ডাঃ মোঃ রমজান সরকার (সাজ্জাদ সাঈফ)
দেশের সর্ব ধর্ম শ্রেণি পেশার জনগণের জন্য সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা কার্যকরের লক্ষ্য নিয়ে শেখ হাসিনার জুলুম নির্যাতনের শাসনকাল হতেই কাজ করে আসছে বিএনপি। জিয়া পরিবারের সুযোগ্য উত্তরাধিকার জনাব তারেক রহমান নির্বাসিত লন্ডনবাসের সময়ে একটি মুহূর্তের জন্য দেশের সমগ্র মজলুম গণমানুষ ও নির্যাতিত নিপীড়িত নেতাকর্মীদের যে ভুলে যান নাই তা তার দূরদর্শী সংযত সম্প্রীতিমূলক চলা বলা কাজে ও সাজে প্রমাণিত সত্য। বলাই বাহুল্য বিগত দীর্ঘ ফ্যাসিস্ট শাসনকালে দেশের প্রতিটি পাবলিক ও প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান কলুষিত বা ধ্বংস হয়েছে বিধায় তিনি সম্পূর্ণ ক্ষয়ক্ষতি পুষিয়ে দেশের টেকসই সার্বভৌমত্ব, সুবিচার, সুশাসন প্রতিষ্ঠায় দিনরাত মেধা ও শ্রম বিনিয়োগ করে চলেছেন সাধারণ একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসাবেই যার প্রমাণ সংবাদ সম্মেলনে বলা 'দয়া করে আমার নামের আগে মাননীয় বলবেন না' বক্তব্য ও জাতীয় স্মৃতিসৌধের পরিদর্শন বইয়ে নিজ পরিচয় হিসাবে 'রাজনৈতিক কর্মী'র পরিচয়কে উল্লেখে পরিস্কার হয়েছে।
সময়োপযোগী অনলাইন কার্যক্রমের সুযোগটিকে অন্য সব জনতার পাশাপাশি দেশের প্রান্তিক জনগণের নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করার টুলস হিসাবে ব্যবহার করে বিএনপি যতগুলি রাষ্ট্র সংস্কার পরিকল্পনা যাচাই বাছাই ও সম্পন্নকরণে এগিয়ে যাচ্ছে সব কিছু সরাসরি তারেক রহমানের সরাসরি নির্দেশনায় চলমান প্রক্রিয়া হিসাবে সবার দৃষ্টিগোচর হচ্ছে প্রতিনিয়ত। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় মুক্তিযুদ্ধের পর বাংলাদেশের মানুষের নাগরিক অধিকার বাস্তবায়নে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপগুলি সর্বপ্রথম শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের তত্ত্বাবধানে কার্যকর হতে শুরু করে যার প্রধানতম উদাহরণ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বলয়ে বাংলাদেশকে স্বনির্ভর ও স্বয়ংসম্পূর্ণ রাষ্ট্রে পরিণত করার উদ্দেশ্যে আন্তঃরাষ্ট্রীয় সু-সম্পর্ক চর্চায় সার্কের প্রতিষ্ঠা যার অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক সামাজিক অর্থনৈতিক মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান নিশ্চিত হতে শুরু করেছিল।
বেগম জিয়ার শাসনকালেও আমরা শিক্ষা স্বাস্থ্য যোগাযোগ ব্যবস্থা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সমৃদ্ধি নিয়ে নির্দিষ্ট সব নতুন কার্যক্রম বাস্তবায়নের উদাহরণ প্রতিনিয়তই পেয়েছি যারপরনাই দেশের মানুষের অশেষ শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে শুধুমাত্র দেশের মানুষের স্বার্থে আমৃত্যু নির্যাতিত এই বিরল মহিয়সী মা ইহজীবন থেকে বিদায় নিবার সৌভাগ্য অর্জন করেছেন এবং এটি পৃথিবীর ইতিহাসে আপোষহীন দেশপ্রেমের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে যুগের পর যুগ।ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হিসাবেই আমরা দেশ মাটি ও মানুষ নিয়ে একজন সুনাগরিক ব্যক্তি হিসাবে রীতিমতো ইতিহাস, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, ভৌগলিক অবস্থান, গণমানুষের মূল চাওয়া পাওয়াকে অধ্যয়ন করে সুস্পষ্ট সব পরিকল্পনা উপস্থাপন ও কার্যকরে উদ্যোগী হতে দেখা যাচ্ছে বাপকা বেটা জনাব তারেক রহমানকেই, হ্যাঁ একমাত্র তারেক রহমানকেই আর ঠিক একই কারণে তিনি নির্দিষ্ট বিশেষ গোষ্ঠীর জন্য গাত্রদাহেরও কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছেন। কিন্তু কিংবদন্তি পিতা মাতার মতই অবিচলতা ও অনড় ধৈর্য ও বিনয়ের সাথেই তিনি হাতে হাত রেখে সবাইকে নিয়েই দেশটা নতুন বাংলাদেশ করে তুলতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হিসাবেই প্রতীয়মান।
