বগুড়ার ভবানীগঞ্জে ঝড়ে গাছ ভেঙে পড়ে মাদ্রাসা ক্ষতিগ্রস্ত, অল্পের জন্য রক্ষা পেল শিক্ষার্থীরা
বগুড়া সদর উপজেলার লাহিড়ীপাড়া ইউনিয়নের ভবানীগঞ্জে আকস্মিক ঝড়বৃষ্টিতে গাছ উপড়ে পড়ে ‘ভবানীগঞ্জ দারুল উলুম নূরানী হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও লিল্লাহ বোর্ডিং’-এর টিনশেড ভবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে আল্লাহর অশেষ রহমতে ক্লাস চলাকালীন ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনায় অল্পের জন্য প্রাণহানি থেকে রক্ষা পেয়েছে মাদ্রাসার কোমলমতি শিক্ষার্থীরা।এদিকে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন বগুড়া জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাফতুন আহম্মেদ খান রুবেল। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত ভবন ঘুরে দেখেন এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সার্বিক খোঁজখবর নেন।
পরিদর্শন শেষে মাফতুন আহম্মেদ খান রুবেল বলেন, "ঝড়বৃষ্টির প্রভাবে বহু বছরের পুরোনো বিশালাকার গাছটি উপড়ে পড়ে মাদ্রাসার ভবনটি লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। আল্লাহর অশেষ রহমত যে কোমলমতি শিশুদের কোনো ক্ষতি হয়নি। দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এই ক্ষয়ক্ষতি অত্যন্ত দুঃখজনক। অত্যন্ত দ্রুত সময়ের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত টিনশেড কক্ষ পুনরায় সংস্কার, মেরামতের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা এবং ক্ষয়ক্ষতি পুনর্গঠনে মাননীয় সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা এমপির পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।"
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ জানায়, এই আকস্মিক দুর্ঘটনায় মাদ্রাসার দুটি পাকা টিনশেড কক্ষ এবং ভেতরে থাকা দুটি মোটরসাইকেলসহ কয়েক লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে ক্লাস চলাকালীন হঠাৎ তীব্র ঝড়বৃষ্টি শুরু হয়। একপর্যায়ে মাদ্রাসার পেছনে থাকা প্রায় ৭০-৮০ বছরের পুরোনো একটি বিশালাকার সেগুন গাছ ভেঙে সরাসরি টিনশেড ভবনের ওপর পড়ে। এতে ভবনের ছাদ ধসে পড়ে এবং ভেতরে থাকা হিফজ বিভাগের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা আতঙ্কিত হয়ে আটকা পড়ে।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে ছুটে যান লাহিড়ীপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার আবু নাসের আপেল মাহমুদ। তার নেতৃত্বে গ্রাম পুলিশ ও স্থানীয় যুবসমাজ দ্রুত উদ্ধার অভিযান চালিয়ে অবরুদ্ধ শিক্ষার্থীদের নিরাপদে উদ্ধার করে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে যায়।এ বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার আপেল মাহমুদ জানান, "আমরা খবর পাওয়ার পরপরই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে গ্রাম পুলিশ ও স্থানীয় যুবকদের সহায়তায় শিশুদের অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করতে পেরেছি। দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। মহান আল্লাহর অসীম দয়ায় শিশুরা সম্পূর্ণ নিরাপদে রয়েছে।"
