‘আমাকে জিম্মি নয়, স্বামীই এক পরিচিত আপার কাছে রেখে যান’ সংবাদ সম্মেলনে মুখ খুললেন সেই নববধূ
জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে এক নববধূকে জিম্মি করে চাঁদা দাবির অভিযোগ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ঘটনায় সংবাদ সম্মেলন করেছেন ওই তরুণী। বৃহস্পতিবার (১১ মার্চ) রাতে ক্ষেতলাল প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে তিনি স্পষ্ট জানান, তাকে কেউ জিম্মি করেনি এবং কোনো চাঁদা দাবির ঘটনা ঘটেনি। বরং তাকে যারা সহায়তা করেছেন, তাদের সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতেই স্বামী লিটন হোসেন ভিত্তিহীন তথ্য ছড়িয়েছেন।সংবাদ সম্মেলনে ওই তরুণী জানান, লিটন হোসেনের সাথে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রেমের সম্পর্ক হয়। প্রায় সাত মাস আগে লিটন তাকে মোবাইলের মাধ্যমেই বিয়ে করেন। পরে লিটন কুষ্টিয়ায় ওই তরুণীর বাড়িতে গিয়ে তিন মাস সংসার করেন। কিন্তু হঠাৎ একদিন কাউকে কিছু না বলে লিটন সেখান থেকে চলে আসেন। পরবর্তীতে গত রোববার (৯ মার্চ) ওই তরুণী লিটনের দেওয়া ঠিকানা অনুযায়ী ক্ষেতলাল উপজেলা সদরে এসে স্থানীয়দের সহযোগিতা চান।
স্থানীয় ব্যক্তিরা উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতার উদ্যোগ নেন এবং স্থানীয় ইউনিয়ন রেজিস্ট্রারের বাড়িতে ৫ লাখ টাকা দেনমোহরে তাদের পুনরায় কাবিন সম্পন্ন করা হয়।তিনি বলেন, বিয়ের পর লিটন তার প্রথম স্ত্রীকে ম্যানেজ করার কথা বলে আমাকে এক পরিচিত আপার কাছে রেখে বাড়িতে যান। কোনো রাজনৈতিক দল বা কেউ আমাকে জিম্মি করেনি। এখানে আমাকে জিম্মি করার কোন প্রশ্নই ওঠে না। কিন্তু আমি নাকি জিম্মি হয়েছি, এই বলে ফেসবুকে ছড়ানো হচ্ছে। তারা কেউ আমার বক্তব্যও নেয়নি। আমাকে স্থানীয় ভাইয়েরা অনেক সহায়তা করেছে। চেয়ারম্যান, পুলিশ, ইউএনও ম্যাডামের কাছে নিয়ে যাওয়াসহ বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে যেতে সহযোগিতা করেছে।ওই তরুণী আরও বলেন, লিটনের আগের পক্ষের স্ত্রী আছে, সেটি আমি জানতাম না।
এখন যেহেতু জেনেছি সেজন্য তার সাথে সংসার করা সম্ভব নয়। এ কারণে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি সমাধান হয়েছে। আমি আমার নিজের বাড়িতে চলে যাবো।এদিকে নববধূকে জিম্মি করে চাঁদাবাজির অভিযোগ ওঠে মামুদপুর ইউনিয়ন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের এক নেতা আবির ইফতোখারের বিরুদ্ধে। এ প্রসঙ্গে ওই নেতা বলেন, আমার নামে বিভিন্ন নিউজ বা পত্রিকাতে লিখা হয়েছে নববধুকে জিম্মি করে চাঁদা দাবি করেছি বলে ফেক নিউজ প্রাকাশিত হয়েছে। নিউজটি করার আগে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত ছিল বা আমার সঙ্গে কথা বলা উচিত ছিল। ঘটনা কতটুকু সত্য, তা যাচাই করে নিউজ করা উচিত ছিল। কিন্তু এ ধরনের কোন কিছু করেন নাই বা আমার সঙ্গে কথা না বলেই মনগড়া করে সামাজিকভাবে আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করা হয়েছে। আসলে ওই আপু বিপদে পড়ে আমার সহায়তা চেয়েছিল, আমি তাকে যতটুকু পেরেছি সহযোগিতা করেছি।
এর বেশি কিছু নয়।জানতে চাইলে লিটন মোল্লা দাবি করেন, আমার স্ত্রীকে তারা জিম্মি করে রেখেছিল। আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন কি-না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, না, আমি কোনো আইনি পদক্ষেপ নিইনি। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে বসে ১ লাখ ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে মীমাংসা হয়েছে।ক্ষেতলাল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, এ বিষয়ে আমার কাছে একজন মেয়ে এসেছিল তাকে পরামর্শ দিয়েছি। তবে ছেলে কিংবা মেয়ের পক্ষ থেকে কোন লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।ক্ষেতলাল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, এ বিষয়ে একজন মেয়ে আমার কাছে এসেছিল। তাকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে ছেলে বা মেয়ের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
