Joy Jugantor | online newspaper

বগুড়ায় বাড়িতে ঢুকে হত্যা চেষ্টা: পাঁচদিন পরে মামলা, গ্রেফতার নেই কেউ

নিজস্ব প্রতিবেদক 

প্রকাশিত: ১৮:০৮, ২৩ নভেম্বর ২০২১

আপডেট: ১৮:১৯, ২৩ নভেম্বর ২০২১

বগুড়ায় বাড়িতে ঢুকে হত্যা চেষ্টা: পাঁচদিন পরে মামলা, গ্রেফতার নেই কেউ

প্রতীকী ছবি।

বগুড়ায় দিনদুপুরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা হোসেন আলীর বাড়িতে ঢুকে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করা হয়। এ ঘটনায় পাঁচদিন পরে থানায় মামলা করা হয়। মামলার তিনদিনেও কোনো আসামীকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

হোসেন বগুড়া শহর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব। হামলার শিকার হওয়ার পর গত ২১ নভেম্বর (রোববার) শাজাহানপুর থানায় ১৪ জনকে  আসামী করে মামলা করেন হোসেন।

ঐ মামলায় বগুড়া পৌরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর খোরশেদ আলমকে প্রধান আসামী করা হয়। খোরশেদ ছাড়াও এ মামলার তার দুই ছেলে রাশেদ ও রাকিবকেও অভিযুক্ত করা হয়। এ তিনজনই শাজাহানপুরের বেতগাড়ি এলাকার বাসিন্দা। আহত হোসেন আলীও একই এলাকার বাসিন্দা।

এর আগে গত ১৬ নভেম্বর (মঙ্গলবার) দুপুরে হোসেন আলীকে বাড়িতে হামলা চালিয়ে তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করান। সেখান থেকে তাকে আজ (মঙ্গলবার) বগুড়া ইসলামী হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনোষ্টিক সেন্টারে নেয়া হয়েছে।

হোসেনের করা মামলায় অন্য অভিযুক্তরা হলেন-  বগুড়া শহরের চকফরিদ কলোনী এলাকার রঞ্জন, শাজাহানপুর উপজেলার গণ্ডগ্রামের শফিক, কলোনী চকফরিদ এলাকার বাবু, মেহেদী, শুভ, তারেক ওরফে সুজন, কলোনী এলাকার পিয়াস, শাজাহানপুর বনানী এজাজ হাউজিং এলাকার রাহুল, বেজোড়া এলাকার শাখা, গণ্ডগ্রাম কলের পাড় এলাকার সাব্বির ও রনি।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন দুপুরে হোসেন তার নিজ বাড়ির ওয়াশরুমে গোসল করতে যান। ওই সময় অভিযুক্তরা কয়েকটি মোটরসাইকেরযোগে তার বাড়ির সামনে এসে থামে। এবং মোটর সাইকেল থেকে নেমেই তারা হোসেনের বাড়িতে প্রবেশ করেন। বাড়িতে হইচই শুনে ওয়াশরুম থেকে বের হন হোসেন। এবং ঐ সময়ই হোসেনকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করা করে পালিয়ে যান হামলাকারীরা।

মামলায় আরো বলা হয়েছে, বেতগাড়ী এলাকায় হোসেনের বাড়ির পাশে ইউনিটেক্স এলপি গ্যাস কোম্পানি  জায়গায় মাটি ভরাটের কাজ পান ঐ এলাকার খায়রুল ইসলাম। খায়রুল জাস এন্টারপ্রাইজ নামক প্রতিষ্ঠানের মালিক। খায়রুল মাটি বহন করার জন্য হোসেনের কাছ থেকে তিনটি ট্রাক মৌখিক চুক্তিতে ভাড়া নেন। এই তিনটি ট্রাকের মধ্যে একটির মালিক হোসেন নিজে ও বাকি দুটির মালিক হোসেনর ভাই শহিদুল ইসলাম শহিদ। মাটি ভরাট কাজ চলাকালীন সাবেক কাউন্সিলর খোরশেদসহ অন্য অভিযুক্তরা হোসেনকে কাজ বন্ধ করতে হুমকি দিয়ে আসছিলেন। কারণ ঐ কাজটি (মাটি ভরাট) খোরশেদ করতে চেয়েছিলেন।  কিন্তু হোসেন সাবেক কাউন্সিলরের হুমকিতে ভয় না পেয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন। পরে ১৬ নভেম্বর হত্যার উদ্দেশ্যে তার ওপর হামলা করা হয়।

আহত হোসেন আলী জানান, ‘আমার ওপর হামলার প্রায় দশদিন আগে বেতগাড়ী বাইপাস বন্দর কমিটি গঠন করা হয়। ঐ কমিটিকে আমাকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। আর মতিউর রহমান পিন্টু নামে একজনকে সভাপতি করা হয়। এর আগে এই কমিটির সভাপতি ছিলেন সাবেক কাউন্সিলর খোরশেদ। নতুন কমিটিতে সভাপতি হতে না পেরে তিনি  (খোরশেদ) আমার ওপর ক্ষুদ্ধ ছিলেন। এদিকে কলোনীর রঞ্জন গ্রুপের সঙ্গে তার উঠাবসা ছিল। খোরশেদ ও রঞ্জন মিলে মাটি ভরাটের কাজ করতে চেয়েছিলেন।  বন্দর কমিটিতে পদ ও  মাটি ভরাটের কাজ না পেয়ে খোরশেদ আমার ওপর হামলা চালান। কিন্তু মাটি ভরাটের কাজ সম্পর্কে আমি কিচ্ছু জানি না। আমরা শুধু ট্রাক ভাড়া দিয়েছি। আমি মাটি-বালুর ব্যবসাও করি না।’

জানতে চাইলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাজাহানপুর কৈগাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক (ইনচার্জ) মো. সৈকত হাসান মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বলেন, আমরা এখন পর্যন্ত কোনো আসামীকে গ্রেফতার করতে পারিনি। তবে গ্রেপতার অভিযান অব্যাহত আছে।