নিরাপদ সবজি উৎপাদনের লক্ষ্যে দুপচাঁচিয়ায় কৃষকদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ
বগুড়ার দুপচাঁচিয়ায় নিরাপদ সবজি উৎপাদনের লক্ষ্যে কৃষকদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে উপজেলা কৃষি অফিসের আয়োজনে এবং পার্টনার প্রকল্পের আওতায় এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়।গুড এগ্রিকালচারাল প্র্যাকটিস (জিএপি) অনুসরণ করে উপজেলার ১১টি গ্রামে কৃষক-কৃষানীদের নিয়ে কৃষক মাঠ স্কুল (পিএফএস) বাস্তবায়ন করা হয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, পার্টনার ফিল্ড স্কুল (পিএফএস) এর মাধ্যমে কৃষকদের প্রশিক্ষণ দিলে তারা কৃষি ব্যবসা, কৃষি যান্ত্রিকীকরণ, বাণিজ্যিক কৃষি, উন্নত বাজার ব্যবস্থা এবং উত্তম কৃষি চর্চা বিষয়ে হাতে-কলমে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে। এর ফলে উৎপাদনমুখী কৃষি থেকে বাণিজ্যিক ও স্মার্ট কৃষিতে রূপান্তরের সুযোগ সৃষ্টি হয়।
প্রতিটি পার্টনার ফিল্ড স্কুলে ২৫ জন কৃষক-কৃষানী অংশগ্রহণ করেন। প্রতি পরিবার থেকে একজন সদস্য নিয়ে ২৫টি পরিবারের সমন্বয়ে একটি কৃষক স্মার্ট স্কুল গঠন করা হয়। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ ক্ষুদ্র এবং ২০ শতাংশ মাঝারি ও বড় কৃষক রয়েছেন। মাঠ স্কুলে প্রশিক্ষণ নিয়ে অনেক কৃষক এবার আলু চাষ করে তুলনামূলক বেশি ফলন পেয়েছেন।চলতি মৌসুমে এ উপজেলায় প্রায় ১১০ হেক্টর জমিতে জিএপি অনুসরণ করে আলু চাষ করা হয়েছে। আগামী অর্থবছরে প্রায় ২৫০ হেক্টর জমিতে এ পদ্ধতিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। শুধু আলু নয়, বৈজ্ঞানিক এ পদ্ধতিতে বিভিন্ন ধরনের নিরাপদ সবজি, ধানসহ অন্যান্য ফসল উৎপাদন করলে ফলন তুলনামূলক বেশি হয়।
উপজেলার মাগুড়া গ্রামের কৃষক সেলোয়ার হোসেন ও ভেলুচক গ্রামের কৃষক জাকির হোসেন মিঠু বলেন, কৃষক মাঠ স্কুলের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ নিয়ে তারা এবার আলু চাষ করেছেন এবং তুলনামূলক বেশি উৎপাদন পেয়েছেন।উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মুহাম্মদ সাইফুল আবেদীন জানান, কৃষক মাঠ স্কুলের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ দিলে শতভাগ নিরাপদ সবজি উৎপাদন করা সম্ভব। গুড এগ্রিকালচারাল প্র্যাকটিস (জিএপি) অনুসরণ করে উৎপাদিত ফসল স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বিদেশে রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনও সম্ভব।
