Joy Jugantor | online newspaper

বাজেট ঘাটতি মেটাতে ভরসা বিদেশি ঋণ 

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১৩:০৪, ১৯ আগস্ট ২০২২

বাজেট ঘাটতি মেটাতে ভরসা বিদেশি ঋণ 

প্রতীকী ছবি।

বাজেট ঘাটতি মেটাতে বিদেশি ঋণই এখন ভরসা। এই ঘাটতি মেটাতে বিদেশ থেকে ২ লাখ ৩৮ হাজার ২১০ কোটি টাকা ঋণ সহায়তা নেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিদেশি ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে আগামী দুই অর্থবছরে ব্যয় হবে ৪৩ হাজার কোটি টাকা। ডলারের অঙ্কে প্রতি বছর বিদেশি ঋণ পরিশোধে ব্যয় হবে ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি।

অর্থ বিভাগের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, আগামী ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে বিদেশি ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য ধরা হয়েছে এক লাখ ১২ হাজার ৭০ কোটি টাকা। এর পরের অর্থবছর অর্থাৎ ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে ঋণ নেওয়া হবে এক লাখ ২৬ হাজার ১৪০ কোটি টাকা। অন্যদিকে, চলতি ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে ঋণ নেওয়ার টার্গেট রয়েছে ৯৮ হাজার ৭৩০ কোটি টাকা।

এ বিষয়ে অর্থ বিভাগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বাজেটে মোট অর্থায়নে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে নেওয়া ঋণের অংশ মধ্য মেয়াদে ধীরে ধীরে কমবে এবং বৈদেশিক অর্থায়নের হার বাড়বে। ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে বৈদেশিক উৎস থেকে অর্থায়ন মোট অর্থায়নের ৪৫ শতাংশে পৌঁছাবে। আগামী তিন বছরে বৈদেশিক উৎস থেকে অনুদানের পরিমাণ সামান্য প্রবৃদ্ধির মধ্য দিয়ে যাবে। অপর দিকে, একই সময়ে বাৎসরিক ঋণ পরিশোধের পরিমাণ ক্রমেই বাড়তে থাকবে।

চলতি অর্থবছরে ঋণ পরিশোধে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৭ হাজার কোটি টাকা। আগামী ২০২৩-২০২৪ এবং ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে যা হবে যথাক্রমে ২০ হাজার ৪৬ কোটি টাকা এবং ২২ হাজার ৪৩০ কোটি টাকা। তবে বাজেটে বিদেশি ঋণের প্রক্ষেপণ যাই ধরা হোক, সেই হারে কিন্তু কখনও ঋণ পাওয়া সম্ভব হয়নি। যেমন সদ্য সমাপ্ত ২০২১-২০২২ অর্থবছরে বিদেশি নিট ঋণের লক্ষ্য ধরা হয়েছিল ৯৭ হাজার ৭৩৮ কোটি টাকা। কিন্তু বছর শেষে তা সংশোধন করে লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে ধরা হয় ৭৭ হাজার ২০ কোটি টাকা।

অর্থ বিভাগের একটি সূত্র জানায়, বিদেশি ঋণের জন্য এখন বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়ছি। এই দুই সংস্থা থেকে উল্লেখযোগ্য ঋণ পাওয়ার আশা করা হচ্ছে। যেমন আইএমএফের কাছ থেকে ব্যালেন্স অব পেমেন্ট স্থিতিশীল রাখতে আগামী তিন অর্থবছরে ৪৫০ কোটি ডলার পাওয়া যেতে পারে। বিশ্বব্যাংকের কাছেও বাজেট সহায়তায় ঋণ চাওয়া হবে। অনেকটা স্বল্প সুদে এ ঋণ পেলে ঘাটতি বাজেট বাস্তবায়নে সুবিধা হবে। একইসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ নিরাপদ জায়গায় পৌঁছানো সম্ভব হবে। সেটা নির্ভর করছে এসব ঋণ কতটা দ্রুত সময়ে পাওয়া যায় তার ওপর।

এদিকে, এখন স্বল্পসুদে ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে এক ধরনের অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে অর্থ বিভাগ বলছে, বাংলাদেশ বহু বছর ধরে স্বল্পসুদে নমনীয় শর্তে (কনসেশনাল) বৈদেশিক ঋণ পাওয়ার সুবিধা ভোগ করে আসছিল। তবে ২০১৫ সালে নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হওয়া বাংলাদেশ এখন ব্লেন্ডেড শর্তে বেশির ভাগ ঋণ নিচ্ছে, যার সুদের হার ও অন্যান্য শর্ত নমনীয় ঋণের চেয়ে কিছুটা বেশি হলেও আন্তর্জাতিক ঋণ বাজারের সুদের হারের চেয়ে কম। এতে বৈদেশিক ঋণের ব্যয় কিছুটা বেড়েছে। ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে বৈদেশিক ঋণের গড় অন্তর্নিহিত সুদ হার যেখানে ছিল শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ সেটি ২০২৪-২০২৫ অর্থবছর নাগাদ ১ দশমিক ৭ শতাংশে উন্নীত হবে বলে প্রক্ষেপণ করা হয়েছে।