নওগাঁর পত্নীতলায় খাদ্য কর্মকর্তাকে ফাঁসাতে মরিয়া একটি চক্র
নওগাঁর পত্নীতলায় খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসিএলএসডি) মো. গোলাম মোস্তফা’কে ফাঁসাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে একটি চক্র। অনৈতিক সুযোগ সুবিধা না পাওয়ায় চক্রটি অপতথ্য ছড়িয়ে সাংবাদিকদের দিয়ে মনগড়া মিথ্যা ও বানোয়াট সংবাদ প্রকাশ করাচ্ছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। এক্ষেত্রে সহযোগীতা নেয়া হচ্ছে কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তার (এআই)। বিষয়টি নিয়ে খোদ বিব্রত পত্নীতলার খাদ্য বিভাগ।
তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, চলতি বোরো মৌসুমে ৩৪৫ জন কৃষকের থেকে ১ হাজার ৬ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহের বরাদ্দ পেয়েছিলো পত্নীতলা খাদ্য গুদাম। ইতিমধ্যে ধান সংগ্রহের লক্ষমাত্রা অর্জিত হয়েছে। এ সংগ্রহ কার্যক্রমের শুরু থেকেই একটি চক্র খাদ্য গুদাম সংরক্ষিত এলাকা হওয়া সত্বেও বার বার প্রবেশ করার চেষ্টা করেছে। কৃষক না হওয়া সত্ত্বেও জোরপূর্বক চেষ্টা করেছে ধান দেওয়ার। এতে বাঁধা দিতে গেলে বাঁধে বিপত্তি। স্থানীয় এ প্রভাবশালী চক্রের মুখোমুখি দাঁড়াতে গিয়ে বার বার হুমকির শিকার হন পত্নীতলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসিএলএসডি) মো. গোলাম মোস্তফা।
সম্প্রতি সংগ্রহ অভিযানের শেষের দিকে এসে অনৈতিক সুবিধা না পাওয়ায় নতুন করে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয় চক্রটি। সাংবাদিকদের কাছে সরবরাহ করা হয় কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) মাধ্যমে তৈরীকৃত একটি ভুয়া অডিও রেকর্ড। অভিযোগ তোলা হয় কৃষকদের থেকে ধান কেনার বিনিময়ে ঘুষের। এই ঘুষের টাকা খাদ্য বিভাগের উর্ধ্বতনদের কাছে পৌঁছায় এমনটিও অভিযোগ তোলেন চক্রটি। যার প্রেক্ষিতে একটি পত্রিকার প্রতিনিধি তাদের ডিজিটাল প্লাটফর্মে বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপন করে সংবাদও প্রকাশ করেন। তবে পরবর্তীতে প্রকৃত বিষয়টি সামনে এনে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে ব্যাখ্যা দেন পত্নীতলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসিএলএসডি) মো. গোলাম মোস্তফা।
কৃষক লুৎফুর রহমান ও জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, আমরা খাদ্য গুদামে ধান দিয়ে নায্য দাম পেয়েছি। সরাসরি ধান দেওয়ার সুযোগ থাকায় কাওকে এক পয়সাও ঘুষ দিতে হয়নি। উল্টো আমাদের মতো ধান দিতে আগ্রহী কৃষকদের সহযোগীতায় সেখানে হেল্প ডেক্স স্থাপন করেছিলো খাদ্য বিভাগ। গুদাম ছিলো পুরোপুরি দালালমুক্ত।
মোহাম্মদ আনিসুর রহমান সুজন নামে আরেক কৃষক বলেন, খাদ্য গুদামের ভেতরে ধান দেওয়ার নিয়ম জানতে গেলে হেল্প ডেক্স থেকে তথ্য নিয়ে বেরিয়ে আসার সময় রাস্তায় কয়েকজন দালাল আমার কার্ড দিয়ে ধান দেওয়ার জন্য অনৈতিক আবদার করেছিলো। আমি পুরোপুরি না করে দিয়েছি। পরে ধান দিতে গিয়ে দেখেছি ওই দালালরা বাহিরে ঘুরঘুর করলেও কেউই ভেতরে ফায়দা করতে পারছিলো না। নায্য দাম পেয়েছি। সরকার আমাদের পাশে দাঁড়ানোয় আমার মতো কৃষকরা এখনো টিকে আছে।
সার্বিক বিষয়ে কথা হলে পত্নীতলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসিএলএসডি) মো. গোলাম মোস্তফা বলেন, এখানে কৃষকের বাহিরে কোন ব্যবসায়ীর ধান দেওয়ার সুযোগ নেই। কৃষি কার্ডধারী এবং কৃষি বিভাগ কর্তৃক প্রত্যয়নপ্রাপ্ত কৃষকরাই এখানে সরাসরি ধান সরবরাহ করেছেন এবং কৃষকরা নিজ নিজ ব্যাংক একাউন্টে ডব্লিউকিউএসসি (ওজন মান মজুদ সনদ) এর মাধ্যমে ধান বিক্রির টাকা পেয়েছেন। এরপরেও সফল সংগ্রহ অভিযানকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে এবং আমার সুনাম নষ্ট করতেই একটি পক্ষ মনগড়া ও ভিত্তীহিন সংবাদ প্রচার করিয়েছেন।
পত্নীতলা উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) আমিনুল কবির বলেন, কৃষকদের নায্যমূল্য দেওয়ার লক্ষে আমরা ধান সংগ্রহ করে থাকি। সংগ্রহে অভিযানে কৃষকদের যাচাই বাছাইয়ে কৃষি বিভাগের সহযোগীতা নেওয়া হয়। তাই কৃষকদের বাহিরে অন্য কারোর ধান দেওয়ার সুযোগ খাদ্য গুদামে নেই। নগদ টাকার কোন ধরনের লেনদেন এলএসডিতে হয় না।
