Joy Jugantor | online newspaper

নওগাঁয় ঘুষ ছাড়া কাজ করেন না ভূমি কর্মকর্তা জিয়া;

জাল খতিয়ানেও খারিজের অভিযোগ

নওগাঁ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৯:৪৯, ১৭ মে ২০২৬

জাল খতিয়ানেও খারিজের অভিযোগ

নওগাঁয় ঘুষ ছাড়া কাজ করেন না ভূমি কর্মকর্তা জিয়া; জাল খতিয়ানেও খারিজের অভিযোগ

নওগাঁ পৌরসভা-চন্ডিপুর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী (ভারপ্রাপ্ত) কর্মকর্তা হাবিবুজ্জামান জিয়ার বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্য, হয়রানি এবং জাল খতিয়ানের মাধ্যমে খারিজ অনুমোদনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, চাহিদামতো ঘুষ না দিলে খাজনা-খারিজের আবেদন বাতিল করা হয় এবং ভূমি-সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবায় ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।জানা যায়, ২০২৪ সালের ২০ আগস্ট পৌরসভা-চন্ডিপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে (ভারপ্রাপ্ত) সহকারী কর্মকর্তা হিসেবে যোগদানের পর থেকেই একটি সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন হাবিবুজ্জামান জিয়া। সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ, ঘুষ ছাড়া কোনো কাজই হয় না এ অফিসে।

টাকা না দিলে দিনের পর দিন ঘুরতে হয়, ফলে বাধ্য হয়ে অনেকেই ঘুষ দিয়ে কাজ করাতে বাধ্য হচ্ছেন।অনুসন্ধানে জানা গেছে, সদর উপজেলার হাঁপানিয়া-বক্তারপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে উপ-সহকারী কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত থাকাকালে ২০১৯ সালের ৭ এপ্রিল অফিস প্রধানের স্বাক্ষর ছাড়াই মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে একটি জাল খতিয়ান তৈরি করে খারিজ অনুমোদন দেন হাবিবুজ্জামান জিয়া। অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট অফিস প্রধানের অনুমোদন ছাড়াই তিনি নিজেই খারিজ কেসে প্রস্তাব দেন, যা সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত।বিষয়টি নিয়ে জমির প্রকৃত মালিক অভিযোগ করলে তৎকালীন ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা জিতেন্দ্র নাথ তদন্ত করে জালিয়াতির তথ্য পান।

তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ৮৮২৯/৯৫ নম্বর দলিলে ৩০৯/৭৫-৭৬ খারিজ কেসের প্রস্তাবিত ২৮/১ খতিয়ানটি কোন হোল্ডিং থেকে করা হয়েছে, তার সঠিক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি হাবিবুজ্জামান জিয়া। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, তার প্রস্তাবিত খারিজি খতিয়ানটি বানোয়াট ও যোগসাজশমূলক বলে প্রতীয়মান হয়। এছাড়া ৮৮২৯ নম্বর দলিল দাতার নামের সঙ্গে এসএ ও আরএস রেকর্ডীয় মালিকের নামের মিলও পাওয়া যায়নি।ভুক্তভোগী খাদেমুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, একই দাগে তার ৭০ শতক এবং একটি মাদ্রাসার ৯০ শতক জমি রয়েছে। খাজনা-খারিজের জন্য গেলে প্রথমে কাজ হবে না বলা হয়। পরে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে গেলে তার কাছে ১০ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করা হয়।

একপর্যায়ে এক লাখ টাকা দিলেও তার জমির খারিজ করা হয়নি। বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ করার পর পরে সেই টাকা ফেরত দেওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি।চকরামচন্দ্র মৌজার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক ভুক্তভোগী জানান, দুই কাঠা জমির খারিজ করতে গিয়ে একটি ভুল দেখিয়ে তার কাছে ৬ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়া হয়। দুই দফায় টাকা দেওয়ার পরও তার আবেদন বাতিল করা হয়। পরে টাকা ফেরত চাইলে নানা টালবাহানা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।তবে সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) হাবিবুজ্জামান জিয়া। জাল খতিয়ানের বিষয়ে তিনি বলেন, “ওটা মীমাংসিত একটি বিষয়। ইতোমধ্যে ডিসিআর কাটাও হয়ে গেছে।”এ বিষয়ে নওগাঁ সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ খায়রুজ্জামান বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেলে তা যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।