বৈশাখের আমেজে ভাটা, হারিয়ে যাচ্ছে মৃৎশিল্পীদের ব্যস্ততার দিন
এক সময় বাংলা নববর্ষকে ঘিরে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে দেখা মিলত মৃৎশিল্পীদের ব্যস্ততার এক অনন্য দৃশ্য। বৈশাখের আগমনী হাওয়া বইতে শুরু করলেই মাটির ঘ্রাণে ভরে উঠত কারিগরদের উঠান। দিন-রাত পরিশ্রম করে তৈরি হতো হাঁড়ি-পাতিল, কলস, ফুলদানি, ছোটদের খেলনা, মাটির ব্যাংকসহ নানা ধরনের পণ্য। কিন্তু সময়ের পালাবদলে সেই চিরচেনা দৃশ্য এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে।উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে দেখা গেছে, আগের মত আর চোখে পড়ে না মাটির পণ্য তৈরির ধুম। অনেক কারিগরের চুল্লি এখন নিভু নিভু, কোথাও আবার পুরোপুরি বন্ধ। যারা এখনও এই পেশায় আছেন, তাদেরও কাজের চাপ অনেক কমে গেছে। বৈশাখ সামনে থাকলেও নেই তেমন কর্মব্যস্ততা। কাজ কমে যাওয়ায় অনেক কারিগরই পেশা পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছেন।
মৃৎশিল্পীরা বলছেন, প্লাস্টিক ও স্টিলের তৈরি পণ্যের সহজলভ্যতা এবং তুলনামূলক কম দামের কারণে মাটির তৈরি সামগ্রীর চাহিদা দিন দিন কমছে। আধুনিকতার ছোঁয়ায় মানুষ এখন টেকসই ও ঝকঝকে পণ্যের দিকে ঝুঁকছে। ফলে ঐতিহ্যবাহী মাটির সামগ্রী ক্রমেই বাজার হারাচ্ছে।উপজেলার মোকামতলা পালপাড়া গ্রামের কারিগর চন্দনা রানী পাল বলেন, "আগে বৈশাখের এক-দেড় মাস আগে থেকেই কাজ শুরু করতাম। এত অর্ডার থাকত যে ঠিকমতো ঘুমানোর সময় পেতাম না। এখন দিন কাটানোই কষ্ট হয়ে গেছে।"আরেক কারিগর দিথী রানী পাল বলেন, "আগে বৈশাখী মেলা মানেই আমাদের জন্য বড় সুযোগ ছিল। এখন মানুষ আর মাটির জিনিস কিনতে চায় না। তবে অন্যান্য মাটির পণ্যের চাহিদা কমলেও মাটির তৈরি ফুল বা গাছের টব, দইয়ের হাঁড়ি ও টয়লেটের হাউজের রিং মোটামুটি ভালো চলে। এজন্য আমরা এখনও এই পেশা ধরে রেখেছি।"
