Joy Jugantor | online newspaper

বুয়েটে ছাত্রলীগের কর্মসূচি, যা বলছে সাধারণ জনগণ

ডেস্ক রির্পোট

প্রকাশিত: ১০:২৮, ১৫ আগস্ট ২০২২

বুয়েটে ছাত্রলীগের কর্মসূচি, যা বলছে সাধারণ জনগণ

সংগৃহীত ছবি

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) ছাত্রলীগের সাবেক নেতাদের ব্যানারে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠান করায় প্ল্যাকার্ড হাতে অডিটরিয়ামের সামনে বিক্ষোভ করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

গত শনিবার (১৩ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টার দিকে বুয়েট সেমিনার হলে ছাত্রলীগের সাবেক নেতাদের ব্যানারে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। তবে সভা শুরুর পরপরই এর প্রতিবাদে বিক্ষোভ করার সিদ্ধান্ত নেন বুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

বিষয়টি জানতে পেরে দ্রুত অনুষ্ঠান শেষ করে সেখান থেকে চলে যান ছাত্রলীগের সাবেক নেতারা। এরপর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বুয়েটের শহীদ মিনারে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ শুরুর কিছুক্ষণ পর বুয়েট ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আমরা শুধুমাত্র জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যদের জন্য দোয়া করতে আসছি।’

এসময় শিক্ষার্থীরা বলেন, বঙ্গবন্ধুকে আমরা সবাই ভালোবাসি। বঙ্গবন্ধু সবার। ওনার জন্য দোয়া করতে ছাত্রলীগের ব্যানার কেন ব্যবহার করতে হবে? বিশ্ববিদ্যালয় তো বঙ্গবন্ধুর জন্য দোয়ার অনুষ্ঠান করতো।

শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘শোক দিবস পালন নিয়ে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। আমাদের আপত্তি ব্যানারে ছাত্রলীগ শব্দ ব্যবহারে।’

এসময় বুয়েটের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আমরা জানি বুয়েটে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ। আমাদের প্রোগ্রামে ছাত্রলীগের কোনো বর্তমান শিক্ষার্থী ছিলেন না। সবাই সত্তর-আশির দশকের নেতা। আমরা সবাই সাবেক।’

এসময় শিক্ষার্থীরা বলে ওঠেন, সাবেক ছাত্রলীগ নেতারাই আবরার ভাইকে হত্যা করেছেন। আপনারাই আবরার ভাইকে হত্যা করেছেন। এসময় শিক্ষার্থীরা সাবেক ছাত্রলীগ নেতাদের উদ্দেশে ‘খুনি খুনি’ বলে স্লোগান দেন। বাধ্য হয়ে ছাত্রলীগের সাবেক ওই সাধারণ সম্পাদক দুই হাত তুলে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

ছাত্ররাজনীতি আইনত নিষিদ্ধ থাকার পরও কেন অনুষ্ঠানের অনুমতি দেয়া হলো তার জবাব চায় সাধারণ শিক্ষার্থীরা। ছাত্ররাজনীতি ক্ষমতার অপব্যবহারে কুলুষিত। এ ধরনের কর্মসূচি হলে আগামীতে কঠোর আন্দোলনে যাবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

জানা যায়, ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর বুয়েটের শেরেবাংলা হল থেকে তড়িৎ ও ইলেকট্রনিকস প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরার ফাহাদকে হত্যা করা হয়। হত্যাকা-ের পর ২০১৯ সালের ১১ অক্টোবর বুয়েটে ছাত্র-শিক্ষকদের সব ধরনের রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়। এরপর থেকেই সোস্যাল মিডিয়ায় চলছে এ নিয়ে সমালোচনা।

রাসেল মোহাম্মদ নামে একজন ফেসবুকে লিখেছেন, শিক্ষাঙ্গনে কোনো রাজনীতি চাই না। সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনীতি এবং রাজনৈতিক কার্যকলাপ সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হোক। শিক্ষার্থীদের আবার রাজনীতি কিসের। তারা শুধু পড়াশোনা নিয়ে ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করুক।

সুজন মোহাম্মদ নামে একজন লিখেছেন, তারা সাধারণ শিক্ষার্থী নয়। বরং তারা জামায়াত শিবিরের এজেন্ট।

মোফাজ্জল হোসাইন নামে একজন লিখেছেন, বুয়েটের মতো দেশের সব বিশ^বিদ্যালয়ে ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করা হোক।

রাইসুজ্জামান রাইস নামে একজন লিখেছেন, সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করা হোক। যে ছাত্র রাজনীতি অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলতে পারে না। অর্থ আয় হয় যায় মূল উদ্দেশ্য, সে রাজনীতির দরকার কি?

ইবরাহীম চৌধুরী নামে একজন লিখেছেন, সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বার্থে যে কোনো বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ছাত্র রাজনীতি থাকা প্রয়োজন, কারণ আজকের ছাত্ররাই আগামীতে দেশের নেতৃত্ব দিবে, যে বা যারা বুয়েট ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতির বিরোধিতা করবে তারা দেশ ও জাতির মঙ্গল চায় না।

মাসুদ আলম নামে একজন লিখেছেন, রুখে দাঁড়াও বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, বুয়েটে জামাত শিবির আস্তানা করে ফেলেছে।

মো. রায়হান নামে একজন লিখেছেন, যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জাতির পিতার শোক আলোচনা বাধাগ্রস্ত হয়, সেই প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে দরকার নেই।

মো. রহমত উল্লাহ নামে একজন লিখেছেন, দেশ থেকে ছাত্রলীগকে বয়কট করা হোক।

মো. জাহিদ হাসান নামে একজন লিখেছেন, মাফিয়া মুক্ত দেশ চাই, ডাকাত মুক্ত সমাজ চাই, দুর্নীতি মুক্ত প্রশাসন চাই, রাজনীতি মুক্ত শিক্ষাঙ্গন চাই।

মো. ইমরুল আজিম নামে একজন লিখেছেন, বুয়েটের মতো দেশের সকল গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাঙ্গনে ছাত্র রাজনীতি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রাখা হোক। যারা আমাদের এই গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাঙ্গনগুলোতে তাদের কালো নিঃশ্বাসের করাল গ্রাসে দূষিত করতে চায় তাদের এভাবেই প্রতিহত করা হোক। আবেগের ছত্রছায়ায় নিয়মের বাইরে গিয়ে তারা আসলে বঙ্গবন্ধুকেই অপমানিত করেছে। তাদের এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত পূর্বক যথাযথ পদক্ষেপ নেয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি।

আর এইচ রায়হান নামে একজন লিখেছেন, বুয়েটে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে স্লোগান মানে, স্বাধীনতার বিরুদ্ধে স্লোগান, বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে স্লোগান। বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হোক।

কে এম আব্বাস নামে একজন লিখেছেন, ছাত্রলীগকে শুধু বুয়েটে নয় সারা বাংলাদেশে নিষিদ্ধ করা হোক। তারপর শহীদ আবরার ফারহাদের বিদেহী আত্মা শান্তি পাবে।