Joy Jugantor | online newspaper

নওগাঁয় চালের দাম কেজিতে বেড়েছে ৪ টাকা, ক্ষোভ ক্রেতাদের

নওগাঁ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৯:২৩, ৫ নভেম্বর ২০২৬

নওগাঁয় চালের দাম কেজিতে বেড়েছে ৪ টাকা, ক্ষোভ ক্রেতাদের

নওগাঁয় চালের দাম কেজিতে বেড়েছে ৪ টাকা, ক্ষোভ ক্রেতাদের

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে নওগাঁর ধান-চালের বাজারে। গত দুই সপ্তাহের ব্যবধানে পাইকারি বাজারে চালের দাম কেজিতে ২ টাকা বাড়লেও খুচরা বাজারে বেড়েছে প্রায় ৪ টাকা পর্যন্ত। তবে সুগন্ধি আতপ চালের দাম কেজিতে ২০ টাকা কমে বর্তমানে ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চালের দাম বাড়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ক্রেতারা। অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা বলছেন, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে পরিবহন খরচ বেড়েছে। এ কারণে ধান-চালের দাম সমন্বয় করা হয়েছে।নওগাঁ পৌর এলাকার খুচরা চালের বাজার সূত্রে জানা যায়, গত দুই সপ্তাহের ব্যবধানে বিভিন্ন জাতের চালের দাম কেজিতে প্রায় ৪ টাকা বেড়েছে। বর্তমানে কাটারিভোগ চাল ৮০ থেকে ৮৫ টাকা, জিরাশাইল ৬৫ থেকে ৭০ টাকা, সুফলতা ৬৫ থেকে ৭০ টাকা, ব্রি-১৯ চাল ৫৫ থেকে ৬০ টাকা, ব্রি-২৮ চাল ৬০ থেকে ৬৫ টাকা এবং স্বর্ণা-৫ চাল ৫০ থেকে ৫২ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।বৃহস্পতিবার জেলার মহাদেবপুর উপজেলার চকগৌরী হাটে গিয়ে দেখা যায়, গত দুই সপ্তাহের ব্যবধানে বিভিন্ন জাতের ধানের দাম মণপ্রতি ১০০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বর্তমানে কাটারিভোগ ধান ১ হাজার ৮০০ থেকে ১ হাজার ৯৫০ টাকা, জিরাশাইল ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৫৫০ টাকা, সুফলতা ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৪৫০ টাকা এবং ব্রি-১৯ ধান ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ২২০ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে।

সর্বশেষ গত ২০ সেপ্টেম্বর সরকার জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করে। এতে প্রতি লিটারে সর্বোচ্চ ২০ টাকা পর্যন্ত দাম বাড়ানো হয়। এর প্রভাব পড়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্যের বাজারে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং আয়ের তুলনায় ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় নিম্ন ও মধ্যবিত্তসহ সাধারণ মানুষ সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন। এর মধ্যে চালের দাম বাড়ায় নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। দ্রব্যমূল্যের চাপে দিশেহারা সাধারণ মানুষের অনেকের সংসারে চাল ও আলুই প্রধান ভরসা। বাজারে গিয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী চাল কিনতে না পেরে অনেকে ফিরে যাচ্ছেন।নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন দামে নিম্নবিত্তের পাশাপাশি মধ্যবিত্তরাও চাপে পড়েছেন। শহরের সুলতানপুর মহল্লার রিকশাচালক আফসার আলী বলেন, চার সদস্যের পরিবার তাঁর। ছোট দুই ছেলে-মেয়ে পড়াশোনা করে এবং স্ত্রী সংসার সামলান। সারাদিন রিকশা চালিয়ে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা আয় হয়। এর মধ্যে ৩৫০ টাকা রিকশার ভাড়া দিতে হয়। বাকি টাকা দিয়ে চাল, ডাল, মাছ ও সবজি কিনতেই শেষ হয়ে যায়। তিনি বলেন, ‘আমাদের তো চাল, ডাল আর আলুই প্রধান ভরসা। সেখানেও চালের দাম বেড়েছে। সবকিছুর দাম বেড়েছে। ডিমের দামও বেশি। আমরা আসলে খাব কী?’

শহরের আরজি-নওগাঁ মহল্লার দিনমজুর সমশের আলীসহ অনেকেই প্রতিদিন সকালে কাজের সন্ধানে গোস্তহাটির মোড়ে এসে বসে থাকেন। সমশের আলী বলেন, তাঁর পরিবারের সদস্য পাঁচজন। বাবা-ছেলে দুজন কাজ করেন। ছেলে রাজমিস্ত্রির জোগাড়ের কাজ করেন। তাঁকে প্রতিদিন কাজের সন্ধানে এখানে আসতে হয়। দিনমজুরি করে ৬০০ টাকা পাওয়া যায়। কোনো দিন কাজ মেলে, আবার কোনো দিন কাজ না পেয়ে বাড়ি ফিরতে হয়। কিন্তু পেট তো আর বসে থাকবে না। যেভাবে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে, তাতে তাঁদের মতো গরিব মানুষ চরম বিপাকে পড়েছেন।নওগাঁ জেলা চালকল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন চকদার বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে পরিবহন খরচ বেড়েছে। এ কারণে ধান-চালের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। চালের দাম বৃদ্ধির পেছনে কোনো ধরনের সিন্ডিকেট নেই। দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণ চাল রয়েছে। উত্তরাঞ্চল থেকে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন জেলায় প্রায় ৫০ ট্রাক চাল সরবরাহ করা হচ্ছে। জ্বালানির দাম বাড়ায় পরিবহন খরচও বেড়েছে। ভবিষ্যতে জ্বালানি তেলের দাম কমলে চালের দামও কমে আসবে বলে আশা করেন তিনি।