Joy Jugantor | online newspaper

দুপচাঁচিয়া জায়গা ও গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে মারপিটে আহত ৩

দুপচাঁচিয়া (বগুড়া) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২১:১৯, ৪ জানুয়ারি ২০২৬

দুপচাঁচিয়া জায়গা ও গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে মারপিটে আহত ৩

দুপচাঁচিয়া জায়গা ও গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে মারপিটে আহত ৩

 

দুপচাঁচিয়া উপজেলার গুনাহার ইউনিয়নের কেঁদ্রা গ্রামে জায়গা ও গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে কেয়ারটেকারকে মারপিটের ঘটনা ঘটেছে। এতে কেয়ারটেকার হোসেন আলী (৪৮), তার ভাই মহসিন আলী (৪০) ও ভাতিজা ইমরান আলী রাফি (১৩) আহত হয়েছেন। গত ৩ জানুয়ারি শনিবার সন্ধ্যায় এ মারপিটের ঘটনা ঘটে।জায়গার মালিক পক্ষের একজন প্রতিনিধি জানান, দুপচাঁচিয়া উপজেলার গুনাহার ইউনিয়নের কেঁদ্রা গ্রামে তাদের নামে প্রায় ২ শতাংশের বেশি জায়গা রয়েছে। এই জায়গাগুলো বাপ-দাদার আমল থেকে ওই এলাকার চাষিদের নিকট লিজ হিসেবে দেওয়া ছিল। পরবর্তীতে কাগজপত্র যাচাই করে জায়গাগুলো তাদের হলেও ১/১ খতিয়ানে চলে যায়। পরে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করে বৈধ কাগজপত্র দেখালে খতিয়ান সংশোধন করে তাদের নামে খতিয়ানভুক্ত করা হয়।

পরবর্তীতে ওই জায়গা মাপজোক করতে গেলে লিজ গ্রহণকারীরা বাধা প্রদান করে। উপায়ান্তর না পেয়ে গুনাহার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ আবু তাহেরের কাছে আবেদন দাখিল করা হয়। তিনি লিজ গ্রহণকারীদের ডেকে কাগজপত্র দেখতে চাইলে তারা কোনো কাগজ দেখাতে পারেনি। চেয়ারম্যান তাদের মূল মালিকদের কাছে জায়গার দখল ছেড়ে দিতে বলেন এবং ভবিষ্যতে দখল না পেলে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।কিন্তু দুঃখের বিষয়, আমরা জায়গা দখলে নিতে গেলে লিজ গ্রহণকারীদের মধ্যে কেঁদ্রা গ্রামের লতিফ নামের একজন বারবার আমাদের ভয়ভীতি প্রদান করতে থাকে। পরে চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ আবু তাহের বিষয়টিকে গুরুত্ব না দেওয়ায় একই ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান এএইচএম নুরুজ্জামান খান হস্তক্ষেপ করেন। তিনি লিজ গ্রহণকারীদের সঙ্গে কথা বলে কাগজপত্র দেখাতে না পারায় জায়গা ছেড়ে দিতে বলেন।

এ অবস্থায় জায়গা বিক্রয়ের জন্য গুনাহারের জাহাঙ্গীর ও রিফাত ইসলামের সঙ্গে বায়নানামা করা হয়। বায়নানামা অনুযায়ী গত ৩ জানুয়ারি শনিবার তারা পুকুরপাড়ের গাছ কেটে নেওয়ার জন্য রাস্তায় রাখেন। বিকেলে ভ্যানযোগে গাছগুলো নিতে গেলে লিজ গ্রহণকারীরা অন্য লোকজন নিয়ে জায়গা জমি দেখভালের নামে নিয়োজিত কেঁদ্রা গ্রামের হোসেন আলীসহ তার ভাই ও ভাতিজাকে মারপিট করে এবং গাছ বহনে আসা ৩টি অটোভ্যান ভাঙচুর করে।বায়নানামা সূত্রে মালিক জাহাঙ্গীর আলম ও রিফাত ইসলাম জানান, যেহেতু কাগজপত্রে জায়গাগুলো বৈধ মালিকের কাছ থেকে কিনে নেওয়ার জন্য বায়নানামা করেছি, মালিকপক্ষ আমাদের জায়গা ব্যবহার ও গাছ কাটার অনুমতি দিয়েছে। তাই আমরা গাছগুলো বিক্রির জন্য কর্তন করতে যাই। এ সময় ০১৭৭১১৯৯৫৫০ নম্বর থেকে সাইফুল নামের এক ব্যক্তি গাছ কাটতে নিষেধ করে হুমকি দেয়।

গাছ কেটে আনার সময় মাসুদ ও স্বপনসহ কয়েকজন লোক মালিকপক্ষের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি ও তার ভাই-ভাতিজাকে বেধড়ক মারপিট করে। এ বিষয়ে আমরা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।গুরুতর আহত হোসেন আলীর মেয়ে হোসনে আরা জানান, ঘটনার দিন আমার বাবা কর্তিত গাছগুলো ভ্যানে ওঠানোর সময় পালকুড়ি গ্রামের রেজাউল ইসলামের ছেলে মাসুদ এবং তালুচ গ্রামের দুলু মিয়ার ছেলে স্বপন দলবলসহ আমার বাবার ওপর হামলা করে। এতে আমার বাবা গুরুতর আহত হন। সংবাদ পেয়ে আমার চাচা ও চাচাতো ভাই এগিয়ে আসলে তাদেরকেও মারপিট করা হয়।মাসুদ ও স্বপন বলতে থাকে, আমরা নূরের লোক, আমরা জামায়াতে ইসলামী করি, নূর আমাদের পাঠিয়েছে। এ বিষয়ে আমি নূর মোহাম্মদ আবু তাহেরকে মুঠোফোনে ফোন দিলে তিনি বলেন, আমার লোকজন যে মারধর করেছে তার কোনো প্রমাণ আছে? তখন আমি বলি, আপনার চাচাতো ভাই মানুষ বারবার আপনার কথায় বলেছে। এরপর তিনি ফোন কেটে দিয়ে আমাদের বাড়িতে আসেন।

বিষয়টি আমার চাচা ও চাচাতো ভাইয়েরা নূর সাহেবকে বললে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে আমার বাবা-চাচাদের উঠিয়ে নিয়ে গিয়ে পেটানোর হুমকি দেন।বর্তমানে আমার বাবা গুরুতর আহত হয়ে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসায় ব্যস্ত থাকায় থানায় অভিযোগ দিতে বিলম্ব হচ্ছে।গুনাহার ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ আবু তাহের বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলো করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমি সবসময় চেয়েছি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে এই জায়গার প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণ হোক।দুপচাঁচিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) নাসিরুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।