Joy Jugantor | online newspaper

ইরান নীতি পরিবর্তন না করলে যুক্তরাষ্ট্র

পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে: মার্কিন দূত মাইক হুকাবি

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশিত: ২২:৩৩, ২৩ জানুয়ারি ২০২৬

পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে: মার্কিন দূত মাইক হুকাবি

ইরান নীতি পরিবর্তন না করলে যুক্তরাষ্ট্র পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে: মার্কিন দূত মাইক হুকাবি

ইরান যদি তাদের বর্তমান নীতি থেকে সরে না আসে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র পরবর্তী ও কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারে- এমন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হুকাবি। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যেসব হুমকি দেন, সেগুলো কেবল কথার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; প্রয়োজনে তা বাস্তবায়নও করেন।শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সৌদি মালিকানাধীন সংবাদমাধ্যম আল-আরাবিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন মাইক হুকাবি।

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, সামরিক তৎপরতা এবং অভ্যন্তরীণ মানবাধিকার পরিস্থিতি সবকিছুই বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের গভীর পর্যবেক্ষণে রয়েছে বলে জানান তিনি।এর আগের দিন বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরানের দিকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশাল নৌবহর অগ্রসর হচ্ছে। ওই বহরে যুদ্ধবিমান, রণতরীসহ আধুনিক ও শক্তিশালী অস্ত্রসজ্জা রয়েছে। এই সামরিক তৎপরতা নতুন করে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।

ইরানের দিকে এই বিশাল সামরিক বহর পাঠানোর কারণ জানতে চাইলে মাইক হুকাবি সরাসরি ব্যাখ্যা না দিয়ে বলেন,
যখন জানার সময় হবে, তখন ইরান নিজেই জানতে পারবে কেন এগুলো আনা হচ্ছে।তার এই বক্তব্যকে ইরানের প্রতি একটি সুস্পষ্ট বার্তা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা। এতে বোঝা যাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র কৌশলগতভাবে চাপ বজায় রেখে পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

হুকাবি তার বক্তব্যে আরও স্মরণ করিয়ে দেন, গত বছরের জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের চারটি পারমাণবিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালিয়েছিল। ওই হামলার আগেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একাধিকবার ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার হুমকি দিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত সেই হুমকিই বাস্তবে রূপ নেয়।মাইক হুকাবি বলেন, গত গ্রীষ্মে তারা (ইরান) একটি শক্তিশালী হামলার শিকার হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যেসব কথা বলেছিলেন, ঠিক সেগুলোই করেছেন।তার মতে, ট্রাম্প প্রশাসন বারবার স্পষ্ট করেছে যে ইরানকে কখনোই ইউরেনিয়াম মজুদ বাড়াতে কিংবা পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে দেওয়া হবে না। তবে ইরান শুরুতে এসব হুঁশিয়ারিকে গুরুত্ব দেয়নি।‘ইরান বিশ্বাস করেনি যে যুক্তরাষ্ট্র সত্যিই পদক্ষেপ নেবে। কিন্তু ট্রাম্প পরে যা বলেছেন, সেটাই করে দেখিয়েছেন,’ যোগ করেন হুকাবি।

শুধু পারমাণবিক ইস্যু নয়, ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতিও যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগের অন্যতম কারণ। গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয়। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, রাজনৈতিক দমন-পীড়ন ও নাগরিক অধিকার হরণের অভিযোগে ওই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন শহরে।তবে মাত্র ১৫ দিনের মধ্যেই তেহরান কঠোর হাতে ওই আন্দোলন দমন করে। নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে বহু মানুষ আটক হন এবং কয়েকজন বিক্ষোভকারী নিহত হন বলে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি।সে সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রকাশ্যে হুমকি দিয়েছিলেন, ইরান সরকার যদি বিক্ষোভকারীদের হত্যা শুরু করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ব্যবস্থা নেবে। একপর্যায়ে পরিস্থিতি এমন দাঁড়ায় যে ইরানের ওপর মার্কিন সামরিক হামলা আসন্ন বলে মনে করা হচ্ছিল।

তবে পরে ট্রাম্প জানান, বিক্ষোভকারীদের হত্যা বন্ধ করা এবং মৃত্যুদণ্ড স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় আপাতত ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নিচ্ছে না যুক্তরাষ্ট্র।এ প্রসঙ্গে মাইক হুকাবি বলেন, ‘ইরান যদি আবারও বিক্ষোভকারীদের হত্যা করে এবং তাদের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দেয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র সেটির ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে।’তার এই মন্তব্যে স্পষ্ট ইঙ্গিত রয়েছে- মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টিও যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, সামরিক তৎপরতা এবং অভ্যন্তরীণ দমননীতি- এই তিনটি বিষয়কে সামনে রেখেই ট্রাম্প প্রশাসন চাপের কৌশল অব্যাহত রেখেছে। একদিকে সামরিক শক্তি প্রদর্শন, অন্যদিকে কূটনৈতিক বার্তা- এই দ্বিমুখী কৌশলের মাধ্যমেই তেহরানকে নীতিগত পরিবর্তনে বাধ্য করতে চায় ওয়াশিংটন।তবে ইরান কীভাবে এই চাপের জবাব দেয় এবং পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত কোন দিকে গড়ায়, সেটিই এখন আন্তর্জাতিক মহলের প্রধান আলোচ্য বিষয়।