Joy Jugantor | online newspaper

বগুড়া সদরে ইউএনওর সঙ্গে কার্যক্রম বন্ধের ঘোষণা চেয়ারম্যানের

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৭:২০, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২

আপডেট: ২১:৩০, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২

বগুড়া সদরে ইউএনওর সঙ্গে কার্যক্রম বন্ধের ঘোষণা চেয়ারম্যানের

ফাইল ছবি

বগুড়ার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনওর) সমর কুমার পালকে বদলি না করা পর্যন্ত তার সঙ্গে সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেছে উপজেলা চেয়ারম্যান। একই সঙ্গে ইউএনওর বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা অভিযোগ তুলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানানো হয়েছে। 

বগুড়া জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার বরাবর সোমবার দুপুরে এমন দাবি তুলে একটি লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়।

এই অভিযোগ দিয়েছেন সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আবু সুফিয়ান সফিক। অভিযোগপত্রে তিনি ছাড়াও দুই জন ভাইস চেয়ারম্যান ও ১১ টি ইউপি চেয়ারম্যান স্বাক্ষর করেন। 

অভিযোগ পত্রে উল্লেখ রয়েছে, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সমর কুমার পাল যোগদানের পরে থেকে পরিষদের সবার সঙ্গে স্বেচ্ছাচারিতামূলক আচরণ করে আসছেন। তিনি সময়মতো অফিস করেন না এবং সরকারি সিদ্ধান্ত অমান্য করে গভীর রাত পর্যন্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অফিসে থাকতে বাধ্য করেন। বিভিন্ন অফিসিয়ালি ফাইল আটকে রেখে অনৈতিক সুবিধা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। 

অভিযোগ পত্রে আরও বলা হয়, ইউএনও সমর কুমারের এমন বিষয় নিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান ও অন্যরা একাধিকবার তার সঙ্গে পরামর্শ করেছেন। কিন্তু তিনি তার এ স্বভাব বদলাননি।
এর মধ্যে ইউএনওর বিরুদ্ধে উপজেলা পরিষদের প্রকৌশল দপ্তরের নৈশপ্রহরী আলমগীর হোসেনকে মারধরের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় উপজেলা পরিষদের মর্যাদা ও শৃঙ্খলা ক্ষুন্ন হওয়ার দাবি করা হয় অভিযোগপত্রে। 

এ বিষয়ে সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আবু সুফিয়ান সফিক বলেন, ইউএনও সমর কুমার স্বেচ্ছাচারি ও বদমেজাজি। এসব অভিযোগে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের কাছে তার বদলির দাবি জানিয়েছি। তাকে বদলি না করা পর্যন্ত আমরা ইউএনওর সঙ্গে কোনো কাজ করা থেকে বিরত রেখেছি। 

তিনি আরও বলেন, পরিষদে নিজেদের যত কাজ আছে সেগুলো করা হবে। শুধু ইউএনওর সঙ্গে আমরা কোনো কাজ করব না। আজকেও পূজা নিয়ে মিটিং ছিল ইউএনওর। আমরা কেউ যাইনি।

তবে এসব অভিযোগকে ষড়যন্ত্রের অংশ বলে মনে করছেন সদর ইউএনও সমর কুমার পাল। তিনি বলেন, সব কিছু মিলে মনে হচ্ছে আমি একটা ষড়যন্ত্রের শিকার। আমি বগুড়া সদরে নয় মাস হলো এসেছি। এই সময়ে সব কাজ আমি সবাইকে নিয়ে মিলেমিশে করেছি। আজকের উপজেলা চেয়ারম্যানের অভিযোগ দেয়ার বিষয়টিও ওই ষড়যন্ত্রের অংশ।  

গত ২২ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় নৈশপ্রহরী আলমগীর হোসেনকে মারধরের অভিযোগ ওঠে সদর ইউএনও সমর কুমার পালের বিরুদ্ধে। ওই ঘটনায় বগুড়া জেলা প্রশাসন এক সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তদন্তের দায়িত্বভার দেয়া হয়েছে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সালাহ্উদ্দিন আহমেদকে। মারধরের এ বিষয়টিতে তদন্ত এখনও চলছে। 

অভিযোগপত্রটি পাওয়ার বিষয় স্বীকার করেছেন বগুড়া জেলা প্রশাসক মো. জিয়াউল হক। তিনি বলেন, আজকে সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউপি চেয়ারম্যানরা একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। সদরের ইউএনওর বিরুদ্ধে। বিভাগীয় কমিশনার মহোদয় বরাবর এই অভিযোগ দেয়া হয়। আমরা সেটি রিসিভ করেছি।