Joy Jugantor | online newspaper

ম্যাজিস্ট্রেটের স্বাক্ষর জাল করার অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন,

-সংবাদ সম্মেলনে অ্যাডভোকেট গোলাম আজম

প্রকাশিত: ১৮:৫১, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

-সংবাদ সম্মেলনে অ্যাডভোকেট গোলাম আজম

ম্যাজিস্ট্রেটের স্বাক্ষর জাল করার অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তি হীন, সংবাদ সম্মেলনে অ্যাডভোকেট গোলাম আজম

 ম্যাজিস্ট্রেটের স্বাক্ষর জাল করার অভিযোগকে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন গাইবান্ধা জেলা জজ আদালতের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোঃ গোলাম আজম। একই সঙ্গে তার পেশাগত ও সামাজিক সুনাম ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে একটি স্বার্থান্বেষী মহল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে অপপ্রচার চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী পৌর শহরের নুনিয়াগাড়ী মৌজায় তার নিজস্ব চেম্বারে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব কথা বলেন অ্যাডভোকেট মোঃ গোলাম আজম।লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে গাইবান্ধা জেলা জজ আদালতের আইনজীবী হিসেবে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে আইন পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন। সম্প্রতি মহেশপুর গ্রামের আসাদুজ্জামানের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে একজন ম্যাজিস্ট্রেটের স্বাক্ষর জাল করার যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। তার পেশাগত সুনাম ও সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যেই এ ধরনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।অ্যাডভোকেট গোলাম আজম বলেন, সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞ আদালত প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত ও আইনগত বিষয় পর্যালোচনা করেই মামলার কার্যক্রম গ্রহণ করেছেন।

কথিত ঘটনার বিষয়ে আদালত থেকে তাকে এর আগে কোনো শোকজ, নোটিশ বা তলব করা হয়নি। ফলে তার বিরুদ্ধে যে ধরনের বক্তব্য প্রচার করা হচ্ছে, তার সঙ্গে তার বাস্তব কোনো সম্পৃক্ততা নেই।এফিডেভিট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট এফিডেভিট সম্পাদনের সময় তিনি কেবল একজন ‘সনাক্তকারী’ হিসেবে স্বাক্ষর করেছেন। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিচয় ও কাগজপত্র যাচাই করে সরল বিশ্বাসে তিনি ওই স্বাক্ষর করেন। পরবর্তীতে আদালত নিজস্ব আইনগত প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির জবানবন্দি গ্রহণসহ এফিডেভিটের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করেন।তিনি আরও বলেন, এফিডেভিটে সনাক্তকারী হিসেবে স্বাক্ষর করার পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে এ বিষয়ে তার আর কোনো যোগাযোগ বা কার্যক্রম ছিল না। এফিডেভিটের বক্তব্য বা বিষয়বস্তু এবং আদালতের পরবর্তী কার্যক্রমের সঙ্গেও তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।বর্তমানে মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তির বক্তব্য ও সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ ও বক্তব্য প্রচার করা হচ্ছে উল্লেখ করে অ্যাডভোকেট গোলাম আজম বলেন, এসব বক্তব্য বিভ্রান্তিকর এবং তার প্রকৃত বক্তব্যের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। এর ফলে তার পেশাগত ও সামাজিক সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, তার পরিবারের রাজনৈতিক অবস্থান ও সংশ্লিষ্টতার কারণে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের কেউ কেউ তাকে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে ঘটনাটিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করছেন বলে তার আশঙ্কা রয়েছে। তবে তিনি কোনো পক্ষকে সরাসরি দায়ী না করে প্রকৃত ঘটনা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে উদঘাটনের দাবি জানান।সংবাদ সম্মেলনে অ্যাডভোকেট গোলাম আজম প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। তদন্তে তার কোনো দায় বা সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে মিথ্যা বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগের মাধ্যমে কেউ তার সম্মানহানি করে থাকলে তার বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, একজন আইনজীবী হিসেবে তিনি আইন ও আদালতের প্রতি সর্বদা শ্রদ্ধাশীল। সংশ্লিষ্ট এফিডেভিটে তার ভূমিকা ছিল শুধুমাত্র একজন সনাক্তকারী হিসেবে স্বাক্ষর করা। ম্যাজিস্ট্রেটের স্বাক্ষর জাল করা বা এ ধরনের কোনো বেআইনি কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে প্রকৃত তথ্য যাচাই করে দায়িত্বশীলভাবে সংবাদ পরিবেশনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে কোনো পক্ষের একতরফা বক্তব্যের ভিত্তিতে তার পেশাগত ও সামাজিক সুনাম ক্ষুণ্ন না করার অনুরোধ জানান।সংবাদ সম্মেলনে তিনি চলমান অপপ্রচারের নিন্দা জানিয়ে ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও আইনানুগ তদন্তের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন।