একদিকে যমুনার নাব্যতা সংকট অপরদিকে জেগে ওঠা চরে স্বপ্ন বুনছেন চরাঞ্চলের কৃষক
বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলায় যমুনায় জেগে ওঠা উর্বর পলিমাটিযুক্ত জমিতে পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হবে এমন আশায় স্বপ্ন বুনছেন চরাঞ্চলের কৃষক। একসময় চরে কোন চাষাবাদ তেমন হয়তো না। এখন যমুনার বিস্তীর্ণ চরজুড়ে দেখা মিলছে পেঁয়াজের আবাদ। চলাঞ্চলের পেঁয়াজ জেলা উপজেলার চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে যাচ্ছে ।জানাযায়, প্রতি বছর ভরা বর্ষায় চরে অনেক পলি জমে। সেই পলি পেঁয়াজ ক্ষেতে সার হিসেবে কাজে দেয়। পেঁয়াজ চাষে সার বেশি লাগে না। বাজারে পেঁয়াজের সংকটের কারণে বেশি দামে পেঁয়াজ বিক্রি হওয়ায় চরাঞ্চলের কৃষকরা অন্যান্য ফসলের চেয়ে পেঁয়াজ চাষে বেশি আগ্রহী। অনুকূল আবহাওয়া এবং রোগবালাই কম থাকায় এবারে পেঁয়াজের বাম্পার ফলনের আশা করছেন চরের কৃষকরা। ন্যায্য বাজার মূল্যের নিশ্চয়তা পেলে চরে পেঁয়াজ চাষ আরও বৃদ্ধি পাবে বলে কৃষকরা জানিয়েছেন।
সারিয়াকান্দি কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে এবার উপজেলায় পেঁয়াজ উৎপাদরে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৬'শ হেক্টর জমিতে। এ পর্যন্ত পেঁয়াজ রোপন করা হয়েছে ১হাজার ৬'শ ১০ হেক্টর জমিতে। কন্দ থেকে উৎপাদন হয়েছে ১০ হেক্টর। ফলন হয়েছে পার হেক্টর ১৪ মেট্রিক টন। সরেজমিনে উপজেলার ধাপের চরে গিয়ে দেখা যায়, তাহের প্রামাণিক আর্থিকভাবে স্বাবলম্বি হওয়ার আশায় পেঁয়াজের পরিচর্যা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তিনি চর জেগে ওঠা ১০ বিঘা জমিতে পিঁয়াজের আবাদ করেছেন।
তিনি বলেন, আমি ১০ বিঘা জমিতে পিঁয়াজের আবার করেছি, এখন পর্যন্ত ২ লক্ষ টাকার বেশি খরচ হয়েছে। আশা করি আল্লাহ্ কোন বিপদ আপদ না দিলে প্রতি বিঘায় ৬০ থেকে ৭০ মন পিঁয়াজ পাব। ভালো ফলোন হলে ১'শ মন পর্যন্ত পাওয়া যায়। পিঁয়াজ রোপন করার পর উপজেলা কৃষি অফিস থেকে আমাকে পরামর্শ দিয়েছে । সেই পরামর্শের অনুযায়ী পরিচর্যা চালিয়ে যাচ্ছি । তাতে ভালো রেজাল্ট পাওয়া যাচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আমি ৬০০ থেকে ৭০০ মন পিঁয়াজ পাওয়া আশা করছি । বাজার মূল্য ভালো পেলে খরচা বাদ দিয়ে ৬ থেকে ৭ লক্ষ টাকা লাভবান হব।
সারিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি অফিসার মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ জানা, আগে চরের জমি পড়ে থাকতো তেমন কোনো চাষাবাদ হতো না। এখন সেখানে বিভিন্ন ধরনের ফসল ফলছে। আমাদের প্রনোদনা আওতায় এই উপজেলায় ২০ জন কৃষককে পিঁয়াজের বীজ বিতরণ করা হয়েছে। চলতি মৌসুমে এবার উপজেলায় পেঁয়াজ উৎপাদরে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৬০০ হেক্টর জমিতে। এ পর্যন্ত পেঁয়াজ রোপন করা হয়েছে ১৬১০ হেক্টর জমিতে। কন্দ থেকে উৎপাদন হয়েছে ১০ হেক্টর। ফলন হয়েছে পার হেক্টর ১৪ মেট্রিক টন।
