Joy Jugantor | online newspaper

রাগ থেকেই রোজগারের পথ: হাঁস পালন করে মাসে আয় ৩ লাখ টাকা

শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৯:৩০, ২৩ আগস্ট ২০২৬

রাগ থেকেই রোজগারের পথ: হাঁস পালন করে মাসে আয় ৩ লাখ টাকা

রাগ থেকেই রোজগারের পথ: হাঁস পালন করে মাসে আয় ৩ লাখ টাকা

আজ থেকে ১২ বছর আগে হাঁস খাওয়ার জন্য গ্রামের এক প্রতিবেশির কাছে হাঁস কিনতে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু প্রতিবেশি হাঁসটি বিক্রি করতে রাজি হননি। সেই না-পাওয়ার রাগ আর ক্ষোভ থেকেই সিদ্ধান্ত নেন, নিজেই হাঁস পালন করবেন। সেই সিদ্ধান্তই আজ বদলে দিয়েছে তার জীবন। বর্তমানে মাত্র ২৪ শতাংশ জমিতে তিনি পালন করছেন প্রায় ৩ হাজার হাঁস, যেখান থেকে প্রতিদিন মিলছে দেড় হাজার ডিম, আর মাসে আয় হচ্ছে প্রায় ৩ লাখ টাকা। বলছিলাম বগুড়ার শেরপুর উপজেলার কুসুম্বি ইউনিয়নের দারুগ্রাম এলাকার মফিজ উদ্দিনের ছেলে ফজলুর রহমানের কথা।সরেজমিনে রোববার দুপুরে গিয়ে দেখা যায়, দারুগ্রামে প্রবেশ করতেই প্রথমে চোখে পড়ে ফজলুর রহমানের হাঁসের খামার। মাত্র ২৪ শতাংশ জমির একাংশে পুকুর, আরেক অংশে তৈরি করা হয়েছে হাস পালনের ঘর। এই সীমিত জায়গাতেই তিনি পালন করছেন প্রায় ৩ হাজার হাঁস।কথা হয় ফজলুর রহমানের সঙ্গে। তিনি জানান, সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তিনি নিজেই হাঁসগুলোকে ধান, শামুক ও ফিড খাওয়ান।

ধান কাটা-মাড়াই শেষ হয়ে জমি ফাঁকা থাকলে তখন হাঁসগুলো ছেড়ে দেওয়া হয় জমিতে। জমিতে ছেড়ে দিয়ে খাওয়ানোর সময়টাতে বাড়তি কোনো খরচ হয় না বলে জানান তিনি। তবে সেই সময় দেখভালের জন্য একজন সহযোগী রাখতে হয়। আর জমিতে ছেড়ে না দিলে একাই সব নিয়ন্ত্রণ করেন তিনি। ফজলুর রহমানের এই খামার থেকে প্রতিদিন উৎপাদিত হচ্ছে প্রায় দেড় হাজার ডিম, যা বিক্রি হচ্ছে ১৯ হাজার ৫০০ টাকায়। এই হিসাবে মাসে তার আয় দাঁড়ায় খরচ বাদে প্রায় ৩ লাখ টাকা। এছাড়া প্রতি ছয় মাসে একেকটি প্রজেক্ট শেষে খচর বাদ দিয়ে তিনি আয় করেন ১৫ থেকে ১৮ লাখ টাকা।এক সময় ফজলুর রহমানের সংসারে ছিল অভাব-অনটন। হাঁস পালন শুরু করার পর সেই চিত্র বদলে গেছে সম্পূর্ণভাবে। আজ তিনি সম্পূর্ণ স্বাবলম্বী, আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। 

দীর্ঘ ১২ বছর ধরে হাঁস পালন করলেও এই কাজে কখনো প্রাণিসম্পদ দপ্তরের দ্বারস্থ হতে হয়নি ফজলুর রহমানকে। নিজের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা দিয়েই তিনি হাঁসের চিকিৎসা দিয়ে আসছে। তার এই দক্ষতার কথা ছড়িয়ে পড়েছে আশপাশের এলাকাতেও। এখন বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ তার কাছে আসেন হাঁসের চিকিৎসা নিতে। একদিনের একটি প্রত্যাখ্যান থেকে জন্ম নেওয়া জেদ যে আজ একটি সফল ও লাভজনক উদ্যোগে রূপ নিতে পারে, ফজলুর রহমানের গল্প তারই এক জীবন্ত দৃষ্টান্ত। তার দেখাদেখি এখন হাস পালনে আগ্রহ বাড়ছে এলাকার বেকার যুবকদের। এ বিষয়ে  শেরপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতাল প্রাণিসম্পদ অফিসার ডাঃ মোঃ নিয়ায কাযমীর রহমান, এই উপজেলায় প্রায় ৫০টি হাঁসের খামারি রয়েছে। তবে বিভিন্ন সময়ে কমে এবং বাড়ে। তাদের নিয়মিত চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে  এবং পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে যেন রোগ-বালাই হয়ে একজন খামারি ক্ষতিগ্রস্থ না হয়।