীরা।আকবরিয়া লিমিটেড এর চেয়ারম্যান হাসান আলী আলাল বলেন, বাংলা নববর্ষ বাঙালি জাতির জন্য আনন্দ ও উৎসবের দিন। এটি বাঙালির একটি সর্বজনীন লোকউৎসব। মোঘল সাম্রাজ্যের আমলে সৌর পুঞ্জিকা অনুযায়ী কৃষক সমাজের বিড়ম্বনাকে দূর করার জন্যই সম্রাট আকবর এ বাংলা নববর্ষের সূচনা করেন। অতীতের গ্লানি ভুলে গিয়ে অর্থাৎ অতীত হতে শিক্ষা নিয়ে বাংলা নববর্ষের মাধ্যমে আমাদের জীবনমানকে এগিয়ে নিতে হবে। আজ নববর্ষের এই শুভক্ষণে, আসুন, কবিকণ্ঠে কণ্ঠ মিলিয়ে আমরা বলি, 'যতক্ষণ দেহে আছে প্রাণ,/ প্রাণপণে পৃথিবীর সরাবো জঞ্জাল, এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাবো আমি-/ নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।'
