Joy Jugantor | online newspaper

সোনাতলায় ওয়ারিশহীন বৃদ্ধার নিঃসঙ্গ মৃত্যু, মানবিকতার ছোঁয়ায় শেষ ঠিকানায়

সোনাতলা (বগুড়া) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৭:৫৭, ৬ জানুয়ারি ২০২৬

আপডেট: ১৭:৫৮, ৬ জানুয়ারি ২০২৬

সোনাতলায় ওয়ারিশহীন বৃদ্ধার নিঃসঙ্গ মৃত্যু, মানবিকতার ছোঁয়ায় শেষ ঠিকানায়

সোনাতলায় ওয়ারিশহীন বৃদ্ধার নিঃসঙ্গ মৃত্যু, মানবিকতার ছোঁয়ায় শেষ ঠিকানায়

বগুড়ার সোনাতলা পৌর এলাকার রেলস্টেশন সংলগ্ন একটি পলিথিনের ঝুপড়ি ঘরে ওয়ারিশবিহীন এক বৃদ্ধা নারীর নিথর দেহ দিনভর পড়ে থাকলেও শেষ পর্যন্ত মানবিক মানুষের উদ্যোগে রাতের আঁধারে তার দাফন সম্পন্ন হয়েছে। হৃদয়বিদারক এই ঘটনাটি এলাকাজুড়ে মানবিকতা ও বিবেকের প্রশ্ন নতুন করে সামনে এনেছে।জানা গেছে, রবিবার (৫ জানুয়ারি) সোনাতলা রেলস্টেশন এলাকায় বসবাসরত প্রায় ৬০ বছর বয়সী ভিক্ষুক নারী মালেকা বেগম বার্ধক্য ও প্রচণ্ড শীতের কারণে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি সোনাতলা উপজেলার দিগদাইড় ইউনিয়নের লোহাগাড়া এলাকার মৃত ওসমান আলীর স্ত্রী।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে মালেকা বেগম প্যারালাইসিসে আক্রান্ত ছিলেন। সংসারের বোঝা হয়ে যাওয়ায় প্রায় তিন মাস আগে তার সৎ ছেলেরা রাতের আঁধারে হুইলচেয়ারে করে তাকে সোনাতলা রেলস্টেশন প্লাটফর্মে ফেলে রেখে চলে যায়। এরপর প্লাটফর্মের পাশেই পলিথিনের ঘরে বসবাসরত মিজান নামের এক ব্যক্তি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে তাকে নিজ ঘরে নিয়ে যান। স্ত্রী বানেছা বেগমকে সঙ্গে নিয়ে তিনি টানা তিন মাস ধরে বৃদ্ধাকে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী দেখাশোনা করেন।

রবিবার সকালে প্রচণ্ড শীতে মালেকা বেগমের মৃত্যু হয়। কিন্তু মৃত্যুর পর সারাদিন তার মরদেহ পড়ে থাকলেও স্বজনহীন ওই বৃদ্ধার জন্য কেউ এগিয়ে আসেনি। পাশের পলিথিন ঘরে বসবাসরত আল-আমিন নামের এক ব্যক্তি কাফনের কাপড় কেনার উদ্দেশ্যে দোকানে দোকানে ঘুরে কিছু অর্থ সংগ্রহ করতে সক্ষম হলেও ততক্ষণে দিন গড়িয়ে যায়।বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে স্থানীয় যুবক মনিরুল ইসলাম বুলু ঘটনাটি জানতে পেরে সাংবাদিক আব্দুর রাজ্জাককে অবহিত করেন। খবর পেয়ে তিনি দ্রুত গোসল করানো ও কবর খননের জন্য লোকজন জোগাড়ে নেমে পড়েন। তার আহ্বানে তিন নারীসহ লেবু ও মিলন নামের দুই ব্যক্তি এগিয়ে এসে মরদেহ গোসল করানো ও কবর খননের কাজে অংশ নেন।

একই সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে মানবিক সহায়তার আহ্বান জানিয়ে একটি পোস্ট করা হয়। পোস্টটি নজরে আসে সোনাতলা পৌর এলাকার সামাজিক সংগঠন ‘প্রভাতের আলো তরুণ সংঘ’-এর সদস্যদের। বিষয়টি জানার পর মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই সংগঠনের ১২ থেকে ১৪ জন তরুণ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন এবং দাফনের যাবতীয় কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।অবশেষে রাত সাড়ে ১০টার দিকে সকল ধর্মীয় ও আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে মালেকা বেগমের দাফন সম্পন্ন হয়। নিঃসঙ্গ জীবনের মতো তার মৃত্যুও ছিল নীরব, তবে শেষ যাত্রায় মানবিক মানুষের উপস্থিতিতে তিনি পেলেন সম্মানজনক বিদায়।এ ঘটনায় এলাকাবাসী মানবিক তরুণদের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন এবং ওয়ারিশবিহীন অসহায় মানুষদের প্রতি সমাজ ও রাষ্ট্রের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকার দাবি জানিয়েছেন।