বগুড়ায় খ্রিষ্টান ব্যক্তিদের প্রয়াত আত্মাদের স্মরণ দিবস
বগুড়া শহরের খান্দারে খ্রীষ্টিয় মন্ডলীর কবরস্থানে সোমবার খ্রিষ্টান ব্যক্তিদের প্রয়াত আত্মাদের স্মরণ দিবস পালন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন, বগুড়া খ্রীষ্টিয় মন্ডলীর সভাপতি এ্যাড. বার্নাড তমাল মন্ডল। সভাপতির ব্যক্তব্যে তিনি বলেন, মৃত খ্রিষ্টান ব্যক্তিদের স্মরণে আত্নার শান্তি প্রার্থনা সারা বিশ্বে একযোগে পালন করছে। এরই ধারাবাহিকতায় বগুড়ায় প্রথমবারের মতো প্রার্থনা দিবস পালিত হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, মৃত্যুর পরও প্রিয়জনের স্মৃতি বেঁচে থাকে হৃদয়ে। তাদের সঙ্গে কাটানো মুহূর্ত, ভালোবাসা ও জীবনের নানা গল্প স্মরণ করেই দিন কাটে স্বজনদের। প্রয়াতদের আত্মার শান্তি কামনা ও তাদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীরা প্রতি বছর ২রা নভেম্বর পালন করেন বিশেষ দিন ‘অল সোলস ডে’ বা প্রয়াত আত্মাদের স্মরণ দিবস। দিনটি মূলত মৃত স্বজনদের আত্মার শান্তি কামনায় প্রার্থনার মধ্য দিয়ে পালন করা হয়। এ উপলক্ষে অনেকে সমাধিস্থলে গিয়ে কবর পরিষ্কার করেন, ফুল দেন এবং মোমবাতি জ্বালান। পাশাপাশি গির্জায় বিশেষ প্রার্থনাসভার আয়োজন করা হয়। খ্রিস্টীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, মৃত্যুর পর যেসব আত্মা স্বর্গে প্রবেশের আগে শুদ্ধিলাভের অপেক্ষায় রয়েছে, তাদের জন্য বিশেষভাবে প্রার্থনা করা হয় এ দিনে।
‘অল সোলস ডে’ পালনের ইতিহাসও বেশ প্রাচীন। খ্রিস্টীয় ঐতিহ্যে মৃতদের জন্য প্রার্থনার উল্লেখ পাওয়া যায় বাইবেলের ‘টু ম্যাকাবিস’ গ্রন্থে। ষষ্ঠ শতক নাগাদ পশ্চিমা খ্রিস্টধর্মে মৃতদের আত্মার উদ্দেশে প্রার্থনার রীতি প্রতিষ্ঠিত হতে শুরু করে। পরে একাদশ শতকে ক্লুনির অ্যাবট সেন্ট ওডিলো ২রা নভেম্বরকে প্রয়াতদের জন্য বিশেষ প্রার্থনার দিন হিসেবে পালনের নির্দেশ দেন। ধীরে ধীরে পশ্চিমা খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে এ রীতি। প্রিয়জনরা পৃথিবী থেকে বিদায় নিলেও তাদের স্মৃতি ও ভালোবাসা যে অমলিন, সেই বার্তাই বহন করে ‘অল সোলস ডে’। প্রয়াতদের স্মরণ, তাদের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ এবং আত্মার শান্তি কামনার মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করেন খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীরা। প্রয়াত আত্মাদের স্মরণ দিবসে আরো ব্যক্তব্য রাখেন, বগুড়ার খ্রিষ্টীয় মন্ডলীর সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ রবার্ট রবিন মারান্ডী, পালক মি. গিলবার্ট মৃধাসহ মন্ডলীর বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ।
