সারিয়াকান্দির দুর্গম চরের মানুষের মুন্নালাইটের কম্বল ও সবজি বীজ বিতরণ
যমুনা নদীর তীরবর্তী চরাঞ্চলে শীতের কষ্ট যেন আরও বেশি প্রকট। দুর্গম যোগাযোগ ব্যবস্থা, দারিদ্র্য এবং প্রকৃতির প্রতিকূলতার কারণে এসব এলাকার মানুষের জীবনসংগ্রাম প্রতিদিনের সঙ্গী। বর্ষা, গরম কিংবা শীতের কষ্টই যেন তাদের নিত্যসঙ্গী।বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার যমুনা নদীর দুর্গম দলিতের চর, যা বগুড়া শহর থেকে প্রায় ৪২ কিলোমিটার এবং উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১৩ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত—এই চরের মানুষজন দীর্ঘদিন ধরেই নানা বঞ্চনার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। যেখানে যাতায়াত কঠিন, সেখানে বাইরের মানুষের পদচারণাও খুব কম।এই দুর্গম চরের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে মানবিক সংগঠন মুন্নালাইট ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি। শীতের তীব্রতা থেকে রক্ষা পেতে চরাঞ্চলের দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মাঝে উষ্ণ কম্বল বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি স্বাবলম্বিতার কথা চিন্তা করে প্রত্যেক পরিবারকে দেওয়া হয় শীতকালীন সবজির বীজ।
আজ ঙ্গলবার(০৬ জানুয়ারীমুন্নালাইটের কর্মীরা এসব কম্বল ও বীজ বিতরণ করেন।সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এসব সবজি চাষ করে চরবাসীরা যেন নিজেদের পুষ্টির চাহিদা পূরণ করতে পারেন এবং বাড়তি আয়ের সুযোগ সৃষ্টি হয়—এটাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।একই সঙ্গে মানবিক এই কার্যক্রমের অংশ হিসেবে হযরত ওমর (রা.) কওমি মাদ্রাসার শিশু শিক্ষার্থীদের মাঝেও কম্বল বিতরণ করা হয়। শীতের রাতে যেন পড়াশোনায় বিঘ্ন না ঘটে এবং শিশু শিক্ষার্থীরা কিছুটা উষ্ণতায় থাকতে পারে—এই লক্ষ্যেই তাদের হাতে কম্বল তুলে দেওয়া হয়।কম্বল ও সবজি বীজ পেয়ে খুশি হন চরবাসীরা।
দলিতের চরের বাসিন্দা আব্দুল মালেক বলেন,“চরে শীত খুব বেশি লাগে। রাতে ঘুমানোই মুশকিল। কম্বল আর বীজ দুটোই পেয়েছি—এটা আমাদের জন্য অনেক বড় সহায়তা।”একই এলাকার গৃহবধূ হালিমা খাতুন বলেন,“আমাদের চরের খোঁজ কেউ নেয় না। এই শীতে মুন্নালাইটের লোকজন এসে পাশে দাঁড়িয়েছে। আল্লাহ যেন তাদের ভালো রাখেন।”এলাকাবাসীরা জানান, দুর্গম চরের মানুষ ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ খুবই প্রয়োজন। তারা ভবিষ্যতেও নিয়মিত সহায়তা ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার দাবি জানান।মানবিকতার এই উষ্ণতায় শীতের কঠিন সময়েও কিছুটা হলেও স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে যমুনা নদীর দুর্গম দলিতের চরের মানুষ ও মাদ্রাসার শিশু শিক্ষার্থীরা।