Joy Jugantor | online newspaper

সোলাইমানির ছবি রেখে জাতিসংঘে ইরানের ‘কূটনৈতিক প্রতিবাদ’

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশিত: ২০:৩৩, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সোলাইমানির ছবি রেখে জাতিসংঘে ইরানের ‘কূটনৈতিক প্রতিবাদ’

সোলাইমানির ছবি রেখে জাতিসংঘে ইরানের ‘কূটনৈতিক প্রতিবাদ’

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বক্তব্য দিতে মঞ্চে ওঠার পর কক্ষ ত্যাগ করেন ইরানি প্রতিনিধিদলের সদস্যরা। তবে তারা ইরানের জন্য নির্ধারিত আসনে দেশটির সাবেক কুদস ফোর্স কমান্ডার জেনারেল কাসেম সোলাইমানির একটি ছবি রেখে যান। ঘটনাটিকে ইরানের পক্ষ থেকে প্রতীকী কূটনৈতিক প্রতিবাদ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়, নেতানিয়াহুর ভাষণের সময় ইরানি প্রতিনিধিদল কক্ষ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর ইচ্ছাকৃতভাবে সোলাইমানির ছবিটি তাদের আসনে রেখে যায়।

এর আগে জাতিসংঘে ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ডানন ইরানি প্রতিনিধিদলের কাছে সোলাইমানির ছবির উপস্থিতি নিয়ে আপত্তি জানান। ছবিটি সেখানে কেন রাখা হয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে ডানন ইরানি প্রতিনিধিদলের টেবিলের কাছে যান এবং সঙ্গে থাকা এক ব্যক্তিকে ঘটনাটি ভিডিও করতে বলেন। এ সময় তিনি ইরানকে একটি উপহার দিতে চান বলেও জানান।পরে এ ঘটনা নিয়ে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি পোস্ট দেন।

সেখানে তিনি সোলাইমানির ছবি রেখে যাওয়ার ঘটনাকে তার উত্তরাধিকার এবং ইরানের অবস্থানের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেন।বাঘায়ি বলেন, ‘একজন কমান্ডারের মৃত্যু তার অনুসৃত নীতি, স্বার্থ ও অবস্থান পরিত্যাগের অর্থ নয়।’পোস্টের শুরুতে তিনি পারস্যের মহাকাব্য ‘শাহনামা’ থেকে কয়েকটি পঙ্‌ক্তি উদ্ধৃত করেন। ফারদৌসির রচিত এই মহাকাব্যে কিংবদন্তি ইরানি রাজপুত্র সিয়াভাশের মৃত্যুর কথা উল্লেখ রয়েছে। বাঘায়ি সিয়াভাশের স্মৃতির সঙ্গে সোলাইমানির মৃত্যুর তুলনা করে বলেন, কোনো বীরকে হত্যা করলেই তার উপস্থিতি কিংবা তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আদর্শ মুছে যায় না; বরং তার স্মৃতি আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, নেতানিয়াহুর ভাষণের সময় ইরানি প্রতিনিধিদল কক্ষ ত্যাগ করলেও সোলাইমানির ছবিটি সেখানে রেখে আসে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এর মধ্য দিয়ে সোলাইমানির মর্যাদা ও উত্তরাধিকারের স্থায়িত্বের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।জেনারেল কাসেম সোলাইমানি ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) বৈদেশিক অভিযান পরিচালনাকারী কুদস ফোর্সের কমান্ডার ছিলেন। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে বাগদাদ বিমানবন্দরের কাছে মার্কিন ড্রোন হামলায় তিনি নিহত হন। ওই হামলার নির্দেশ দিয়েছিলেন তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।এদিকে নেতানিয়াহু বক্তব্য শুরু করার সময় ইরানি প্রতিনিধিদের পাশাপাশি আরও কয়েকটি দেশের প্রতিনিধিও কক্ষ ত্যাগ করেন। কয়েকজন তাকে দুয়োধ্বনিও দেন। বিপরীতে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে থাকা প্রতিনিধিরা দাঁড়িয়ে তাকে করতালি দেন।

কক্ষ ছেড়ে যাওয়া প্রতিনিধিদের উদ্দেশে নেতানিয়াহু পরে বলেন, যারা এখনো হল ছাড়েননি, তাদেরও বেরিয়ে যাওয়া উচিত।ভাষণে নেতানিয়াহু ইসরায়েলের সমালোচনাকারী কয়েকটি দেশ ও নেতার সমালোচনা করেন। ইরানকে ‘হত্যাকারী স্বৈরশাসন’ আখ্যা দিয়ে তিনি দাবি করেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখতে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র পদক্ষেপ নিয়েছে।নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানিকেও সমালোচনা করেন নেতানিয়াহু এবং তাকে ‘ইহুদিবিদ্বেষী’ বলে আখ্যা দেন। তার নির্বাচনের পর নিউইয়র্কের অনেক ইহুদি নিজেদের নিরাপদ মনে করছেন না বলেও দাবি করেন তিনি। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সমালোচনা করে তাকে ‘স্বৈরশাসক’ বলেন নেতানিয়াহু এবং হামাসকে সমর্থনের অভিযোগ তোলেন।