Joy Jugantor | online newspaper

ফাইভজিতে কী সুবিধা

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১৩:৩৫, ৩১ আগস্ট ২০২১

ফাইভজিতে কী সুবিধা

ছবি সংগৃহীত

বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এরই মধ্যে চালু করেছে ইন্টারনেটের সবচেয়ে গতিশীল নেটওয়ার্ক ফাইভজি। অনেক দেশ চালু না করলেও পরীক্ষা চালাচ্ছে। বাংলাদেশও ফাইভজি ইন্টারনেটের পরীক্ষা চালিয়েছে।

২০২৩ সালের মধ্যে দেশে ফাইভজি চালুর কথাও জানিয়েছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। কিন্তু ফাইভজি চালু হলে আমরা কী সুবিধা পাব? চলুন দেখে নিই কয়েকটি সুবিধা।

ডাউনলোড স্পিড

ফাইভজিতে প্রতি সেকেন্ডে ডাউনলোড স্পিড ১০ থেকে ৫০ গিগাবাইট। ফোরজিতে এই গতি ১০ থেকে ২০ মেগাবাইট। অর্থাৎ ফোরজির চেয়ে ফাইভজির গতি ১০০ থেকে ২৫০ পর্যন্ত গুণ বেশি। এ গতিতে নেটফ্লিক্সে ৮কে রেজুলেশনের ৪০০ সিনেমা একবারে দেখা যাবে।

ল্যাটেন্সি কম

তথ্য আদান-প্রদানে সময়ের ব্যবধানই ল্যাটেন্সি। ফাইভজিতে এই ল্যাটেন্সি রেট অনেক কম। ফোরজি তথ্য পাঠায় ১০০ থেকে ২০০ মিলিসেকেন্ডের ভেতর। ফাইভজি এই সময় কমিয়ে আনবে ১ মিলিসেকেন্ডে। ফলে কাঙ্ক্ষিত তথ্য মিলবে রিয়েল টাইমে।

স্বয়ংক্রিয় গাড়ি

স্বয়ংক্রিয় গাড়ি ফাইভজি ব্যবহার করে, ট্রাফিক সিগন্যাল ও রোড সেন্সরের সঙ্গে সমন্বয় করবে। রাস্তার অন্য গাড়ির সঙ্গেও যোগাযোগ করতে পারবে। একটি ঘটনায় মানুষের প্রতিক্রিয়া দেখাতে সময় লাগে ২০০ মিলিসেকেন্ড। ফাইভজি নেটওয়ার্কে প্রতিক্রিয়া দেখাতে স্বয়ংক্রিয় গাড়ির সময় লাগবে ১ মিলিসেকেন্ড। এতে সড়ক দুর্ঘটনা কমে আসবে।

যানবাহন চালানো

আগামী দিনে স্বয়ংক্রিয় বা দূর নিয়ন্ত্রিত ট্রেন, ডেলিভারি ট্রাক ও প্লেন চালাতেও ফাইভজি একই সুবিধা দেবে।

রোবট দিয়ে অস্ত্রোপচার

শুধু যানবাহন নয়, বিশ্বের অন্য প্রান্ত থেকেও রোবটিক ডিভাইস দিয়ে অস্ত্রোপচার সম্ভব হবে। বিশেষজ্ঞ সার্জনরা রোবট দিয়েই জরুরি অবস্থায় সময় ও দূরত্ব কমাতে পারবেন।

রোবটের কাজ

ফাইভজির কারণে ফ্যাক্টরিতে রোবটের সংখ্যাও বাড়বে। তারা একে অন্যকে নিজেদের কাজ ও স্থান সম্পর্কে জানাতে পারবে। এতে তাদের সক্ষমতা আরও বাড়বে।

ড্রোন দিয়ে কৃষি কাজ

ড্রোনের বহর দিয়ে কৃষি কাজও হবে। দূর নিয়ন্ত্রিত ড্রোন দিয়ে ফসল বাছাই করে তোলা যাবে। সার ও পানি দেওয়াও সম্ভব হবে।

ভিআর গেইমিং

ভিআর হেডসেট পরে রিয়েলটাই খেলা যাবে জনপ্রিয় গেম ফোর্ট নাইট ব্যাটেল ও পাবজি। ল্যাগের কারণে কোনো বাধাও আসবে না। ফাইভজি ব্যবহারে পিসি ও গেমিং কনসোল থেকে সফটওয়্যার সরিয়ে ক্লাউডে রাখা যাবে। ক্লাউড সেবা নিলে, দিতে হবে সাবস্ক্রিপশন ফি। এতে গেমারদের আর দামি ডিভাইস কিনতে হবে না।

এআর

অগমেন্টেড রিয়েলিটি প্রযুক্তিও আরও উন্নত হবে। ফলে ভার্চুয়াল অনেক কিছু আমরা আমাদের আশপাশেই দেখতে পারব।

পণ্য ডেলিভারি

ই-কমার্স ও কুরিয়ার কোম্পানিগুলো ড্রোন দিয়েই পণ্য ডেলিভারি দেবে। আগামী দিনে বাড়ির দরজায় পণ্য নিয়ে হাজির হবে ড্রোন।

আইওটি

স্মার্টহোমে ব্যবহৃত ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি) ডিভাইসগুলো সর্বক্ষণ ফাইভজিতে যুক্ত থাকবে। ল্যাটেন্সি রেট কম বলে এত দিন ফোরজি দিয়ে রিয়েলটাইমে আইওটি ডিভাইসের নিয়ন্ত্রণ সম্ভব ছিল না। এই সমস্যা এড়ানো যাবে ফাইভজিতে। সব আইওটি ডিভাইস নিয়ন্ত্রণ করা যাবে রিয়েল টাইমে।