Joy Jugantor | online newspaper

ইন্দোনেশিয়ায় আগ্নেয় ছাইয়ে ঢেকে গেছে আকাশ,

জাকার্তায় ৩০১টি ফ্লাইট ব্যাহত

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশিত: ২০:৩৫, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জাকার্তায় ৩০১টি ফ্লাইট ব্যাহত

ইন্দোনেশিয়ায় আগ্নেয় ছাইয়ে ঢেকে গেছে আকাশ, জাকার্তায় ৩০১টি ফ্লাইট ব্যাহত

ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তার কাছে অবস্থিত 'আনাক ক্রাকাতাউ' আগ্নেয়গিরি থেকে নির্গত ভারী ছাইয়ের কারণে ইন্দোনেশিয়ার প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাময়িকভাবে বিমান চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ছাইয়ের আস্তরণে আকাশ ছেয়ে যাওয়ায় বিমানবন্দরে আটকা পড়েছেন শত শত বিমানযাত্রী।রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় বিকাল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত জাকার্তার সোকার্নো-হাত্তা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম স্থগিত ছিল। আগ্নেয়গিরি থেকে বিমানবন্দরের দূরত্ব ১৫০ কিলোমিটারেরও বেশি। বিমানবন্দর পরিচালনাকারী সংস্থা আংকাসা পুরা জানিয়েছে, এ সিদ্ধান্তে মোট ৩০১টি ফ্লাইট ব্যাহত হয়েছে। এর মধ্যে ৫৮টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট।

সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনসও জাকার্তাগামী ও জাকার্তা থেকে ছেড়ে যাওয়া সব ফ্লাইট দিনের বাকি সময়ের জন্য বাতিল করেছে। আগ্নেয় ছাই উড়োজাহাজের জেট ইঞ্জিনে মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে এবং পাইলটদের দৃষ্টিসীমা কমিয়ে দেয়। এ কারণে ইন্দোনেশিয়ায় একাধিক বিমানবন্দরে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।পরিবহণমন্ত্রী দুডি পুরওয়াগান্ধি জানান, সোকার্নো-হাত্তা ছাড়াও আরও ছয়টি বিমানবন্দরে কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। এর মধ্যে বান্দুংয়ের হুসেইন সাস্ত্রানেগারা এবং সুমাত্রার বান্দার লাম্পুংয়ের কাছে রাদিন ইনতেন-২ বিমানবন্দর রয়েছে। সেমারাং ও সুরাবায়াসহ কয়েকটি শহরের বিমানবন্দরকে বিকল্প অবতরণের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

ছাইয়ের প্রভাব শুধু বিমান চলাচলেই সীমাবদ্ধ নয়। চোখ ও শ্বাসতন্ত্রে অস্বস্তির কারণে কয়েকটি স্কুলের নির্ধারিত কার্যক্রম বাতিল করা হয়েছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।শুক্রবার গভীর রাতে নতুন করে অগ্ন্যুৎপাত শুরু হয়। আবহাওয়া, জলবায়ু ও ভূ-পদার্থবিদ্যা সংস্থা বিএমকেজ জানিয়েছে, অগ্ন্যুৎপাতের সময় বিকট শব্দ হয়েছে, যা আগ্নেয়গিরি থেকে প্রায় ৭০০ কিলোমিটার দূর পর্যন্ত শোনা গেছে। জাভা দ্বীপের দিকে ছাই প্রায় ৬ হাজার মিটার উচ্চতায় উঠেছে। সুমাত্রা ও জাভার বানতেন প্রদেশের কিছু এলাকায় ছাইয়ের স্তম্ভ ১৫ হাজার মিটার পর্যন্ত পৌঁছেছে। রোববার আরও দুটি অগ্ন্যুৎপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা বিএনপিবি জানিয়েছে, এ অগ্ন্যুৎপাত থেকে তাৎক্ষণিক সুনামির কোনো আশঙ্কা নেই। ছাই দ্রুত সরাতে কৃত্রিম বৃষ্টিপাত ঘটানোর পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। বিএনপিবির প্রধান সুহারইয়ান্তো বলেন, পর্যাপ্ত ভারী বৃষ্টি হলে ছাই ধুয়ে যাবে এবং মানুষের দৈনন্দিন জীবনে সৃষ্ট সমস্যাও কমবে।আনাক ক্রাকাতাউ ১৯২০-এর দশকে সমুদ্রের বুক থেকে উঠে আসে। ১৮৮৩ সালের ভয়াবহ ক্রাকাতাউ অগ্ন্যুৎপাতের পর তৈরি হওয়া বিশাল ক্যালডেরার ভেতর থেকেই এর জন্ম। ওই অগ্ন্যুৎপাত ছিল নথিভুক্ত ইতিহাসের অন্যতম প্রাণঘাতী আগ্নেয়গিরির ঘটনা। পরে কয়েক দফা অগ্ন্যুৎপাত হয়েছে। ২০১৮ সালে আগ্নেয়গিরির একটি অংশ ধসে পড়ে এবং সৃষ্ট সুনামিতে জাভা ও সুমাত্রার উপকূলে ৪০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হন।