Joy Jugantor | online newspaper

দালালের খপ্পরে সব হারিয়ে মালয়েশিয়ায় প্রাণ গেল রফিকের,

শেরপুরে শোকের ছায়া

শেরপুর(বগুড়া) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৯:৪৯, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শেরপুরে শোকের ছায়া

দালালের খপ্পরে সব হারিয়ে মালয়েশিয়ায় প্রাণ গেল রফিকের, শেরপুরে শোকের ছায়া

অভাব-অনটনের সংসারে একটু স্বচ্ছলতা ফেরানোর স্বপ্নে ভিটামাটি বিক্রি করে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন রফিকুল ইসলাম (৪৫)। কিন্তু ভাগ্যের চাকা ঘোরা তো দূরের কথা, প্রতারক দালালের খপ্পরে পড়ে একে একে হারিয়েছেন শেষ সম্বলটুকু। শেষ পর্যন্ত বিদেশে নির্মম শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে প্রাণ হারিয়েছেন তিনি।শুক্রবার সকাল ৯টায় যখন রফিকুলের মরদেহ জন্মমাটি বগুড়ার শেরপুর উপজেলার খামারকান্দি ফারাজী পাড়া গ্রামে এসে পৌঁছায়, তখন কান্নার রোলে পুরো এলাকার আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। রেখে যাওয়া এক ছেলে, এক মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে এখন অথৈ সাগরে পড়েছেন তার পরিবার। মৃত রফিকুল ইসলাম শেরপুর উপজেলার খামারকান্দি ইউনিয়নের ফারাজী পাড়া গ্রামের মৃত ইউসুফ আলীর ছেলে।নিহতের ছেলে শাহরিয়ার নাফিসসহ পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সংসারের দারিদ্র্য ঘোরাতে জমি বিক্রি ও চড়া সুদে ঋণ নিয়ে বিদেশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন রফিকুল।

একই গ্রামের দালাল নাসিমা খাতুন, তার স্বামী সাইফুল ইসলাম, মেয়ে সোনিয়া আক্তার ও মেয়ের জামাই মুসা তাকে ভালো চাকরির প্রলোভন দেখান। তবে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর পর রফিকুল জানতে পারেন, তাকে আকামা বা ওয়ার্ক পারমিট নয়, বরং ৩ মাসের ট্যুরিস্ট ভিসায় পাঠানো হয়েছে।ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পর রফিকুল মালয়েশিয়ায় পুলিশের ভয়ে দিনের পর দিন পালিয়ে বেড়াতে থাকেন। এ বিষয়ে অভিযুক্ত দালাল নাসিমা খাতুন ও তার জামাই মুসার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা চাকরি দেওয়ার কথা বলে রফিকুলের পরিবারের কাছ থেকে আরও ১ লাখ ২০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়।টাকা নেওয়ার পরও রফিকুলকে কোনো চাকরি দেওয়া হয়নি। উল্টো তার পাসপোর্ট ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র কেড়ে নিয়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। দিনের পর দিন এই অমানবিক টর্চার সহ্য করতে না পেরে অসুস্থ হয়ে মালয়েশিয়ায় মৃত্যুবরণ করেন রফিকুল।

পরবর্তীতে পরিবারের আপ্রাণ চেষ্টায় তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। শুক্রবার সকালে রফিকুলের মরদেহ গ্রামে পৌঁছানোর খবর ছড়িয়ে পড়লে অভিযুক্ত দালাল পরিবার বাড়ি তালাবন্ধ করে দেয়।রফিকুলের স্ত্রী স্বপ্না খাতুন বলেন, আমগোর শেষ সম্বল জমিটুকু বেইচা আর ঋণ কইরা টাকা দিছিলাম। শেষ পর্যন্ত আমার জামাইটারে দালালরা মিছা কথা বইলা নিয়া মাইরা ফেললো। এখন আমি এই দুইডা এতিম ছাওয়াল-মিয়া নিয়া কোনহানে দাঁড়ামু?এ বিষয়ে স্থানীয়দের ক্ষোভ তুঙ্গে। তারা অবিলম্বে অভিযুক্ত প্রতারক চক্র নাসিমা খাতুন, সাইফুল ইসলাম, সোনিয়া ও মুসাকে দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্তদের বাড়িতে গেলে সাংবাদিকের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হয়নি। এ শেরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ এস এম মঈনুদ্দীন বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।