মাঠে খেলা গড়ানোর আগে হামলার শিকার চেলসি সমর্থকরা
গতকাল রাত ২টায় চ্যাম্পিয়নস লিগের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মাঠে নেমেছিল নাপোলি ও চেলসি। ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয় নাপোলির ঘরের মাঠ ডিয়েগো আরমান্দো মারাদোনা স্টেডিয়ামে। হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে নাপোলিতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচ খেলতে গিয়ে ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মুখে পড়েছেন চেলসির একদল সমর্থক। দ্য টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নাপোলির উগ্র সমর্থক গোষ্ঠী 'আল্ট্রা'-দের হামলায় স্ক্রু ড্রাইভার দিয়ে ছুরিকাঘাতে আহত হয়েছেন এক চেলসি সমর্থক। আদম নামের এক সমর্থক তার বন্ধু মার্কাসের ওপর চালানো ঐ হামলার বিভীষিকাময় মুহূর্তের বর্ণনা দিয়েছেন। নাপোলির বিপক্ষে চেলসির চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ম্যাচ দেখতেই প্রথমবারের মতো বন্ধু মার্কাসকে নিয়ে নেপলসে আসেন তারা। মঙ্গলবার রাতে নেপলস বন্দরের কাছাকাছি একটি পাশের রাস্তায় সাত জন চেলসি সমর্থকের একটি দলের ওপর হামলা চালানো হয়। পালানোর সময় মার্কাসের পায়ে স্ক্রু ড্রাইভার দিয়ে আঘাত করা হয়। দলের আরেকজন সমর্থকের কোট ধারালো অস্ত্র দিয়ে কেটে দেওয়া হয়।
ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে ২৩ বছর বয়সী আদম বলেন, 'আমরা সাতজন একসঙ্গে পিৎজা খেয়ে দুটি পাবে গিয়েছিলাম। আমাদের কেউই চেলসির রং বা কোনো ক্লাবের জার্সি পরিনি, এমনকি গানও গাইছিলাম না। তখন অন্য একটি পাবে যাওয়ার পথে একটি পাশের রাস্তায় ঢুকতেই প্রায় ৩০ জন আল্ট্রার মুখোমুখি হই। তারা নাপোলির জার্সি পরেনি, অনেকের মুখ ঢাকা ছিল। তারা চিৎকার করে জিজ্ঞেস করতে থাকে, 'তোমরা কোথা থেকে এসেছ?' তখনই আমরা বুঝে যাই পরিস্থিতি বিপজ্জনক।'
আদমের ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েকজন আল্ট্রা সামনে এগিয়ে এসে হঠাৎ করেই মার্কাসের ওপর হামলা চালায়। সে বুঝে ওঠার আগেই তার পায়ে স্ক্রু ড্রাইভার দিয়ে আঘাত করা হয়। মুহূর্তটা ছিল ভয়ংকর। মনে হচ্ছিল, আমাদের সবাইকে ছুরিকাঘাত করা হবে।' হামলার পর প্রায় দেড় মাইল দৌড়ে পালাতে হয় তাদের। কয়েকজন হামলাকারী তাড়া করলেও সৌভাগ্যক্রমে তারা পুলিশের একটি টহল দলের মুখোমুখি হন। পুলিশ দ্রুত অ্যাম্বুলেন্স ডেকে মার্কাসকে হাসপাতালে পাঠায়। ভোর ৪টার দিকে তারা হাসপাতাল থেকে ছাড়া পান। চেলসি ক্লাব বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে, দুই সমর্থক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তাদের আঘাত প্রাণঘাতী নয়। ম্যাচের দিন ২ হাজার ৫০০ চেলসি সমর্থককে পুলিশি পাহারায় বিনা মূল্যে শাটল সার্ভিসে করে স্টেডিয়ামে নেওয়া হয়। উয়েফার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও নাপোলি ক্লাব মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। আদম বলেন, এই ঘটনায় আমরা দুজনই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি। ভবিষ্যতে ইউরোপের কোনো শহরে খেলা দেখতে যাওয়ার আগে আমাকে দুবার ভাবতে হবে।
