Joy Jugantor | online newspaper

নওগাঁয় সিজারের পর যমজ নবজাতকের একজনের খোঁজ নেই, থানায় অভিযোগ

নওগাঁ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৯:৪৮, ৬ নভেম্বর ২০২৬

নওগাঁয় সিজারের পর যমজ নবজাতকের একজনের খোঁজ নেই, থানায় অভিযোগ

নওগাঁয় সিজারের পর যমজ নবজাতকের একজনের খোঁজ নেই, থানায় অভিযোগ

নওগাঁয় সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের পর যমজ নবজাতকের একজনকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করার অভিযোগ উঠেছে চিকিৎসক ডা. মাহফুজা খাতুনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বেসরকারি বলাকা ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধেও বিষয়টি ধামাচাপা দিতে আর্থিক প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ করেছেন নবজাতকের বাবা শান্ত ইসলাম। বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে প্রসূতি শান্তনা আক্তারের সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের পর এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী প্রসূতি নওগাঁ শহরের কালীতলা এলাকার বাসিন্দা।প্রসূতির পরিবার সূত্রে জানা যায়, যমজ সন্তান প্রসবের বিষয়ে পরামর্শ ও চিকিৎসার জন্য শান্তনা আক্তারকে ডা. মাহফুজা খাতুনের কাছে নেওয়া হয়। চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দ্রুত সিজার করতে হবে বলে জানান। তাঁর পরামর্শ অনুযায়ী বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টায় শহরের স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় অবস্থিত বলাকা ক্লিনিকে তাঁকে ভর্তি করা হয়। ওই দিন রাত ৮টার দিকে তাঁর সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার করা হয়।

পরিবারের দাবি, সিজারের আগেই শান্তনা আক্তার জানতে পেরেছিলেন তাঁর গর্ভে দুটি সন্তান রয়েছে। কিন্তু অস্ত্রোপচারের পর তাঁকে একটি কন্যাশিশু দেখানো হয়। বিষয়টি জানতে পেরে পরিবারের সদস্যরা কান্নাকাটি ও চিৎকার শুরু করেন। এ সময় প্রসূতিকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি দেখানো হয় বলেও অভিযোগ করেছেন তাঁরা।অস্ত্রোপচারের পর পরিবারের কাছে একটি নবজাতক হস্তান্তর করা হয়। অন্য নবজাতকের বিষয়ে জানতে চাইলে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ শিশুটির বিষয়ে কোনো তথ্য দেয়নি বলে অভিযোগ পরিবারের। বরং বিষয়টি ধামাচাপা দিতে তাঁদের আর্থিক প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন তাঁরা। নবজাতকের সন্ধান এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।নবজাতকের বাবা শান্ত ইসলাম বলেন, তাঁর স্ত্রী শান্তনা আক্তার অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর গত ১২ ও ২১ অক্টোবর দুটি পৃথক ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আলট্রাসনোগ্রাম করানো হয়। উভয় পরীক্ষার প্রতিবেদনেই গর্ভে যমজ জীবিত ভ্রূণ থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

তিনি জানান, গত ১২ অক্টোবর জয়পুরহাটের আক্কেলপুরের ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের প্রতিবেদনে উভয় শিশুর হৃদস্পন্দন প্রতি মিনিটে ১৪৭ বার উল্লেখ করা হয়। পরে ২১ অক্টোবর নওগাঁর রি-লাইফ ডায়াগনস্টিক সেন্টারের প্রতিবেদনেও দুটি জীবিত ভ্রূণের কথা উল্লেখ করা হয়। ওই প্রতিবেদনে তাদের হৃদস্পন্দন যথাক্রমে ১৪৬ ও ১৪০ বার প্রতি মিনিটে পাওয়া যায়। সম্ভাব্য ওজন উল্লেখ করা হয় ২ হাজার ৩৩১ ও ২ হাজার ৪৮৬ গ্রাম।শান্ত ইসলাম বলেন, “আমরা জানতাম আমাদের দুটি সন্তান হবে। কিন্তু সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের পর একটি কন্যাশিশু দেখানো হয়েছে। অন্য শিশুটির বিষয়ে জানতে চাইলে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ কোনো তথ্য দেয়নি। বরং বিষয়টি ধামাচাপা দিতে আমাদের আর্থিক প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।”প্রসূতি শান্তনা আক্তার বলেন, “সিজারের আগেই জানতাম আমার দুটি সন্তান—একটি ছেলে ও একটি মেয়ে। কিন্তু সিজারের পর আমাকে একটি কন্যাশিশু দেখানো হয়। বিষয়টি জানার পর আমার পরিবার চিৎকার শুরু করে। এ সময় চিকিৎসক আমার পেটের কাটা অংশ সেলাই না করেই আমাকে প্রায় আধা ঘণ্টা ফেলে রাখেন।

তাঁরা মোবাইল ফোনে ভিডিও করেন এবং বিষয়টি মেনে না নিলে আমাকে ওই অবস্থায় ফেলে রাখার ভয় দেখান। আমি আমার দুই সন্তানকেই চাই। বিষয়টি তদন্ত করলেই সত্য বেরিয়ে আসবে।”বলাকা ক্লিনিকের মালিক এনামুল হক বলেন, “ওই প্রসূতি ডা. মাহফুজা খাতুনের পরামর্শে এখানে ভর্তি হয়েছিলেন। তিনি নিজেই অস্ত্রোপচার করেছেন। বাচ্চা একটি, নাকি দুটি—এ বিষয়ে ওই চিকিৎসকই বলতে পারবেন। আমরা এ বিষয়ে কিছু জানি না।”এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. মাহফুজা খাতুনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো বক্তব্য দিতে চাননি।নওগাঁ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিন্টু রহমান বলেন, নবজাতকের বাবা এ বিষয়ে থানায় একটি অভিযোগ করেছেন। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।