রোববার বেলা ১১টার দিকে নওগাঁ-রাজশাহী আঞ্চলিক মহাসড়কের মহাদেবপুর উপজেলার চৌমাশিয়া বাজারে
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়, নওগাঁর নওহাটায় (চৌমাশিয়া বাজার) স্থাপনের দাবিতে আনন্দ শোভাযাত্রা হয়েছে। রোববার বেলা ১১টার দিকে নওগাঁ-রাজশাহী আঞ্চলিক মহাসড়কের মহাদেবপুর উপজেলার চৌমাশিয়া বাজারে স্থানীয় সামাজিক সংগঠন ‘হেল্প লাইন, হ্যালো নওগাঁ’ এ আয়োজন করে।
এসময় উপজেলার নওহাটা মোড়ে স্থানীয় সচেতন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেনী পেশার দুই শতাধিক মানুষ অংশ নেয়। পরে এক আনন্দ শোভাযাত্রা বের করা হয়।
জানা যায়, ‘বঙ্গবন্ধু পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় নওগাঁ’ স্থাপনের জন্য নওগাঁ শহরের পাশ্ববর্তী দিঘলীর বিল, নিয়ামতপুর উপজেলার ছাতড়ার বিল, মহাদেবপুর উপজেলার নওহাটায় (চৌমাশিয়া বাজার) এবং বদলগাছীর ঐতিহাসিক পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার সংলগ্ন বিল এ চারটি স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে শহরের খুব কাছাকাছি নয়, আবার শহর থেকে খুব দুরে নয়, এমন স্থান নির্বাচন করা যেতে পারে। সেই হিসেবে দিঘলীর বিলে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হলে নওগাঁ শহরের ওপর চাপ বাড়বে। আর ছাতড়ার বিল সীমান্তবর্তী প্রত্যন্ত এলাকা। সেখানে যাতায়াতের যোগাযোগ ব্যবস্থা কষ্টসাধ্য হওয়ায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা আধুনিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি ভোগান্তীতে পড়বেন। তবে কোথায় হবে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়’ তা নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না।
জেলার মহাদেবপুর উপজেলার নওহাটা মোড় বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন যৌক্তিক স্থান বলে মনে করছেন সচেতনরা। এ বাজার বা মোড়টি নওগাঁ-রাজশাহী আঞ্চলিক মহাসড়কে এবং নওগাঁ জেলার মাঝখানে অবস্থিত। জেলা শহর থেকে প্রায় ১৩ কিলোমিটার দুরে। নওহাটা মোড়ের ওপর দিয়ে বিভাগীয় শহর রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় যাওয়া সহ জেলার সাতটি উপজেলায় যাওয়া যায়। এমনকি বগুড়া ও জয়পুরহাট জেলার সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো। দিনরাত যে কোন সময় যে কোন জেলায় আসা-যাওয়া করা যায়। সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী প্রয়াত আব্দুল জলিল স্মৃতি বিজড়িত এলাকায় নওহাটা বাজার বা মোড়। নওহাটা বাজারের পার্শ্বে প্রায় ৩০০ একর খাস জমি আছে। এ জমিগুলো সরকার নিজের হেফাজতে নিয়ে এখানে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করলে সরকারের রাজস্ব খাত থেকে জমি অধিগ্রহণের খরচ অনেকাংশেই কমে যাবে।
জেলার মহাদেবপুর উপজেলার নওহাটা মোড় বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন যৌক্তিক স্থান মনে করে বলিহার ডিগ্রী কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর আবু নাছের বলেন, ‘চৌমাশিয়া বাজারটি শহরের খুব কাছাকাছি নয়, আবার শহর থেকে খুব দুরে নয়। জেলা শহর থেকে প্রায় ১৩ কিলোমিটার দুরে। নওহাটা মোড়ের ওপর দিয়ে বিভাগীয় শহর রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় যাওয়া সহ জেলার সাতটি উপজেলায় যাওয়া যায়। পাশ্ববর্তী সান্তাহার রেলওয়ে স্টেশন রয়েছে। শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুবিধা হবে। নওহাটা বাজারের পার্শ্বে প্রায় ৩০০ একর খাস জমি আছে। এখানে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করলে সরকারের রাজস্ব খাত থেকে জমি অধিগ্রহণের খরচ অনেকাংশেই কমে যাবে।’
নওগাঁ সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ শরিফুল ইসলাম খান বলেন, ‘অষ্টম শতাব্দির পর একবিংশ শতাব্দিতে আমরা একটি বিশ^বিদ্যালয় পেলাম। যা আমাদের জন্য একটি গর্বের বিষয়। সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে এ জেলার ছেলে-মেয়েরা বাহিরের জেলায় গিয়ে পড়াশুনা করাটা সত্যিই কষ্টকর ছিল। এখন থেকে জেলাবাসীর জন্য সুবিধা হবে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা করা যাবে। কৃষি প্রধান এ জেলা ধান, আম ও সবজির জেলা। বিশ^বিদ্যালয়ে এসব নিয়ে গবেষণা করা হলে আর্থসামাজিক দিক দিয়েও এগিয়ে যাবে। বিশ^বিদ্যালয় সভ্যতার মাধ্যমে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক দিক দিয়ে এগিয়ে যাবে। আমাদের আরো বেশি মানোন্নয়ন হবে। একটি বিশ্ববিদ্যালয় অপরিসীম প্রয়োজন আছে। যা অনেক আগেই হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু অনেক পরে হলেও তা হয়েছে।’
এসময় বলিহার ডিগ্রী কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর আবু নাছেরের সভাপতিত্বে ভীমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাম প্রসাদ ভদ্র,
মহাদেবপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি আজাদুল ইসলাম আজাদ, সাধারণ সম্পাদক আজাদ হোসেন মুরাদ ও সংগঠনের সভাপতি একে সাজু, সাংবাদিক এমআর রকি ও সুইট হোসেন এবং ব্যবসায়ি শাহজাহান ইসলাম বক্তব্য রাখেন।
২০১৮ সালে নওগাঁর এক জনসভায় ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটি পূর্ণাঙ্গ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এর চার বছর পর ২০২২ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি নওগাঁয় বঙ্গবন্ধুর নামে একটি বিশ্ববিদ্যালয় আইনের খসরা অনুমোদন প্রদান করে মন্ত্রীসভা। গত ৭ ফেব্রুয়ারি স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধূরীর সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদের ২১তম অধিবেশনে 'বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিশ্বিবিদ্যালয়, নওগাঁ বিল-২০২৩' পাস হয়েছে।
