Joy Jugantor | online newspaper

অটোরিকশা, ফুটপাত দখল ও সড়কের স্টল বাড়ছে বগুড়ার যানজট

সনেট হোসেন

প্রকাশিত: ১৯:০৭, ৫ নভেম্বর ২০২৬

অটোরিকশা, ফুটপাত দখল ও সড়কের স্টল বাড়ছে বগুড়ার যানজট

অটোরিকশা, ফুটপাত দখল ও সড়কের স্টল বাড়ছে বগুড়ার যানজট

দিন দিন বাড়ছে অটোরিকশার সংখ্যা। সেই সঙ্গে বাড়ছে যানজট, কমছে সড়কে স্বাভাবিক চলাচলের সুযোগ। একসময় যে সড়ক দিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচল করা যেত, এখন সেখানে দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থাকতে হচ্ছে নগরবাসীকে। বিশেষ করে ব্যস্ত সময়ে বগুড়া শহরের বিভিন্ন সড়কে তৈরি হচ্ছে তীব্র যানজট। এতে সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ছে সাধারণ মানুষের জন্য।শহরে অটোরিকশার সংখ্যা বৃদ্ধির পেছনে রয়েছে নানা আর্থসামাজিক বাস্তবতা। প্রবাসফেরত ব্যক্তি, শ্রমজীবী মানুষ, বেকার যুবক, কৃষক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ জীবিকার তাগিদে বেছে নিচ্ছেন অটোরিকশা চালানোকে। তুলনামূলক সহজে এই পেশায় যুক্ত হওয়ার সুযোগ থাকায় প্রতিদিনই বাড়ছে নতুন চালকের সংখ্যা। তবে পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা ও সড়কের ধারণক্ষমতার সঙ্গে যানবাহনের সংখ্যার সামঞ্জস্য না থাকায় তৈরি হচ্ছে বাড়তি চাপ।

অন্যদিকে, শহরের বিভিন্ন এলাকায় ফুটপাত দখল করে গড়ে উঠেছে অস্থায়ী দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। কোথাও কোথাও সড়কের একাংশে বসছে বিভিন্ন পণ্যের স্টল। ফলে পথচারীদের ফুটপাত ছেড়ে মূল সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে যানবাহন ও পথচারী উভয়ের চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। সংকুচিত হয়ে পড়ছে সড়কের ব্যবহারযোগ্য অংশ।এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, রোগী বহনকারী যানবাহন, ব্যবসায়ী ও সাধারণ যাত্রীরা। যানজটের কারণে নষ্ট হচ্ছে মূল্যবান কর্মঘণ্টা। পাশাপাশি জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাওয়াও হয়ে উঠছে কঠিন।তবে এই সমস্যার সঙ্গে জড়িয়ে আছে নগরবাসীর জীবিকা ও অর্থনৈতিক বাস্তবতাও। অটোরিকশা চালানো যেমন অনেক মানুষের উপার্জনের পথ, তেমনি ফুটপাতের ক্ষুদ্র ব্যবসাও অনেক পরিবারের জীবিকার উৎস। তাই কাউকে কর্মসংস্থান থেকে বঞ্চিত না করে প্রয়োজন সবার স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে একটি কার্যকর নগর পরিবহন ও সড়ক ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা।

নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, যানবাহনের সংখ্যা ও সড়কের ধারণক্ষমতার মধ্যে সমন্বয়, নির্দিষ্ট পার্কিং ব্যবস্থা, অটোরিকশার জন্য নির্ধারিত চলাচল এলাকা, ফুটপাত পথচারীদের জন্য উন্মুক্ত রাখা এবং সড়কে অবৈধভাবে স্টল বসানো নিয়ন্ত্রণের মতো উদ্যোগ যানজট কমাতে সহায়ক হতে পারে।বগুড়া একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও প্রশাসনিক শহর। এই শহরের স্বাভাবিক গতিশীলতা ধরে রাখতে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ, পরিকল্পিত যানবাহন চলাচল এবং নাগরিক সচেতনতা। জীবিকা ও নগরবাসীর স্বাচ্ছন্দ্য—দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করা এখন সময়ের দাবি।বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের ম্যাজিস্ট্রেটগণ জানান, শহরের যানজট নিরসন, ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে নিয়মিত অভিযান ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করছি এবং করা হবে। তবে কাউকে হয়রানি নয়, বরং জনস্বার্থ ও জীবিকার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে সবার সহযোগিতায় একটি সুশৃঙ্খল নগর পরিবেশ গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।

বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক এমআর ইসলাম স্বাধীন বলেন, বগুড়া শহরের যানজট নিরসন এবং নাগরিকদের স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচল নিশ্চিত করা আমাদের অন্যতম অগ্রাধিকার। অটোরিকশা চালক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা আমাদের নগর অর্থনীতিরই অংশ। তাই কাউকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে সবার জীবিকা ও নাগরিক সুবিধার মধ্যে সমন্বয় করতে চাই। এ লক্ষ্যে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, ফুটপাত পথচারীদের জন্য উন্মুক্ত রাখা, যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং পরিকল্পিত পার্কিং ব্যবস্থা গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। একটি পরিচ্ছন্ন, যানজটমুক্ত ও বাসযোগ্য বগুড়া শহর গড়ে তুলতে আমরা নগরবাসীর সহযোগিতা কামনা করছি।গণপূর্ত ও গৃহায়ন মন্ত্রণালয় সংসদীয় স্থায়ী কমিটি এবং সংসদ সদস্য, বগুড়া সদর-০৬ আসনের এমপি রেজাউল করিম বাদশা বলেন, বগুড়া শহরের যানজট নিরসন এখন সময়ের দাবি। অটোরিকশা চালক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জীবিকার বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই পরিকল্পিতভাবে যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ, ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি নগরবাসীকেও সচেতন ও সহযোগিতাপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে। আমরা একটি সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও যানজটমুক্ত বগুড়া শহর গড়ে তুলতে চাই।