দুপচাঁচিয়ায় সোনালি স্বপ্ন বুকে নিয়ে রোপা আমন চাষে ব্যস্ত কৃষক
শ্রাবণ মাস এলেই বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে শুরু হয় রোপা আমন ধান রোপণের ব্যস্ততা। সোনালি ফসলের স্বপ্ন বুকে নিয়ে ভোর থেকে সন্ধ্যা, কোথাও কোথাও রাত পর্যন্ত নিরলস পরিশ্রম করছেন কৃষকরা। ঘন ঘন বৃষ্টিতে দম ফেলার সময় নেই তাদের। কে কার আগে জমিতে ধানের চারা রোপণ করবেন এ নিয়ে প্রতিযোগিতা চলছে উপজেলার মাঠে মাঠে।উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কেউ ট্রাক্টর দিয়ে জমি চাষ করছেন, কেউ বীজতলা থেকে চারা তুলছেন, কেউ বা কোমর সমান কাদামাটিতে নেমে ধানের চারা রোপণে ব্যস্ত। আবার অনেকে জমি পরিষ্কার ও পরিচর্যার কাজ করছেন। শ্রাবণের বৃষ্টিতে মাঠে পর্যাপ্ত পানি জমে থাকায় রোপা আমন ধানের রোপণ কাজ পুরোদমে চলছে।
গ্রামীণ জনপদে বইছে উৎসবের আমেজ। কৃষকদের আশা, প্রকৃতির অনুকূল পরিবেশ বজায় থাকলে এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে চলতি মৌসুমে ভালো ফলনের মাধ্যমে সোনালি স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেবে। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি রোপা আমন মৌসুমে দুপচাঁচিয়া উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভায় মোট ১১ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে ৬০০ হেক্টর জমিতে বীজতলা প্রস্তুত করা হয়েছে।এ উপজেলার কৃষকরা স্থানীয় জাতের ধান স্বর্ণা ৫ , রনজিত ও কাটারি ধানের পাশাপাশি বিনা -৭,বিনা-১৭,বিনা -২২,বিনা-২৬ এবং ব্রি ধান-৩৪, ব্রি ধান-৮৭, ব্রি ধান-৯০, ব্রি ধান-৯৩, ব্রি ধান-৯৪ , ধান-৯৫ এবং ব্রি ধান-১০৩ জাতের চারা রোপণ করছেন। স্থানীয় কৃষকদের পাশাপাশি বিভিন্ন জেলা থেকে আসা শ্রমিকরাও মাঠে কাজ করছেন।
শিপুর গ্রামের কৃষক এমদাদুল হক বলেন, সময়মতো বৃষ্টির দেখা পাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে স্বস্তি দেখা দিয়েছে।এ সময়টি আমন চাষের জন্য উপযুক্ত। এ মৌসুমে সার ও কীটনাশকের পর্যাপ্ত সরবরাহ আছে। আমি স্বর্ণা-৫, রনজিত ও বিনা -১৭, প্রভৃতি উচ্চ ফলনশীল জাতের ধান রোপণ করছি।উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মুহাম্মদ সাইফুল আবেদীন বলেন, “আমরা রোপা আমন ধান চাষে কৃষকদের সব ধরনের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। আমাদের মাঠ পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক কৃষকদের খোঁজ খবর রাখছেন এবং লাইন-লোগো পদ্ধতিতে ধানের চারা রোপণে কৃষি বিষয়ক পরামর্শ দিচ্ছেন।ইতি মধ্যে প্রায় ১হাজার হেক্টর জমিতে রোপণ করা হয়েছে।আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে।”