জুলাই অভ্যুত্থান একটা মাইলফলক, ঠিক ৭১ আর ৯০ যেমন। রাষ্ট্রের মূল স্টেক যেই জনতার সেই জনতার গণ আকাঙ্ক্ষা থেকেই ৭১, ৯০, ২৪ চিহ্নিত দেশাত্মবোধক সামগ্রিকতার স্মারক। আর বাংলাদেশের মাটি মানুষ ধর্ম মত শ্রেণী পেশা নির্বিশেষে সবার চাওয়া পাওয়া শহীদদের রক্তে রঞ্জিত হয়েছে জুলাই অভ্যুত্থানে। তারেক রহমান সেজন্যই সাম্প্রতিক বক্তব্যে কয়েকবার উল্লেখ করেছেন 'দেশকে ৫ই আগস্টের আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিবার সুযোগ নেই'। এর অর্থ স্পষ্টতই নতুন বাংলাদেশ, নতুন সমাজ ব্যবস্থা, নতুন রাষ্ট্রব্যবস্থা যাকে মোটাদাগে সিস্টেমের পুনর্গঠন যার জন্য সবার সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতেই তিনি ব্যক্ত করেছেন সবচেয়ে দরকারি উপলব্ধিটি আর তা হলো 'আমাদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকতে পারে কিন্তু তা যেন কোনোভাবেই মতবিভেদে পরিণত না হয়'... হ্যাঁ, সবার আগে বাংলাদেশের গণস্বার্থ, সবার আগে বাংলাদেশ, সবার সম্মিলিত বাংলাদেশ, আওয়ামী কৌশলের ভাইয়ে ভাইয়ে বিভাজন নয় ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ যেই বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হয়েছিল ৭৫ এর পটপরিবর্তনের মধ্য দিয়ে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে।
একইভাবে সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক সাংস্কৃতিক দর্শনের সবচেয়ে সৎ দেশপ্রেমিক সাচ্চা প্রতিচ্ছবি ও সোচ্চার তুখোড় তরুণ প্রজন্মের জন্য ইনসাফভিত্তিক কল্যাণ রাষ্ট্রের আইকন শহীদ ওসমান হাদীর আত্মদান নিয়ে কিছু গোষ্ঠী প্রতিনিয়ত রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে মরিয়া এর বিপরীতে বিএনপি কিন্তু শহীদ হাদীর রাজনৈতিক আত্মদান নিয়ে বিন্দুমাত্র রাজনীতি না করে বিচার ব্যবস্থার সংস্কারেই মনোযোগী যার দ্বারা যে কারো দেশবিরোধি কর্মকাণ্ডের সুষ্ঠু সুরাহা প্রশ্নাতীতভাবে সম্ভব হয়। এই সরকারের এজেন্ডা যেহেতু পরিস্কার নয় সেখানে বিএনপির পরিস্কার অবস্থান ন্যায় বিচার কায়েমের পক্ষে যা স্পষ্ট করে বাংলাদেশ বিরোধী কোনো ষড়যন্ত্রকে ছেড়ে কথা বলবেন না তারেক রহমান।
সুবিচারের প্রতি বিএনপির কৌশলগত অবস্থানও সমানভাবে সংস্কারের প্রস্তাবক যা সত্যিকার অর্থে কোনো নতুন ফ্যাসিজমের উত্থান রোধে সক্ষম। ঠিক একই দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক দর্শন হতেই বিএনপি জুলাই সনদে দ্বিধাহীনভাবে সাক্ষর করেছে। দেশপ্রেমিক প্রতিটি সচেতন বাংলাদেশি বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের প্রবক্তা ও রাখাল রাজা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের রাজনীতিকে যেভাবে বরণ করে নিয়ে চিরস্মরণীয় করে রেখেছেন আমরা বর্তমান সব প্রজন্মই নতুন বাংলাদেশ ও গণমানুষের রাজনীতি করতে গিয়ে সব হারানো নতুন একজন নেতৃত্বের অপেক্ষায় আছি যার কাজই প্রমাণ করবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুস্মরণীয় আরেকজন রাখাল রাজার আবির্ভাব হয়েছিল বাংলায়, ইনশাআল্লাহ।
