Joy Jugantor | online newspaper

বগুড়ায় নিউরোজিম শিশু বিকাশ কেন্দ্রের উদ্বোধন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৯:২৮, ৬ নভেম্বর ২০২৬

বগুড়ায় নিউরোজিম শিশু বিকাশ কেন্দ্রের উদ্বোধন

বগুড়ায় নিউরোজিম শিশু বিকাশ কেন্দ্রের উদ্বোধন

প্রতিবন্ধী শিশুদের সুচিকিৎসা এবং শিশুদের স্বাভাবিক বিকাশ নিশ্চিতে বগুড়ায় যাত্রা শুরু করেছে নিউরোজিম শিশু বিকাশ কেন্দ্র। আজ শুক্রবার সকালে নগরীর বকশিবাজারে প্রতিষ্ঠানটির ৩য় শাখার উদ্বোধন করেন বগুড়া সদর আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা।নিউরোজিম শিশু বিকাশ কেন্দ্রের পরিচালক আয়েশা সিদ্দিকার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য বাদশা বলেন, প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠী কখনোই সমাজ বা পরিবারের বোঝা নয় বরং সঠিক সময়ে সুচিকিৎসা তাদের সুস্থ করে তুলতে পারে। জন্মের পর থেকে শিশুর বেড়ে ওঠার যাত্রায় যখনই তার বিকাশ বাধাগ্রস্থ হচ্ছে বলে মনে হবে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। সঠিক সময়ে সচেতন পদক্ষেপের মাধ্যমে অনেক বড় ধরনের অটিজম থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। বর্তমান সরকার শিশুদের অধিকার নিশ্চিতের পাশাপাশি বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের বিকাশের বিষয়ে অত্যন্ত সংবেদনশীল ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো প্রান্তিক পর্যায়ে সেবা দিয়ে যাচ্ছে যা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তৃণমূলে শিশু বিকাশ কেন্দ্রগুলো যেন সাবলীলভাবে কাজ করতে পারে সেই লক্ষ্যে তারা সার্বিক সহযোগিতা করবেন।

শিশু বিকাশ বিশেষজ্ঞ মাহাদী ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বগুড়া সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন, বগুড়া জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি ও সাবেক পৌর কাউন্সিলর সিপার আল বখতিয়ার, প্রতিবন্ধী বিষয়ক কর্মকর্তা মর্জিনা আক্তার ও নিউরোজিম শিশু বিকাশ কেন্দ্রের সভাপতি আমিনুল ইসলাম। উদ্বোধনী পর্ব শেষে একই দিন প্রতিষ্ঠান থেকে সুস্থ হওয়া তিনজন শিশুকে সম্মাননা জানানো হয়।আয়োজক সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০১৬ সাল থেকে তারা বগুড়ায় শিশুদের বিকাশে কাজ করে যাচ্ছেন। বর্তমানে ঠনঠনিয়া, মফিজ পাগলা মোড় ও বকশিবাজার তিনটি শাখাতেই তারা শিশু বিকাশের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ যেমন: স্পিচ থেরাপি, ওকুপেশনাল থেরাপি, হেয়ারিং টেস্ট, হাইড্রো থেরাপি, আচরণিক থেরাপি, ফিজিওথেরাপি ইত্যাদি সেবা সমূহ পরিচালনা করে আসছে।

এছাড়াও তাদের প্রতিষ্ঠানে হাইপারএকটিভ অটিজম শিশুদের জন্যে আবাসিক চিকিৎসা সুবিধাও রাখা হয়েছে। তারা জানান, একজন সন্তান তার মা-বাবার কাছে সবচেয়ে আদরের। কিন্তু জন্মের পর নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরেও যখন একজন শিশু ঠিক ভাবে কথা বলতে পারেনা, কানে শুনতে পারেনা অথবা হাইপার অ্যাকটিভ টেন্ডেসি লক্ষ্য করা যায় তখনই বুঝতে হবে তার বিকাশে বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। পরিবারের সদস্যরা জানে একজন বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুকে লালন পালন করা কতটা কঠিন। এমন পরিবার এবং শিশুদের কথা চিন্তা করেই তারা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও আন্তরিক সেবিকাদের মাধ্যমে শিশু বিকাশের পাশাপাশি মহতি উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে কাজ করে যাচ্ছেন। এ সমস্ত রোগীদের সুচিকিৎসা পেতে এখন আর যেতে হবে না রাজধানী ঢাকা কিংবা বিদেশে, এতে একদিকে যেমন বাঁচবে খরচ পাশাপাশি কমবে ভোগান্তি।